প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৪ পিএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৮ পিএম
আন্তর্জাতিক
হকিতে ওমান ও বাংলাদেশের লড়াই সাধারণত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে থাকে। কিন্তু বৃহস্পতিবারের (৪ ডিসেম্বর) চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। লাল-সবুজ বাহিনীর জন্য দিনটা ছিল ‘বৃহস্পতি তুঙ্গে’! ভারতের
মাদুরাই ইন্টারন্যাশনাল হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকে শেষ বাঁশি পর্যন্ত
পুরোটা সময় আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে তারা। আমিরুল ইসলাম ও রাকিবুল হাসান রকির দুর্দান্ত
নৈপুণ্যে বাংলাদেশ অনুর্ধ-২১ জাতীয় হকি দল ওমানের বিরুদ্ধে স্থান নির্ধারণী
ম্যাচে ১৩–০ গোলের রেকর্ড জয়ে মাঠ ছাড়ে। এটি চলমান এফআইএইচ
জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। ডাচ কোচ সিগফ্রাইড
আইকম্যানের অধীনে দলের গতি, পাসের নির্ভুলতা এবং পেনাল্টি কর্নার (পিসি) থেকে গোল আদায়ের
দক্ষতায় স্পষ্ট উন্নতির ছাপ দেখা গেছে।
আমিরুল
ছিলেন অপ্রতিরোধ্য—তিনি পাঁচ গোল করেন, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর টুর্নামেন্টের
তৃতীয় হ্যাটট্রিক। এই পারফরম্যান্সে তিনি স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ব্রুনো অ্যাভিলার আট গোলকে
পেছনে ফেলে চার ম্যাচে নিজের গোলসংখ্যা দাঁড় করান ১২-তে, যা চলতি আসরে সর্বোচ্চ। এদিকে
রাকিবুল ওপেন প্লে থেকে তিনটি গোল করে বাংলাদেশের আক্রমণাত্মক আধিপত্যে দারুণ ভূমিকা
রাখেন। রাকিবুল হ্যাটট্রিক করে হন ম্যাচসেরা।
এই
জোরালো জয়ে বাংলাদেশ শুধু প্রথম জয়ই পায়নি—সঙ্গে নিশ্চিত করেছে ২৪ দলের মধ্যে ১৭–২০তম
অবস্থানের লড়াই। 
অস্ট্রেলিয়া
(সাবেক চ্যাম্পিয়ন) এবং ফ্রান্স (বর্তমান রানার্সআপ)–এর
বিপক্ষে দাপুটে লড়াই এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ড্র করে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী
ছিল লাল–সবুজের
যুবারা। ওমানের বিপক্ষে শুরু থেকেই একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল বাংলাদেশ। শুরুর সাত মিনিটে
তিনটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও বাংলাদেশ গোল করতে পারেনি। কিন্তু একবার গোলের দেখা পাওয়ার
পর ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় লাল–সবুজরা।
২০১৪
এএইচএফ জুনিয়র এশিয়া কাপে ৭–০ গোলের স্মরণীয় জয়টির কথাই যেন মনে করিয়ে দেয় এ
ম্যাচ। এ জয়ে ২০১৪ সাল থেকে ওমানের বিপক্ষে সাত ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডও আরও দীর্ঘ
হলো।
১১,
১৫ এবং ১৫ মিনিটে তিনটি পরপর পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ম্যাচের সুর বেঁধে দেন আমিরুল।
এরপর ১৯ ও ২৫ মিনিটে ওপেন প্লে থেকে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়ান রাকিবুল। বিরতির পর
রাকিবুল সম্পন্ন করেন হ্যাটট্রিক, আর আমিরুল যোগ করেন আরও দুটি গোল। এ ছাড়া মোহাম্মদ
আব্দুল্লাহ ও মোহাম্মদ সজু দুটি করে গোল করেন এবং ওবায়দুল জয় একটি গোল করে বাংলাদেশের
গোলঝড়ে পূর্ণতা দেন। 
বিরতিতে
যাওয়ার সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ, গতি, দখল—সবই ছিল বাংলাদেশের হাতে। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ
আরও বিধ্বংসী। শুধু জয় নয়—এটি ছিল এক দাপুটে বার্তা। গতি, কাঠামো, নিখুঁত
ফিনিশিং—সবকিছুতে
বাংলাদেশ ছিল অতুলনীয়।
আগামী
৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে চীন ও কানাডার মধ্যকার সন্ধ্যার ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে,
মাদুরাই আন্তর্জাতিক হকি স্টেডিয়ামেই।
প্রতিপক্ষ বিবেচনায় জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে গ্রুপ
পর্ব খুব খারাপ কাটেনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২১ দলের। তিন ম্যাচের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে
ড্র করেছে সিগফ্রিড আইকম্যানের দল। অন্য দুই ম্যাচের একটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরেছে
৫-৩ গোলে এবং আরেকটিতে ফ্রান্সের কাছে ৩–২ গোলে হেরেছে। 
এক
ড্র, দুই হারে গ্রুপে তৃতীয় হয়েছে বাংলাদেশ—সব গ্রুপ মিলিয়ে ষষ্ঠ সেরা তৃতীয় দল। এর ফলে বাংলাদেশের
বর্তমান লড়াইটা ১৭ থেকে ২৫ স্থান নির্ধারণীর। যেখানে প্রথম ম্যাচে ওমানকে হারিয়ে স্থান
নির্ধারণী সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। সেরা চারের বাধা পেরিয়ে ফাইনালেও জিতলে
১৭তম হবে তারা।
আরকে/প্রবা