এমএলএস কাপ প্লে-অফের ইস্টার্ন কনফারেন্স
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:১৮ এএম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৫৪ এএম
এক ম্যাচে দলের গোল ৪টি। একজন করেছেন ১ গোল। বাকি ৩ গোলে করেছেন অ্যাসিস্ট। ম্যাচে তার রেটিং পয়েন্ট ১০ এ ১০। হয়েছেন মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার। অথচ বয়সটা তাঁর ৩৮! সত্যিই অবিশ্বাস্য!
বলা হয়, তিনি রেকর্ড বা মাইলফলকের পেছনে ছোটেন না, বরং রেকর্ড-মাইলফলকই তার পায়ে লুটোপুটি খায়! কিছুক্ষণ (২৪ নভেম্বর) আগে শেষ হওয়া ফুটবল ম্যাচে তাই দেখা গেল। সর্বকালের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির একটি গোল তাকে দুটি মাইলফলকে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি রীতিমতো ঐতিহাসিক। সেই সঙ্গে এমএলএস কাপ প্লে-অফের ইস্টার্ন কনফারেন্সের ফাইনালে উঠেছে ইন্টার মায়ামি। সেমিফাইনালে তারা স্বাগতিক সিনসিনাতিকে হারিয়েছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে। 
লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে নতুন ইতিহাস গড়ে ইন্টার মায়ামি পৌঁছে গেল এমএলএস কাপ প্লে-অফের ইস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনালে। ৪-০ গোলের জয়ে এফসি সিনসিনাটিকে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের প্রথম ইস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনাল নিশ্চিত করলো মায়ামি। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির সংক্ষিপ্ত কিন্তু অনুপ্রেরণামূলক বার্তা— ‘চলো যাই! পুরো দলের অসাধারণ ম্যাচ … এক ধাপ বাকি!”- আরও উজ্জীবিত করেছে সমর্থকদের।
দুর্দান্ত এই জয়ে নেতৃত্বে ছিলেন মেসি, যিনি ম্যাচের ১৯ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন। তাও আবার হেডে। মাথা দিয়ে গোল করাতে তিনি দুর্বল, নিন্দুকরা প্রায়ই এমনটা বলে। কিন্তু হেডে এটা ছিল তার ক্যারিয়ারের ৩০তম গোল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ৫৭ মিনিটে মাতেও সিলভেতিত এবং ৬২ ও ৭৪ মিনিটে জোড়া গোল করে তাদেও আলেন্দে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন। তাদের সব গোলেই অ্যাসিস্ট করেন মেসি। এ পর্যন্ত ক্যারিয়ারে তিনি ৪০৪টি অ্যাসিস্ট করলেন, যা হাঙ্গেরিয়ান কিংবদন্তী ফেরেঙ্ক পুসকাসের সমান। ফলে আর মাত্র অ্যাসিস্ট করলেই পুসকাসকে টপকে এককভাবে সর্বকালের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতায় পরিণত হবেন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর মেসি।
শুধু তাই নয়, পুরো ম্যাচে মেসি এক গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করে আরও দুটি কীর্তি গড়েছেন। সেগুলো হলো : এমএলএস প্লে-অফ রাউন্ডে সবচেয়ে বেশি গোলে (১১) অবদান রাখা (৬ গোল, ৫ অ্যাসিস্ট) এবং ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১৩০০ গোলে অবদান রাখা (৮৯৬ গোল, ৪০৪ অ্যাসিস্ট)।
বলাই বাহুল্য, এরকম ‘অতিমানবীয়’ পারফর্মেন্স করে যে মেসি ১০ রেটিং নিয়ে ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ও (ক্যারিয়ারে রেকর্ড ৪৩৮তম বার) নির্বাচিত হবেন, সেটাই তো স্বাভাবিক!
চতুর কৌশল ও দৃঢ় পরিকল্পনার কারণে এই জয়ের কৃতিত্ব পাচ্ছেন ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচ জাভিয়ের মাশ্চেরানো। তার নিদের্শনায় ম্যাচজুড়ে ইন্টার মায়ামির শৃঙ্খলাপূর্ণ রক্ষণ, নির্ভুল প্রেসিং ও বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করে দেয়।
এই জয় কেবল বড় ব্যবধানের নয়—বরং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিরও। ইন্টার মায়ামির লক্ষ্য এখন প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ ফাইনালে শিরোপা জেতা, তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন বনাম নিউইয়র্ক সিটি এফসি সেমিফাইনালের বিজয়ী দল।
২৯–৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনাল নির্ধারণ করবে, মেসি কি সত্যিই দলকে ইতিহাসের প্রথম এমএলএস কাপ ফাইনালে তুলতে পারবেন কি না। যদি পারেন, তাহলে মেসির এটি হবে ক্যারিয়ারের ৪৭তম এবং ইন্টার মায়ামির তৃতীয় শিরোপা।
সিনসিনাটির বিপক্ষে এ জয় যেন বার্তা দিয়ে গেল— ৩৮ বছর বয়সেও মেসির ক্ষুধা, দৃঢ়তা ও জয়ের তৃষ্ণা এখনো অটুট। এখন নজর কেবল ইস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনালে, যেখানে মেসি-জাদুর আরেকটি অধ্যায়ের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। 
* পরিসংখ্যানে মেসির গোল
১১৩৫ ম্যাচ, ৮৯৬ ক্যারিয়ার গোল, ৭৮১ ক্লাব গোল, ইন্টার মায়ামির হয়ে ৭৭ গোল, ৫০তম এমএলএস গোল, ৩০তম হেডার গোল, ৬১০তম বক্সের ভেতরে গোল, ৭৮৪তম নন-পেনাল্টি গোল (রেকর্ড)।
আরকে/প্রবা