ভারতবধের পুরস্কার
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:০৬ পিএম
দীর্ঘ
২২ বছর পর ভারতকে হারানোর ঐতিহাসিক অর্জনের স্বীকৃতি অবশেষে বুঝে পেল বাংলাদেশ জাতীয়
ফুটবল দল। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে জাতীয় ফুটবল দলের প্রতিনিধি দলের হাতে প্রতিশ্রুত ২ কোটি টাকা তুলে দেওয়া হয়।
জাতীয়
ক্রীড়া পরিষদ ভবনে সংস্থার পরিচালক প্রশিক্ষণ লাবণী চাকমার কাছ থেকে চেক গ্রহণ করেন
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, ম্যানেজার আমের খান ও বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান
হোসেন তুষার। ভারতের বিপক্ষে স্কোয়াডে থাকা ২৩ ফুটবলার, হেড কোচ জাভিয়ের ক্যাবরেরা,
ম্যানেজার আমের ৭ লাখ করে এবং কোচিং স্টাফের অন্য পাঁচ সদস্য ৫ লাখ টাকা করে পেয়েছেন।
মোট পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ ঘোষিত ২ কোটি টাকার চেয়ে ১০ লাখ টাকা বেশি।
গত
১৮ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের
মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে শেখ মোরসালিনের দুর্দান্ত এক গোলে ১-০ ব্যবধানে
জয় পায় স্বাগতিকরা। ২০০৩ সালের সাফ গেমসের পর ভারতের বিপক্ষে এটিই ছিল লাল-সবুজ বাহিনীর
প্রথম জয়।
এশিয়ান
কাপে মূল পর্বে উঠতে ব্যর্থ হলেও এই জয়ের পরই ক্রীড়া উপদেষ্টা এই জয়ের পরপরই মাঠে উপস্থিত
হয়ে জাতীয় দলের জন্য ২ কোটি টাকার অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন
ও প্রতিক্রিয়া বুধবার মন্ত্রণালয়ে সেই ঘোষণারই আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন হলো ২২ দিন পর।
পুরস্কার
বুঝে পেয়ে জাতীয় দলের ম্যানেজার আমের খান বলেন, ‘পুরস্কার পাওয়ায় ছেলেরা আরও উজ্জীবিত।
ভারতের বিপক্ষে জয়ের আনন্দ আজ পূর্ণতা পেল।’ আমের খান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে পুরস্কার
পাওয়া ৩০ জনের নামের অর্থের চেক গ্রহণ করেছেন।
পুরস্কারের
জন্য বাফুফে থেকে ৪০ জনের একটি তালিকা দিয়েছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে। সেখান থেকে ভারতের
ম্যাচের স্কোয়াডের ২৩ ফুটবলার ও ৭ জনের নামে চেক তৈরি করেছে ক্রীড়া পরিষদ। মিডিয়া ম্যানেজার,
ফিজিও, ডাক্তার, টিম অ্যাটেন্ডেন্টকে পুরস্কারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে
সবার মন খারাপ টিম অ্যাটেন্ডেন্ট মহসিনকে পুরস্কারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায়। দলের
সাথে সার্বক্ষণিক কাজ করা মহসিনের পুরস্কারের অর্থ না পাওয়াকে হতাশাজনক হিসেবে উল্লেখ
করেছেন সবাই।
বাংলাদেশ
দলের অন্যতম অংশ টিম অ্যাটেনডেন্ট মো. মহসীন। ২০০৩ সালে সাফের সেমিফাইনালে ভারত বধের
ম্যাচেও তিনি ছিলেন দলের সঙ্গে। ২২ বছর পরের জয়েও তিনি ছিলেন। দলের নিবেদিত প্রাণ এবং
স্বল্প আয়ের মহসীন আর্থিক পুরস্কার পাননি। শুধু তিনি নন, দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ
ব্যক্তি ভিডিও অ্যানালিস্ট নাসিফ ইসলামও টাকা পাননি। ভিডিও অ্যানালিস্টের তথ্য-উপাত্তের
ভিত্তিতেই কোচ পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণ করেন। টিম অ্যাটেনডেন্ট, ভিডিও অ্যানালিস্টের
পাশাপাশি মিডিয়া ম্যানেজার ও টিম ডাক্তারও এই পুরস্কারের তালিকায় নেই। 
ম্যানেজার
আমের এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ফেডারেশন থেকে ৪০ জনের তালিকা দেওয়া হয়েছিল। ভারত ম্যাচের আগে
ইব্রাহিমসহ আরও কয়েকজন ক্যাম্পে ছিল, তাদের নামও ছিল। কারণ তারা দলের অংশ। আমরা আজ
এনএসসিতে ৩০ জনের চেক পেয়েছি।’ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম
বোনাস বন্টন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, ‘যারা ভারত ম্যাচের দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত
এবং অবদান রেখেছে তাদেরকেই মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকরা বিবেচনা করেছে।’
আরকে/প্রবা