প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৫৩ এএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৯ পিএম

নিউইয়র্কের
বিরুদ্ধে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছে মায়ামি। করেছে ৫ গোল। কিন্তু বিস্ময়করভাবে এর একটিও
আসেনি আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর মেসির পা থেকে! কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না তার।
দল তো জিতেছে, এটাই তো সবচেয়ে বড় পুরস্কার, বড় অর্জন।
কিন্তু
তারপরও ঠিকই ব্যক্তিগত একটি প্রাপ্তি ঠিকই হয়েছে মেসির। তাও আবার সেটা রীতিমতো
বিশ্বরেকর্ড। রেকর্ডটা অবশ্য আগে থেকেই তার নামের পাশে ছিল, তবে যৌথভাবে। শনিবার
সেটা তার একার হয়ে গেল। আর সেটা তার দীর্ঘ
ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক। প্রথমবারের মতো এককভাবে ফুটবল
ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টকারী হিসেবে স্বীকৃতি। কারণ, মেসির ক্যারিয়ারে মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা
হয়েছে ৪০৫। এই মুহূর্তে
তাঁর সামনে আর নেই কেউ;
১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে খেলেছিলেন
ফেরেঙ্ক পুসকাস। দীর্ঘকাল
ধরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মালিক ছিলেন (৪০৪)। শনিবারের সেই একটি অ্যাসিস্ট
মেসিকে ওই ৪০৪ থেকে
এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে, এবং
তিনিই এখন‘এ্যাসিস্ট কিং’।
বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে-মেসি ছাড়া এখন যারা খেলছেন, তাদের কারোরই এ্যাসিস্টসংখ্যা
৩৫০টিও হয়নি! এমনকি মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সর্বোচ্চ এ্যাসিস্টের তালিকার সেরা ১০-এও নেই!
এটাই প্রমাণ করে এই পরিসংখ্যান
শুধু একটি সংখ্যা নয়;
মেসি শুধুই একজন ফিনিশার নন
— তিনি সতীর্থদের দিয়ে ফিনিশ করাতেও
পারঙ্গম। তিনি ‘গেম মেকার’, যার
পায়ে বল মানে প্রতিপক্ষের মনে ভয়। মেসির এ্যাসিস্ট থেকে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন তার বার্সেলোনা ও ইন্টার মায়ামি সতীর্থ-বন্ধু উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ, ৪৫টি।
ইন্টার মায়ামির জন্য এটি শুধু
ব্যক্তিগত মাইলস্টোন নয় — দলগতভাবে এটি
সম্ভাবনার দোরগোড়ায় পৌঁছানো। ফাইনালে যাওয়ার দ্বারা, মায়ামি প্রমাণ করে দিয়েছে যে
তারা শুধু একটি ক্লাব নয়, সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক
দল। মেসির মতো ফুটবল দানব
যদি এমন নেতৃত্বে থাকে,
তাহলে শিরোপা অর্জন আর স্বপ্ন নয়,
বাস্তব এরই অংশ হয়ে
দাঁড়ায়।
নীতিগতভাবে, মেসির এই রেকর্ড ফুটবল
ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়
লিখেছে। একটি সময় ছিল,
যখন অ্যাসিস্ট বেশি দেওয়া ছিল
মিডফিল্ডার বা প্লে-মেকারদের
কাজ; কিন্তু মেসি প্রমাণ করলেন,
একটি একক খেলোয়াড়ও — তার
ভিশন, সময় বোধ, নিখুঁত
পাস এবং প্রতিপক্ষ ডিফেন্স
পড়ার ক্ষমতায় — পুরো গোলসংখ্যা আর
রূপান্তর ক্ষমতা বদলে দিতে পারে।
তবে মাইলস্টোন আর
রেকর্ডের বাইরেও বিষয়টি হলো — মেসি এখন ৩৮
বছর বয়সেও আন্তর্জাতিক স্তরের ফুটবলে প্রাসঙ্গিক, প্রভাবশালী ও সর্বোচ্চ মান
বজায় রেখেছেন। তার জন্য এটি
শুধু ব্যক্তিগত গৌরব নয়, বরং
একটি বার্তা — অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিমত্তা ফুরোয়
না, সঠিক প্রয়োগে সময়
ও মাঠ বদলায় না।
ইন্টার মায়ামির সামেনে অপেক্ষা করছে আরও
একটি ফাইনাল। যদি
মায়ামি জিতে ফাইনালে শিরোপা
তুলতে পারে, তাহলে সেই ট্রফি হবে
শুধু ক্লাবের প্রথম নয় — সেটা হবে
মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের আরেক গৌরবময় অধ্যায়।
এবং বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা আবার দেখবে, কীভাবে
৪০৫ অ্যাসিস্ট আর অসংখ্য গোল
একজোট হয়ে গড়ে তুলতে
পারে নতুন ইতিহাস।
মেসির এই রেকর্ডের মাধ্যমে ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক মানদণ্ড স্থাপিত হলো। সমালোচকরা মনে করছেন, এই রেকর্ড অনেক দিন ধরে টিকে থাকতে পারে, কারণ মেসির মতো স্থায়ীভাবে বিশ্বমানের খেলোয়াড় খুবই বিরল।
লিওনেল মেসির ৪০৫ অ্যাসিস্টের এই রেকর্ড ফুটবল ইতিহাসের এক স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। ফেরেঙ্ক পুসকাসের রেকর্ডের সমান হওয়া মেসির জন্য এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে।
* ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলে সহায়তা করেছেন যারা : লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা, ৪০৫), ফেরেঙ্ক পুসকাস (হাঙ্গেরি, ৪০৪), পেলে (ব্রাজিল, ৩৬৯), ইয়োহান ক্রুইফ (নেদারল্যান্ডস, ৩৫৮), টমাস মুলার (জার্মানি, ৩১৪), কেভিন ডি ব্রুইন (বেলজিয়াম, ৩০৪), অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া (আর্জেন্টিনা, ৩০০), লুইস সুয়ারেজ (উরুগুয়ে, ২৯৩), লুইস ফিগো (পর্তুগাল, ২৮৩), রায়ান গিগস (ওয়েলস, ২৭৭)।