রুমেল খান
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩৬ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৪২ পিএম
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) নির্বাচন আগামী ৩০ নভেম্বর। এবারের বিওএর কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে বিওএ সহসভাপতি পদে মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ (৫ নং) এবং মহাসচিব পদে জোবায়েদুর রহমান প্রার্থী হয়েছেন। এ অবস্থায় তাদের আগের কাজের পরে এখন একই ক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশ নেয়াটা স্বার্থের দ্বন্দ্ব হয়ে দাঁড়ায়!
ইতোপূর্বে, গত বছরের ১ অক্টোবর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৫ সদস্যবিশিষ্ট গঠিত সার্চ কমিটির আহবায়ক ছিলেন জোবায়েদুর রহমান এবং সদস্য হিসেবে মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ ছিলেন।
নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তার আগে ২৫ নভেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বিওএর কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৫ এর নির্বাচন কমিশনারকে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সেই চিঠির স্মারক নম্বর : ৩৪.০৩.০০০০.০০০.০০৪.৫৫.০০০৪.২৩.৯৪৮।
চিঠির মাধ্যমে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে সেই স্বার্থের দ্বন্দ্ব সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
চিঠিতে বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মো জোবায়েদুর রহমান এবং মেজর (অব:) ইমরোজ আহমেদের বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৫ এ অংশগ্রহণ সংক্রান্ত।’
সেখানে বিস্তারিত যা উল্লেখ করা হয়,
১। উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিদ্যমান ক্রীড়া ফেডারেশন/অ্যাসোসিয়েশন/বোর্ড সংস্থা সমূহের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে ০১-১০-২০২৪ তারিখে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৫ সদস্যবিশিষ্ট গঠিত সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ৪৯টি ক্রীড়া সংস্থার ফেডারেশনের এ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটির আহবায়ক ছিলেন জোবায়েদুর রহমান এবং সদস্য হিসেবে মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৫ এ বিওএ সভাপতির কোটায় মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ সহসভাপতি পদে (৫ নং) এবং জোবায়েদুর রহমান 'মহাসচিব' পদে একমাত্র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কাউন্সিলর তালিকায় উক্ত সার্চ কমিটির গঠিত ২৫টি জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটি হতে ২ জন করে ৫০ জন, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা হতে ২ জন, আলাদাভাবে ৩টি ফেডারেশন হতে আরও ৩ জন প্রতিনিধিসহ মোট ৫৫ সদস্যকে কাউন্সিলর হিসেবে রাখা হয়েছে। এমতাবস্থায়, মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ এবং জোবায়েদুর রহমানের বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনিবাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৫ এ অংশগ্রহণ করা হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
২। ইহা মহোদয়ের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অবহিত করা হলো।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এই চিঠিতে যা জানানো হল সেটা তো অনেক আগে থেকেই জানা ব্যাপার। সেটা জানাতে এতদিন দেরি করে ঠিক নির্বাচনের কয়েকদিন বাকি থাকতেই কেন করা হল কেন। চিঠির মাধ্যমে কি তাহলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মূলত নিজেদের দায় এড়িয়ে গেল? নাকি কারুর জন্য সুবিধা করে দেবার চেষ্টা?
আরকে/প্রবা