প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:২০ পিএম
খেলা ছাড়ার পর থেকেই এনায়েত উল্লাহ
খান এখন পুরোপুরি শাটলার তৈরির কারিগর। জাতীয় এবং র্যাংকিং টুর্নামেন্ট মিলিয়ে পাঁচবারের
সাবেক এই চ্যাম্পিয়ন অবশ্য একা নন, সপরিবারেই কোচিংয়ের নেশায় নিমজ্জিত! তার সঙ্গী
স্ত্রী এলিনা সুলতানাও জাতীয় এবং র্যাংকিং টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ১৪ বারের সাবেক চ্যাম্পিয়ন।
ওয়ার্ল্ড ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের লেভেল-২ সার্টিফায়েড দুই কোচ এবার জুটি বেঁধে এমন
এক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে নামছেন যেটি বাংলাদেশেই হতে যাচ্ছে এই প্রথম। ট্যালেন্ট
স্পোর্টস লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘ব্যাডমিন্টন বাংলাদেশ’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় দেশজুড়ে
প্রথমবারের মতো একযোগে হতে যাওয়া খুদে ব্যাডমিন্টন প্রতিভা বাছাইয়ে তাদের সহযোগী
হবেন আরও একঝাঁক দক্ষ এবং প্রতিশ্রুতিশীল কোচ। বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ এবং জেলা
শহরে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এই আয়োজন শুরু হতে যাচ্ছে।
এই উদ্যোগের বিশেষত্ব তুলে ধরে এনায়েত
বলেন, ‘দেশে এর আগেও যে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি হয়নি, তা নয়। তবে সেগুলো হয়েছে
ছোট পরিসরে। ব্যাডমিন্টন বাংলাদেশই প্রথম, যারা ৮টি বিভাগ এবং ৬৪ জেলাতে পর্যায়ক্রমে
খুদে প্রতিভার সন্ধান করার কাজে হাত দিতে যাচ্ছে।’ মূলত দুটি বয়স শ্রেণিতে প্রতিভাবান
শাটলার খুঁজে নেওয়া হবে টুর্নামেন্টের মাধ্যমে। অনূর্ধ-১৪ গ্রুপে অংশ নিতে পারবে ৬
থেকে ১৪ বছর বয়সীরা। আর ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের জন্য থাকছে অনূর্ধ-১৯ গ্রুপ। এই দুই
বয়স গ্রুপের প্রতিযোগীদের মোবাইল আসক্তি থেকে বের করে আনাও এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এজন্য ঠিক করা হয়েছে স্লোগানও, ‘মোবাইল ফেলে ব্যাডমিন্টন কোর্টে চলো’।
দুই বয়স শ্রেণিতে
একক খেলা পদ্ধতিতে টুর্নামেন্ট পরিচালিত হবে। টুর্নামেন্ট শেষে বাছাই করা খেলোয়াড়দের
নিয়ে আসা হবে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের আওতায়। সেই প্রশিক্ষণ কত দিন ধরে চলবে, সে বিষয়ে
এনায়েত বলেন, ‘আমাদের এই আয়োজন চলতেই থাকবে। প্রতি বছর জানুয়ারিতে আমরা টুর্নামেন্ট
করবো। এক টুর্নামেন্ট শেষে পরের আসর শুরু পর্যন্ত আমাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচী চলবে।
বলতে পারেন, বাছাই হওয়া প্রতিভাবানরা আমাদের প্রশিক্ষণের ছায়ায় থাকবে প্রায় বছরখানেক।’
বাছাই করা প্রতিভাবানদের মধ্য থেকে যারা দেশসেরা হবে, তাদের পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে
জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টেও অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
নিজেদের আয়োজনে ব্যাডমিন্টন বাংলাদেশ ছোটদের পাশাপাশি নিরাশ করছে না বড়দেরও। অনূর্ধ-৪৫ (২০-৪৫ বছর) এবং ঊর্ধ্ব-৪৫ (৪৫-৭৫ বছর) বয়স শ্রেণিতে বড়রাও দ্বৈত খেলা পদ্ধতির মাধ্যমে খেলার সুযোাগ পাবেন।

টুর্নামেন্টে
অংশ নিতে সব বয়স শ্রেণির খেলোয়াড়দের অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া অবশ্য একই। জন্ম নিবন্ধন
বা জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী
টুর্নামেন্টের ওয়েবসাইটে (www.badmintonbangladesh.com) প্রতিযোগীর ঠিকানা
উল্লেখ করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য ১ হাজার টাকা এন্ট্রি ফি পরিশোধ
করতে হবে অনলাইনে। প্রতিটি জেলায় সর্বোচ্চ ৫০ প্রতিযোগী রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
রেজিস্ট্রেশন করা যাবে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। চারটি বয়স শ্রেণিতে ৩ লাখ টাকার
অর্থ পুরস্কারের পাশাপাশি সার্টিফিকেট, ক্রেস্টসহ থাকছে নানা উপহারও।
আরকে/প্রবা