প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:২৪ পিএম
ক্রমাগত চোটে ভোগা নেইমারের মাঠে নামাটাই যেখানে এখন বড় খবর, সেখানে খেলার মান বা পারফরম্যান্স প্রায়ই গৌণ হয়ে যায়। তবে আজ( বৃহস্পতিবার) ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে জুভেন্তুদর বিপক্ষে যেন নিজের সুদিনের আভাসই ফিরিয়ে আনলেন সান্তোস তারকা। সান্তোসের ৩–০ গোলের জয়ে তিন গোলই এসেছে নেইমারের পা থেকে অর্থাৎ তিনি করলেন দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক। বিরতির পর ৫৬, ৬৫ ও ৭৩ মিনিটে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি গোল করেন তিনি; শেষ গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। সেই সাথে নেইমার সান্তোসের হয়ে ১৫০তম গোল করেছেন। এবং ক্লাব ইতিহাসের গোলের দিক দিয়ে ১১তম খেলোয়াড়।
২০২২ সালের ৯ এপ্রিল
ক্লেঁয়ারমন্তের বিপক্ষে পিএসজির হয়ে হ্যাটট্রিকের পর এটিই নেইমারের প্রথম তিন গোলের
ইনিংস। সময়ের হিসেবে প্রায় তিন বছর সাত মাস ২৫ দিন কিংবা ১৩৩৫ দিন পর হ্যাটট্রিকের
দেখা পেলেন ৩৩ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
বাঁ হাঁটুর মেনিসকাসে
চোটের কারণে চলতি মৌসুমে নেইমারের মাঠে নামাই অনিশ্চিত ছিল। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম
জানায়, সিরি আ-তে সান্তোসের বাকি তিন ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে না। কিন্তু দলকে অবনমন-সঙ্কট
থেকে উদ্ধার করতে নেইমার নিজেই সিদ্ধান্ত নেন চোট নিয়েই মাঠে নামার। গত ২৯ নভেম্বর
স্পোর্টের বিপক্ষেও একইভাবে খেলেছিলেন তিনি; গোল করার পাশাপাশি একটি গোল করানও।
নেইমারের প্রত্যাবর্তনের
পর সান্তোস টানা দুই ম্যাচ জিতে অবনমন অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবধান বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ৩৭
ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন লিগ টেবিলের ১৪তম স্থানে। ১৭তম স্থানে থাকা ভিতোরিয়ার
চেয়ে সান্তোস এগিয়ে আছে ২ পয়েন্টে। আগামী রোববার ক্রুজেইরোর বিপক্ষে মৌসুমের শেষ ম্যাচে
জিততে পারলে প্রথম বিভাগে টিকে থাকা নিশ্চিত হবে তাদের।
ব্রাজিলের গণমাধ্যম
‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, জুভেন্তুদর বিপক্ষেও নেইমার খেলেছেন
ব্যথা নিয়েই। বাঁ হাঁটুর সুরক্ষামূলক বন্ধনী পরে মাঠে নামেন তিনি। সামনে আছে আরও বড়
চ্যালেঞ্জ জাতীয় দলে ফেরার লড়াই। ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বশেষ
তিনি খেলেছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে, সেই ম্যাচেই এসিএল ইনজুরিতে পড়েন। এরপর চলতি মৌসুমে
আরও চারবার চোটে পড়ে নিয়মিত খেলার বাইরে রয়েছেন। মার্চে প্রীতি ম্যাচের পরই বিশ্বকাপ
স্কোয়াড ঘোষণা করবেন কোচ কার্লো আনচেলোত্তি, তাই এর মধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করতে চান
নেইমার।
৩১ ডিসেম্বর সান্তোসের সঙ্গে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েই বিশ্বকাপে ফেরার আশা করছেন তিনি। চোটযুদ্ধ জয়ের প্রত্যয় জানিয়ে নেইমার বলেন, “মাঠে থাকতে আমি সব সময়ই সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। নিজের স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়েও দেখি, তবু চোট বারবার ফিরে আসে। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর লড়াই করছি। আবার পুরোপুরি ফিরতে চাই, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”