বিমানবন্দরে উষ্ণ সংবর্ধনা পেল হকি দল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:১৫ পিএম
ভারতে
অনুষ্ঠিত অনুর্ধ-২১ বিশ্বকাপ হকিতে সাফল্য পেয়ে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল।
ঢাকার বিমানবন্দরে নামতেই আমিরুল-রকিবুলদের উষ্ণ সংবর্ধনা মিলেছে। সাবেক খেলোয়াড় থেকে
শুরু করে কর্মকর্তা অনেকেই তাদের সেখানে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। 
দলটার
এমন ফল ছিল অপ্রত্যাশিত। আসরে ১৭তম হয়ে প্রথমবারের মতো চ্যালেঞ্জার্স ট্রফি জিতে সবাইকে
চমকে দিয়েছে তারা। অংশগ্রহণকারী দলগুলোরও দৃষ্টি কেড়েছে। এখন শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা।
বিশ্বকাপে ১৮ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা আমিরুল ইসলাম চাইছেন নিয়মিত খেলাটা যেন মাঠে
থাকে। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের আমিরুল বলেন, ‘আমাদের যে টার্গেট ছিল সেটা পরিপূর্ণ
করে এসেছি। যদি খেলাটা রেগুলার থাকে, তাহলে আপনারা দেখবেন আমাদের পারফরম্যান্স আরও
শক্ত হবে এবং ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালো রেজাল্ট আনবো। আমাদের লিগটাকে সবচেয়ে বেশি জোর
দেবো, কারণ লিগের কোনও বিকল্প নেই। এই প্রিমিয়ার লিগ, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, এই টুর্নামেন্টগুলো
যখন হবে, বিদেশি যারা বা টপ লেভেলের প্লেয়াররা আসবে, তখন তাদের থেকে আমরা নতুন নতুন
জিনিস শিখতে পারবো এবং সেক্ষেত্রে দেখবেন যে আমাদের দেশের প্লেয়ারদের খেলার মানটা
উন্নত হবে।’ 
বাংলাদেশের
ডাচ কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যান বলেন, ‘ছেলেরা অসাধারণ খেলেছে। সবচেয়ে ভালো দিক হলো—তারা
পুরোপুরি দল হিসেবে খেলেছে। সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছে, কেউ নিজের জন্য খেলেনি। তারা
শুধু দলের ফলের জন্য খেলেছে। আমরা সবাই মিলে আক্রমণ করেছি, সবাই মিলে রক্ষণ করেছি।
যদি কেউ কিছু করতে না পারে, অন্যরা তার কঠিন কাজটা করে দিয়েছে।’
এই
দলের বৈশিষ্ট্য নিয়ে কোচ বলেছেন, ‘এখন সবাই আমিরুলকে নিয়ে কথা বলছে, কিন্তু অনেকে ভুলে
যাচ্ছে রকি কতগুলো পেনাল্টি কর্নার আর স্ট্রোক বের করেছে। অন্যান্য খেলোয়াড়রাও পিসি
আদায় করেছে। আমাদের দলে ইনজেক্টর, স্টপার, ফ্লিকার আছে এবং সবাই মিলে ভালো করেছে। এটা
কোনও একজনের কৃতিত্ব নয়, পুরো দলের ফল। আমার মনে হয় এটাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে।
অনেক দিন পর বাংলাদেশ হকি সত্যিকারের একটি পরিবার হয়ে খেলেছে। আগে হলে তারা একে অপরকে
দোষ দিতো, চেঁচামেচি করতো। এবার তারা একে অপরকে সাহায্য করেছে, সাপোর্ট করেছে। আমার
মনে হয়, এটাই মূল বিষয়।’
এই
সাফল্য ধরে রাখা নিয়ে ডাচ কোচ বলেছেন, ‘‘তারা শুধু চ্যালেঞ্জ কাপ জেতেনি, পুরো বিশ্বকে
