প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৫ ২২:৪৮ পিএম
‘এই যাত্রায় তোমাদের সকলের অগাধ ভালোবাসা এবং সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। প্রতিটি বার্তা, প্রতিটি প্রার্থনা, প্রতিটি উৎসাহের মূল্য তোমাদের ধারণার চেয়েও বেশি।’ নিজের ফেসবুক ওয়ালে এমনটিই লিখেছেন শমিত সোম। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অপরিহার্য এই সদস্য এখন স্বীয় নৈপুণ্যে সমুজ্জ্বল হয়ে বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে নয়নের মণিতে পরিণত হয়েছেন।
ভারতকে
হারানোর উৎসবমুখর রাতটি পোহাতেই ইংল্যান্ডের ফ্লাইট ধরেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের
সবচেয়ে বড় তারকা হামজা দেওয়ান চৌধুরী। আরেক তারকা ফুটবলার শমিত সোম তার প্রিয় মাতৃভূমি
লাল-সবুজের দেশে দুই দিন বেশি কাটিয়েছেন। তার পৈত্রিক ভিটা সিলেটের শ্রীমঙ্গলে। সেখানেই
পরিবারের সদস্য আর এলাকার মানুষের সাথে মনোমুগ্ধকর দুটি দিন পার করে বৃহস্পতিবার দিবাগত
মধ্যরাতে কানাডার ফ্লাইট ধরেছেন এই মিডফিল্ডার।
বাংলাদেশ
ছাড়ার সময় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে দর্শক, ভক্ত-সমর্থকদের উদ্দেশ্য
আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন গত ১০ জুন ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ
দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হওয়া শমিত সোম।
শমিত
নিজের ফেসবুকে আরও লিখেছেন, ‘আমি এখন কানাডায় ফিরে যাচ্ছি, কিন্তু আমার হৃদয় এই দলের
সাথে এবং তোমাদের সকলের সাথেই রয়েছে। আসুন এই গতি অব্যাহত রাখি-বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য
আরও অনেক কিছু আসবে। তোমাদের সকলকে ভালোবাসি।’
শমিত
সোম বাংলাদেশের জার্সিতে পাঁচটি ম্যাচ খেলে একটি গোল করেছেন। কানাডা জাতীয় দলে খেলার
অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই মিডফিল্ডার দেশটির প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব কাভারলি এফসিতে খেলেন।
শমিত
জন্মগ্রহণ করেন অ্যাডমন্টনে, বাংলাদেশের অভিবাসী বাবা-মা মানস ও নন্দিতা শোমের ঘরে।
তার বাবা-মা ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে কানাডায় পাড়ি জমান। ২০০৩ থেকে ২০১৪ সাল
পর্যন্ত তিনি অ্যাডমন্টন সাউথওয়েস্ট ইউনাইটেড এসসির হয়ে যুব ফুটবল খেলেন। ইম্প্যাক্ট
দলে খেলার পাশাপাশি সোম কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংও পড়েন।
২০১৫ সালে সোম এফসি অ্যাডমন্টনের একাডেমি প্রোগ্রামে যোগ দেন। একই বছরের শেষদিকে
তিনি আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আলবার্টা গোল্ডেন বেয়ার্স দলের হয়ে উল্লেখযোগ্য
পারফরম্যান্স দেখান। ১২ ম্যাচে করেন ৬ গোল। এই পারফরম্যান্সের সুবাদে
তিনি সিডাব্লিউইউএএ রুকি অব দ্য ইয়ার পুরস্কার অর্জন করেন।