প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৪০ পিএম
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৪২ পিএম
আজ ২৫ নভেম্বর। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার, ফুটবল-দেবতা ডিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২০ সালের এই দিনে পৃথিবীব্যাপী ফুটবলপ্রেমীরা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল—যেন গোলাকার বেলের মাঝখানে হঠাৎ নিভে গিয়েছিল একটি পবিত্র আলো। সময়ের স্রোত পাঁচটি বছর বয়ে নিয়ে গেছে, কিন্তু ম্যারাডোনার স্মৃতি, তার জাদুকরী বাঁ পা, তার উন্মাদনা, তার বিজয়ের হাসি আজও ততটাই জীবন্ত।
ম্যারাডোনা শুধু ফুটবলার ছিলেন না; তিনি ছিলেন বঞ্চিত মানুষের আশা, লড়াইয়ের প্রতীক এবং অসম্ভবকে ‘সম্ভব’ করে দেখানোর অনন্য উদাহরণ। দারিদ্র্যের অন্ধকার থেকে উঠে এসে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হয়ে ওঠার গল্প যেন ঝলমলে এক উপাখ্যান—যা তরুণদের শেখায়: জন্ম নয়, সংগ্রামই নির্ধারণ করে মানুষের উচ্চতা।
১৯৮৬ বিশ্বকাপ—ম্যারাডোনার নামের পাশে চিরকাল জ্বলতে থাকা এক স্বর্গীয় বছর। একাই যেন তিনি বহন করেছিলেন আর্জেন্টিনার স্বপ্ন। ‘হ্যান্ড অব গড’ কিংবা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’—দুটি গোলেই আছে সময়কে থামিয়ে দেওয়া এক নাটকীয়তা, মানবিক দুর্বলতা ও ঈশ্বরিক প্রতিভার একসাথে মিলন। সেই মুহূর্তগুলো দেখার সৌভাগ্য যার হয়েছে, তারা জানে ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি অনুভূতি—যা হৃদয় কাঁপায়, চোখ ভিজিয়ে দেয়।
ম্যারাডোনা কখনো নিখুঁত ছিলেন না। মানুষ হয়েও তিনি বারবার ভুল করেছেন, হারিয়ে গেছেন নিজস্ব দুঃখ আর বিষণ্নতার কুয়াশায়। কিন্তু ঠিক সেখানেই তিনি আরো বড়, আরো মানবিক। তিনি প্রমাণ করেছেন—মহত্ত্ব মানে পরিপূর্ণতা নয়; মহত্ত্ব মানে পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানো।
আজ তার মৃত্যুবার্ষিকীতে ফুটবলের প্রতিটি কোণে, প্রতিটি গ্যালারিতে, প্রতিটি হৃদয়ে বাজছে একটি অমর সুর—“Gracias, Diego!”
যতদিন ফুটবল থাকবে, বাচ্চারা বল নিয়ে দৌড়াবে, দর্শকরা গ্যালারিতে গান গাইবে—ততদিন ম্যারাডোনা বেঁচে থাকবেন। মৃত্যুর পরও তিনি আমাদের চোখের স্বপ্নে, মাঠের সবুজ ঘাসে, আকাশে ওড়ানো নীল-সাদা পতাকায় অমর হয়ে আছেন।
ডিয়েগো, তুমি চলে গেছো, কিন্তু তুমি কখনও হারিয়ে যাওনি।
ফুটবল তোমায় ভুলবে না। পৃথিবীও নয়।
চিরন্তন শ্রদ্ধা এবং অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা—ডিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা।
ভিভা ডিয়েগো। ভিভা ফুটবল।
আরকে/প্রবা