চমকে দিয়েছে। টুর্নামেন্টে থাকা সব দলই বাংলাদেশের কথা বলছিল। কারণ মাঠে এনার্জি ছিল
অসাধারণ। হঠাৎ করেই সবাই বাংলাদেশকে চিনেছে। আগে খুব একটা জানতো না, এখন জানে। আর আমাদের
খেলোয়াড়দের তারা ভালোবেসেছে। তারা খেলোয়াড়দের খুঁজেছে, জিজ্ঞেস করেছে—‘তোমাদের
রহস্য কী?’ শিখতে চাচ্ছে। এমনটা আগে কখনো হয়নি। বড় বড় দেশও জানতে চাইছে—বাংলাদেশের
খেলোয়াড়রা কীভাবে এটা করলো।’
উল্লেখ্য,
পাকিস্তান নাম প্রত্যাহার করায় অনুর্ধ-২১ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ।
দেশে নেমেই হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসানকে সংবর্ধনা কবে এমন প্রশ্নের
মুখে পড়তে হয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘আমিরুলকে ১৫ তারিখে একটা
সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ওখানে হয়তো পরিষ্কার ঘোষণা করা হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে জেনারেল
সেক্রেটারি হিসেবে অপেক্ষায় আছি মিনিস্ট্রি অব ইয়ুথ অ্যান্ড স্পোর্টস আমাদেরকে কী জানায়
বা এনএসসি আমাদেরকে কী জানায়। যেহেতু এখন উপদেষ্টা (আসিফ মাহমুদের পদত্যাগ) মহোদয় নাই,
তো ওনার কাছে তো আর অ্যাপ্রোচ করতে পারি না, আমরা সচিব মহোদয়ের কাছে অ্যাপ্রোচ করব
আরকি যে আপনি এগিয়ে আসেন, আমরাও কিছুটা এগিয়ে আসি।'
রিয়াজুল
আর বলেন, 'প্রত্যেকটা হকি প্লেয়ারেরই চাহিদা তো (লিগ মাঠে গড়ানো)। আপনারা জানেন আমরা
প্রায় তিন মাস আগে একটা মিটিং করছিলাম ফার্স্ট ডিভিশন ক্লাবদেরকে ডেকে। যে আমরা লিগটা
শুরু করতে চাই, কারণ লিগ তো আমরা খেলব না, লিগ ওনারা খেলবে। ওনারা আমাদেরকে জানালো
যে ওনাদের এখন টাকা পয়সার খুব অভাব আছে। ওনারা পারছে না টাকা পয়সা জোগাড় করতে। তিন
থেকে চার মাস করে সময় চেয়েছিল। এই ডিসেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত সময় চাইছিল। আমরা এই
মাসেই, এই ডিসেম্বর মাসেই আমরা একটা চিঠি দিব, আবার ফার্স্ট ডিভিশন, আমরা ফার্স্ট ডিভিশন
কি দিব যে আপনারা আসেন, মিটিং করি, আমরা ক্লাব লিগটা শুরু করে দিতে চাই। কেন লিগ ক্লাব
খেলবে। এবং প্লেয়ার ক্লাব থেকে আসবে। এটা বেশি আমার কিছু বলার নাই।'
হকিতে আর্থিক সংকট ব্যাপক। পৃষ্ঠপোষকতা তেমন থাকে না। জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে এমন অর্জনের পর ফেডারেশন এটাকে কাজে লাগাতে চায়, রিয়াজুল বলেন, 'সত্যি কথা বললে, এটাকে এখন কাজে লাগাতে হবে। আমাদের পৃষ্ঠপোষকের খুব অভাব। আশা করি অনেক কর্পোরেশন আছে, ব্যাংক আছে, যারা হয়তোবা এরকম একটা রেজাল্টের অপেক্ষায় ছিলেন। আমরা কিছু কিছু জায়গায় আলাপ অলরেডি শুরু করছি। এটা একটা প্রজেক্টে যেতে হবে। আশা করি হয়তো জানুয়ারি মাসের মধ্যে আমাদের হয়তো একটা পাবো। আমি আপনাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে অনেক ভালো প্লেয়ার বের হবে।'
আরকে/প্রবা