চতুর্থ স্তরের দল এনে হাজার টাকার টিকিট—প্রতারিত দর্শকদের ক্ষোভ চরমে
রুমেল খান
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৫৭ পিএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:১০ পিএম
গুগল ফরমে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি চেয়ে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। মিডিয়া কর্মীরা তা যথাযথভাবে পূরন করেও ছিলেন। কিন্তু শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ক্রীড়া সাংবাদিকদের সরবরাহ করা (নির্ধারিত সময়ের ১ ঘণ্টা পরে কার্ড দেওয়া হয়) অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডে কারো কোন ছবি নেই। মিডিয়া হাউজের নাম দূরে থাক, কারো নামও নেই। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কর্মীদের দূর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ সাংবাদিকরা। প্রেসবক্সে ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায়নি। এসিও দীর্ঘক্ষণ ছিল বন্ধ। বাথরুমে পানি নেই। খেলোয়াড় তালিকা দেওয়া হয়নি। চরম অব্যবস্থাপনা আর বিশৃংখলার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে লাতিন-বাংলা সুপার কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের।
আর্জেন্টিনা ও
ব্রাজিলের দুই ক্লাবকে এনে ঢাকায় ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের আয়োজন করছেন পেশাদার বক্সিং সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান। যার পোশাকি নাম দিয়েছেন এএফবি লাতিন-বাংলা সুপার কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। কিন্তু একজন বক্সার হয়ে দুই লাতিন দেশের ক্লাবদের ঢাকায় আনলেও পেশাদারিত্বের ছিটেফোঁটাও ছিল না। মিডিয়া কর্মীদের কাছ থেকে যাবতীয় সবকিছু দিয়ে ফরম সংগ্রহ করলেও নাম-ছবিহীন একটি ফটোকপি খালি কার্ড দেওয়া হয়। যা হাস্যরস ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, ফুটবল টুর্নামেন্টের
নামে তিনি আসলে ‘ধান্ধাবাজি’ করে প্রচুর অর্থ কামাতে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছেন।
অথচ সেখানেও কোন পেশাদারিত্ব দেখাতে পারেননি!
আগের দিন আয়োজিত
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান বড় গলায় বলেছিলেন লাতিন-বাংলা সুপার কাপের সব খেলা সরাসরি
সম্প্রচার করা হবে টি-স্পোর্টসে। কিন্তু শুক্রবার খেলার সময় তার কথার সত্যতা পাওয়া
যায়নি! শেষ পর্যন্ত খেলাটি লাইভ দেখানো হয় একটি ইউটিউব চ্যানেলে, তাও আবার ১৫ সেকেন্ড
দেরিতে। অনেকেই বলেছেন, এমনটা করা হলে জুয়া বা বেটিং এর সমূহ সম্ভাবনা থাকে এই ম্যাচকে
ঘিরে!
মাঠে অ্যাম্বুলেন্স
ছিল না। ফলে খেলোয়াড় গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার মতো ব্যবস্থাই রাখা
হয়নি। এছাড়া মাঠে খেলোয়াড় আহত হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থাও রাখা
হয়নি!
এখানেই শেষ নয়।
খেলা দেখতে আসা দর্শকদের সঙ্গেও বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে আয়োজকরা। টিকেট থাকার পরেও তাদের
ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। যখন ঢুকতে দেওয়া হয়, তখন ম্যাচের প্রায় অর্ধেকটা শেষ! এছাড়া
অনেকেই টিকেট সংগ্রহ করতে গিয়েও পাননি। বলা হয়, টিকেট শেষ। অথচ স্টেডিয়ামের গ্যালারির
তিনভাগের দুই ভাগ আসনই ছিল শূন্য! এমন অব্যবস্থাপনায় দর্শকরা স্টেডিয়ামের বাইরের চত্ত্বরে
বিশাল মিছিল করেছেন। তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন, ফেটে পড়েছেন প্রতিবাদে। স্লোগান দিয়েছেন,
‘টিকেট নিয়ে সিন্ডিকেট, চলবে না চলবে না!’
কিছু দর্শকদের
সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, তাদের ধারণা নেই এই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের
কোন মানের বা কোন পর্যায়ের দল এসেছে। কারোর ধারণা এই দুই দেশের কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগের
ক্লাব এসেছে (প্রকৃতপক্ষে দলগুলো দেশের পাড়া-মহল্লার ক্লাব, চতুর্থ স্তরের ক্লাব)।
দর্শকরা জানান,
তারা জানতেন না যে গ্যালারির টিকেটের মূল্য এত বেশি (এক হাজার টাকা) হবে। যদি এই দুই
দেশের ক্লাবগুলো উচুঁমানের হতো কিংবা তারকাসমৃদ্ধ কোন ফুটবলারের ক্লাব হতো, তাহলে এত
উচ্চমূল্যের টিকেটের বিষয়টি মানা যেত।
সবমিলিয়ে লাতিন-বাংলার এই টুর্নামেন্টের নামে প্রথম দিনে চরম অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশৃংখলা ছিল জাতীয় স্টেডিয়ামজুড়ে, যা থেকে রেহাই পাননি সাধারণ দর্শক থেকে ক্রীড়া সাংবাদিকরা পর্যন্ত!
উদ্বোধনী দিনের ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশের রেড এ্যান্ড গ্রিন ফিউচার স্টারকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করে ব্রাজিলের সাও বার্নার্দো ফুটবল ক্লাব।
আরকে/প্রবা