নারী কাবাডি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ২০:০৮ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩০ পিএম
এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশন এবং পাকিস্তান কাবাডি ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল সরওয়ার রানা
এশিয়ান
কাবাডি ফেডারেশন (একেএফ) এবং পাকিস্তান কাবাডি ফেডারেশনের (পিকেএফ) সেক্রেটারি জেনারেল
সরওয়ার রানা চলমান দ্বিতীয় নারী কাবাডি বিশ্বকাপ ২০২৫ দেখতে ঢাকা এসেছেন। বাংলাদেশ
কাবাডি ফেডারেশনের কার্যক্রম, দ্বিতীয় নারী
কাবাডি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসর ও পরবর্তী ইভেন্টগুলো আয়োজনের পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে
নিয়ে নিজের মতামত ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।
বাংলাদেশ
প্রথমবারের মতো নারী কাবাডি বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। এই আয়োজন প্রসঙ্গে রানা বলেন, ‘আয়োজন
বিশ্বকাপ স্তরের এবং এমনকি বিশ্বকাপের থেকেও অনেক উন্নত ও চমৎকার। বাংলাদেশ প্রমাণ
করেছে যে ভবিষ্যতে তারা আরও বড় কাবাডি ইভেন্ট পরিচালনা করতে সক্ষম। বাংলাদেশ কাবাডি
ফেডারেশনের অত্যন্ত প্রশংসা করি এবং অভিনন্দন জানাই যারা এই চমৎকার কাজটি করছে। এটি
নিঃসন্দেহে অসাধারণ, বিস্ময়কর। আমি খুবই খুশি। আমি ভাবতে পারিনি যে, বাংলাদেশ এটি
করতে পারবে, কিন্তু বাংলাদেশ তা প্রমাণ করেছে এবং তারা উভয় দিকই প্রমাণ করেছে –
আয়োজনের পদ্ধতি এবং দলগুলোর প্রস্তুতি।’ 
এই
আয়োজনের রানার নিজের দেশ পাকিস্তানের না খেলা প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দেন এই বলে, ‘পাকিস্তান
এখানে আসতে চেয়েছিলাম। আমি পাকিস্তানের লোক, পাকিস্তান কাবাডি ফেডারেশনের সেক্রেটারি।
কিন্তু আমরা বাহরাইন গেমস নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম এবং সময়ের স্বল্পতার কারণে আসতে পারিনি।
এছাড়া জাতীয় গেমসও ছিল। এই বিশ্বকাপের পরে আমরা বাংলাদেশে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানাবো।
এবং এই বিশ্বকাপের ঠিক পরই আমরা বাংলাদেশে আসব।’
দক্ষিণ
এশিয়ায় সাফ ফুটবলের মতো আঞ্চলিক কাবাডি ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে রানা
বলেন, ‘আমরা এই পরিকল্পনা করতে পারি। এই দেশে আরও ইভেন্ট হওয়া উচিত।’ চলমার বিশ্বকাপে
সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দল নিয়ে রানার ভবিষ্যদ্বাণী, ‘এই সময়ে ভারতের সম্ভাবনা রয়েছে।
তারা দীর্ঘদিন ধরে কাবাডির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের দেশে পেশাদার লিগ আছে। তাদের নারীরাও
দীর্ঘদিন ধরে খেলছে। পাকিস্তান মাত্র দুই বা তিন বছর আগে শুরু করেছে। বাংলাদেশ সম্ভবত
দশ বছর আগে শুরু করেছে। কিন্তু ভারতীয়রা ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে খেলছে, তাদের নারীরা
খেলছে। এমন টুর্নামেন্টের মাধ্যমে দলগুলোর মধ্যে ব্যবধান কমছে। তারপর ভবিষ্যতে কে বিজয়ী
হবে তা ভাগ্যের উপর নির্ভর করবে। তবে এখানে, ভারতই ফেভারিট।’
১৩
বছরে এটি মাত্র দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। পরের বিশ্বকাপ কবে হবে? এ নিয়ে রানা বলেন, ‘আমাদের
আঞ্চলিক ফেডারেশনগুলোর মধ্যে বিভিন্ন সমস্যা ছিল। এখন সেগুলির সমাধান হয়েছে এবং কাবাডি
উর্ধ্বমুখী গতিতে আছে। এখন আমরা চার বছরের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করব এবং ইনশাআল্লাহ,
তা মেনে চলার চেষ্টা করব।’
বিশ্বব্যাপী
এই খেলাটিকে জনপ্রিয় করার পরিকল্পনা নিয়ে রানা বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা আছে ভালো মেগা
কাবাডি ইভেন্ট আয়োজনের, বিভিন্ন অংশে যেমন বাংলাদেশ, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং ইরান, পাকিস্তানের
মতো জায়গায় মেগা কাবাডি ইভেন্ট আয়োজন করার জন্য। তাই আমরা তাদের আমন্ত্রণ জানাব।
এই ইউরোপীয় দলগুলি নতুন এসেছে। তাদের ক্রীড়া পরিকাঠামো এশিয়ান এবং আফ্রিকান এবং
অন্যান্য মহাদেশের খেলার চেয়ে উন্নত। তাই তারা অল্প সময়ের মধ্যেই এই খেলাটি শিখবে
এবং সেরা দলগুলির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।’
আরকে/প্রবা