প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩৮ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয় টেবিল টেনিস দল ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে এর আগে অনেকবারই অংশ নিয়েছে। কিন্তু যেকোনো ইভেন্টে কোয়ার্টার ফাইনালের বেশি যেতে পারেনি। এবার লক্ষ্য ছিল অন্ততঃ সেমিফাইনালে ওঠা। কিন্তু সেই প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেছেন মিশ্র দ্বৈতে ইভেন্টে অংশ নেওয়া জাভেদ আহমেদ এবং খই খই সাই মারমা জুটি। রীতিমতো ইতিহাস গড়েছেন তারা। দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে দেশের জন্য জিতেছেন রৌপ্যপদক। এটিই বাংলাদেশের টেবিল টেনিসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সাফল্য। কিন্তু ঐতিহাসিক এই সাফল্যের জন্য তারা ফেডারেশন থেকে যৎসামান্য প্রণোদনা পাচ্ছেন! অথচ অন্য ফেডারেশনের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক সাফল্য পেলে এর চেয়েও বেশি পরিমাণে পুরস্কার পেয়ে থাকেন।
গতকাল
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) অডিটোরিয়ামে টেবিল টেনিস ফেডারেশনের
আয়োজনে জাভেদ-খইকে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক
মাকসুদ আহমেদ সনেট ঘোষণা দেন, জাভেদ এবং খইকে জনপ্রতি ১ লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা
পুরস্কার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ফেডারেশনের আর্থিক সংকট থাকলেও দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে
বড় টেবিল টেনিস সাফল্যকে সম্মান জানাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সনেট আশা করেন, জাতীয়
ক্রীড়া পরিষদ, বিওএ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকেও খেলোয়াড়রা সম্মাননা পাবেন। সনেট
আরও জানান, আগামীতে তারা টেবিল টেনিস ফেডারেশনের জন্য আলাদা ভেন্যু পাওয়া এবং খেলোয়াড়দের
মাসিক বেতনের আওতায় আনার জন্য চেষ্টা করছেন। 
জাভেদ
বলেন, ‘এই পদক হঠাৎ পাওয়া নয়; বছরের পর বছর পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা এবং মানসিক শক্তির ফল
এটি। তিনি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক বেতন বা ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত
করার দাবি জানান। তার মতে, খেলোয়াড়রা যখন পরিবার ও খরচ নিয়ে চিন্তায় থাকে, তখন আন্তর্জাতিক
অঙ্গনে উন্নতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।’
খই
খই বলেন, ‘আগের ইসলামিক গেমসে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালের পরই থেমে গিয়েছিল। এবার
আমাদের লক্ষ্য ছিল সেটি অতিক্রম করা। কোয়ার্টারের প্রতিপক্ষ জানার পর জাভেদ ভাই আত্মবিশ্বাস
জুগিয়ে বলেছিলেন, সুযোগ আছে। সেই আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমের ফলই রৌপ্যপদক। আমার
স্বপ্ন আরও বড়, একদিন অলিম্পিক গেমসে খেলতে চাই। হোক সেটা সিঙ্গেল, ডাবল কিংবা টিম
ইভেন্টে।’
সংবাদ
সম্মেলনে জাতীয় দলের কোচ মোস্তফা বিল্লাহ বলেন, ‘এটি টেবিল টেনিসের ৫৩ বছরের ইতিহাসে
সবচেয়ে বড় অর্জন। খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা থেকেই এসেছে
সাফল্য।’
ফেডারেশনের
সাধারণ সম্পাদক সনেট জানান, ‘আন্তর্জাতিক সাফল্য ধরে রাখতে ইরান ও ভারতের কোচ আনার
বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে আর্থিক সংকট এবং ডিসেম্বরে ভেন্যুর ঘাটতি বড় বাধা। অ্যাডহক
কমিটি ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েকটি আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
সামনে জাতীয় লিগ ও ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে এবং এর পর নির্বাচন
আয়োজন করা হবে।’
আরকে/প্রবা