রুমেল খান
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:০৯ পিএম
আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:১৬ পিএম
বয়স ৩১, উচ্চতা
৫ ফুট ১০ ইঞ্চি। টাঙ্গাইলের ছেলে। ফুটবলার। পজিশন সেন্টার ব্যাক ও রাইট ব্যাক। ক্লাব
পর্যায়ে খেলেছেন শেখ জামাল ধানমণ্ডি, চট্টগ্রাম আবাহনী, আবাহনী লিমিটেড ও রহমতগঞ্জ
মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটিতে। চেনা গেল তাকে? না বোধহয়। তাহলে আরও
কিছু ‘সূত্র’ দেওয়া যাক। একটু ভিন্ন ধরনের হেয়ার স্টাইল তার। খেলার মাঠে প্রতিপক্ষের
গোলমুখে লম্বা দর্শনীয় থ্রো করেন। হ্যাঁ, এবার নিশ্চয়ই চিনে ফেলেছেন তাকে। যার কথা বলছি,
তিনি রায়হান হাসান। আর মাত্র কদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর
‘বাংলাদেশ ফুটবল লিগ’। কিন্তু এতে খেলছেন না রায়হান। না, অবসর নেননি তিনি। এখনও খেলছেন,
কিন্তু বাংলাদেশে নয়, যুক্তরাষ্ট্রে!
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর জুনে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশি-আমেরিকান স্পোর্টস লিগ’। এই ফুটবল লিগেই
খেলতেই মূলত মার্কিন মুল্লুকে পাড়ি জমান রায়হান। সেখানে তিনি খেলেন ‘ফাইটার্স ক্লাব’-এর
হয়ে। সেটা সম্ভব হয় আবিদের মাধ্যমে (সাবেক জাতীয় ফুটবলার আবুলের ছেলে, ফ্লোরিডা নিবাসী),
যিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক ফুটবলার।
প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত আলাপনে রায়হান বলেন, ‘লিগ খেলার পর বুঝতে
পারি এখানে ফুটবলটা অনেক জনপ্রিয়। সেটার অবশ্য বড় কারণ ফ্লোরিডায় ইন্টার মায়ামিতে লিওনেল
মেসির খেলতে আসা এবং আগামী বছর এই দেশে ফিফা বিশ্বকাপ হওয়াটা। তাছাড়া এখানে বাংলাদেশী
কমিনিউটির ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাও অন্যতম কারণ।’
এখানে এসে রায়হান ফাইটার্স ক্লাবের হয়ে দু’টি টুর্নামেন্টে অংশ নেন। একটি নিউজার্সিতে,
অন্যটি নিউইয়র্কে। দু’টি টুর্নামেন্টেই তার দল চ্যাম্পিয়ন হয়। রায়হানের খেলা দেখে অনেকেই
প্রশংসা করে।
রায়হানের ভাষ্য,
‘দু’টি টুর্নামেন্টেই শিরোপা জেতার পর আমার কাছে
কয়েকটি ক্লাব প্রস্তাব দিয়েছে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য। আমার যে এ্যাবিলিটি,
তাতে এখানকার দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিভাগে লিগে অনায়াসেই খেলার যোগ্যতা-সামর্থ্য আমার আছে।
তবে আমার কাগজপত্র ঠিকমতো পাইনি বলে তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারছি না। এখানে কিছু
একাডেমি আছে, তাদের কাছ থেকেও প্রস্তাব পেয়েছি। এর মধ্যে একটি একাডেমি
আছে, যেখানে জায়ান আহমেদ খেলেছিল। আমি সেখানে গিয়েছিলাম। আমাকে তারা জাজ হিসেবে নিয়েছিল।’
এখানে বাংলাদেশী কমিনিউটির অনেক একাডেমিই রায়হানকে
চাচ্ছে তাদের এখানে কোচ হিসেবে। অন্য কমিনিউটির একাডেমিও চাচ্ছে। রায়হান বলেন, ‘এখানে
ফুটবলের জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে, আর আমিও এদের সঙ্গে মিশে গেছি। তাই আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
হচ্ছে, যদি এখানে খেলার সুযোগ হয়, তাহলে এখানে খেলবো বা কোচিং করাবো।’
রায়হান আরও যোগ
করেন, ‘যেকোন কমিনিটিতেই কাজ করি না কেন, আমার লক্ষ্য হচ্ছে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ভালমানের
প্লেয়ার তৈরি করা, যেন তারা ভবিষ্যতে নিজ নিজ দেশের হয়ে সফলভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে
পারে। এখন তো অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী ফুটবলারই বাংলাদেশের হয়ে সুনামের সঙ্গে খেলছে।
আমি চাই আমার অধীনে বের হয়ে প্লেয়াররা ভবিষতে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোন দেশের
জাতীয় দলের হয়ে খেলবে।’
বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের
ক্যারিয়ার ছিল রায়হানের। প্রায় নয় বছর জাতীয় দলে খেলেছেন (৩৪ ম্যাচ)। ১৩ মৌসুম খেলেছেন
প্রিমিয়ার লিগ। শিরোপা জিতেছেন ৩টি ফেডারেশন কাপ, ৩টি লিগ, ১টি স্বাধীনতা কাপ, ভুটানে
কিংস কাপ চ্যাম্পিয়ন, ভারতে আইএফএ শিল্ডে রানার্সআপ, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে রানার্সআপ,
অনূর্ধ-২৩ দলের হয়ে এসএ গেমসে ব্রোঞ্জপদক ... সবমিলিয়ে অনেক শিরোপা, অনেক সাফল্য, অনেক
স্মৃতি! রায়হানের ভাষায়, ‘এগুলো মনে পড়লে অনেক মিস করি।’
তারপরও বাস্তবতায়
ও বর্তমানে বিশ্বাসী রায়হান, ‘এখানে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ও সুযোগ-সুবিধা আমাকে আকৃষ্ট
করেছে। তাই এখানেই ক্যারিয়ারের বাকি অংশটা অতিবাহিত করতে চাই। খেলতে চাই এবং কোচিং
করাতে চাই। এখানকার ফুটবলের উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই।’
রায়হান এখন নিউইয়র্কে
থাকেন। এখানকার একাডেমির কোচরা অধিকায়শই সাবেক জাতীয় ফুটবলার (বিভিন্ন দেশের)। এ প্রসঙ্গে
রায়হানের মন্তব্য, ‘কিন্তু তারা অনেক কম কাজ করেন। তাই একাডেমিগুলো আমাকে যোগ্য সম্মান-সুবিধা
দিতে চায়। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখানে কাজ করার।’
সবশেষে রায়হান জানান, ‘ফুটবল আমার পেশা, ফুটবল আমার ভালোবাসা। আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল, খেলা ছাড়ার পর কোচ হবো এবং তৃণমূল থেকে দক্ষ ফুটবলার তৈরি করবো। সেজন্য আগেই এএফসি সি-লাইসেন্স কোচিং কোর্স করে রেখেছিলাম। এখন হয়তো এখানে এসে সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারবো।’
আরকে/প্রবা