নারী কাবাডি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ২২:০৬ পিএম
অগ্রহায়ণের পড়ন্ত বিকাল, ঢাকার মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ভারতীয় রেফারি বাঁশি বাজালেন খেলা শেষ। সঙ্গে সঙ্গে কমলা রঙের ম্যাটে নিজেদের সীমানায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গোল হয়ে ঘুরে ঘুরে বিজয় উল্লাস শুরু করলেন রূপালী, শ্রাবণী, মেবি, বৃষ্টিরা। সাউন্ডবক্সে উচ্চস্বরে বাজছে গান। সেই সঙ্গে গ্যালারিতে উপস্থিত সহস্রাধিক ছাত্র-ছাত্রীর আবেগঘন আনন্দ-চিৎকারে কান পাতা দায়! একটু পরেই জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে উঠল বিজয়ী দলের নাম, আর সেটা বাংলাদেশ।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ১১ জাতি আসরের নারী কাবাডি বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছে। উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হয় স্বাগতিক বাংলাদেশ ও প্রতিপক্ষ আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন উগান্ডা দলের মাধ্যমে। দুই লোনাসহ তাদের ৪২-২২ পয়েন্টে হারিয়ে শুভসূচনা করে বাংলাদেশ। খেলার প্রথমার্ধে বিজয়ী দল এগিয়েছিল ১৪-১২ পয়েন্টে।
জমজমাট উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষেই ছিল স্বাগতিক বাংলাদেশের ম্যাচ। পুরো গ্যালারি ছিল দর্শকে পূর্ণ। নিজ দলের মেয়েদের দারুণ এক জয়ের সাক্ষী হয়েছেন সমর্থকরা। সারাক্ষণ তারা ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগানে মাতিয়ে রাখেন রুপালী-স্মৃতিদের। যদিও প্রথমার্ধে ভালোই লড়াই করেছে উগান্ডা। শুরুতে বাংলাদেশের মেয়েদের একটু রক্ষণাত্মক মনে হয়েছে। তবে পুরো ম্যাচেই স্মৃতি আক্তার ছিলেন ব্যতিক্রম। মূলত ডিফেন্ডার হলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রেইডে গিয়ে পয়েন্ট তুলে নিয়েছেন।
ম্যাচসেরা হয়ে স্মৃতি আক্তার বলেন, ‘শুরুতে আমরা কিছুটা চাপ অনুভব করছিলাম। যেহেতু কখনোই আমরা উগান্ডার সঙ্গে খেলিনি, এই প্রথমবার খেলছি। ওদের ম্যাচটা আমাদের বুঝতে একটু সময় লেগেছে। এজন্য শুরুতে একটু অগোছালো মনে হয়েছে। ওদের বুঝে নেওয়ার পরে আমরা অনেক ভালো খেলেছি। আমাদের প্রতি কোচের নির্দেশনা ছিল যে, তোমরা দেখো আগে। যেহেতু এই প্রথমবার এই দেশটা খেলছে, তোমরা আগে ওদের খেলা একটু দেখ, তার পর তোমরা সিদ্ধান্ত নাও।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ভালো লাগছে, মানে বলার বাইরে কতটুকু ভালো লাগছে, জয় পেয়েছি। পরবর্তীতে চেষ্টা থাকবে যে প্রথম ম্যাচে যেহেতু জিতেছি, পরেরগুলোও ইনশাআল্লাহ জিতব, এটা আমার প্রথম বিশ্বকাপ। আমার অনেক আনন্দ লাগছে যে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি। আরও চেষ্টা করব সবাই মিলে বাংলাদেশকে পদক এনে দেওযার।’
বাংলাদেশ কোচ আরদুজ্জামান মুন্সী বলেন, ‘উগান্ডা দল আমাদের চেয়ে শারীরিকভাবে ও শক্তির দিক থেকে এগিয়ে। তাই চেয়েছিলাম প্রথম ৫ মিনিট ওদের খেলা দেখব। আমাদের গুছিয়ে উঠতেও কিছুটা সময় লেগেছে। সে কারণে আমরা শুরুতে একটু চাপে ছিলাম। তবে গুছিয়ে ওঠার পর ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দর্শকদের শতভাগ সমর্থন পেয়েছি, এতে খেলোয়াড়রা পুরোপুরি উজ্জীবিত ছিলেন। আশা করছি, এভাবে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং আমরা একটি পদক উপহার দিতে পারব।’
এর আগে ১১ দলের খেলোয়াড়, কোচ, প্রতিনিধিদের বর্ণিল উপস্থিতি, ছাত্র-ছাত্রীর কলরবে মুখরিত গ্যালারি, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক কাবাডি ফেডারেশের (আইকেএফ) সভাপতি বিনোদ কুমার তিওয়ারি, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি বাহারুল আলম, সাধারণ সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সোহাগ ও বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হয় বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
স্টেডিয়াম মোড়ানো বিশ্বকাপের আয়োজনের পোস্টার, বিলবোর্ডে, নানা স্লোগানে। ‘খেল খেল খেল কাবাডি’—গানের তালে মেতে উঠল গ্যালারি। অতিথিরা বক্তব্য দেওয়ার সময় গ্যালারিতে আসা সমর্থকরা করতালিতে মাতিয়ে রাখেন চারপাশ।
বক্তব্য পর্ব শেষে স্টেডিয়ামের বাতি নিভিয়ে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আলো-আঁধারি আবহে নৃত্যশিল্পীরা আদিবাসী, আধুনিক গানের সঙ্গে ফুটিয়ে তোলেন বাংলাদেশের আবহমান কালের ঐতিহ্য। বাংলাদেশ-উগান্ডা ম্যাচ দিয়ে মাঠের লড়াই শুরুর আগ পর্যন্ত ঢাক-ঢোলের বাদ্যে, বিভু, সমতল, পাহাডি নৃত্য উপভোগ করেন গ্যালারিতে আসা দর্শকরা।
বাংলাদেশ স্কোয়াড : শ্রাবণী মল্লিক, বৃষ্টি বিশ্বাস, রূপালী আক্তার সিনিয়র, স্মৃতি আক্তার, রেখা আক্তারী, মেবি চাকমা, রূপালী আক্তার, আঞ্জুয়ারা রাত্রি, সুচরিতা চাকমা, খাদিজা খাতুন, লোবা আক্তার, ইয়াসমিন খানম, ইসরাত জাহান সাদিকা ও তাহরিম। স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড় : আফরোজা ও লুম্বিনী চাকমা; কোচ : শাহনাজ পারভীন মালেকা ও আরদুজ্জামান মুন্সি, মেন্টর : বাদশা মিয়া, ম্যানেজার: আসাদুজ্জামান শাহীন, ফিটনেস কোচ : সুজিত।