প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ২০:২৩ পিএম
আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:২১ পিএম
ফিফার অর্থায়নে ২০০৫-০৬ সালে মতিঝিলে নির্মিত হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) চারতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন। নির্মাণের প্রায় ২০ বছর কেটে গেলেও ভবনটির কোনো সংস্কার করা হয়নি। রং উঠে গেছে, প্লাস্টার খসে পড়েছে, বাহ্যিক রূপ বিবর্ণ। ফলে বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে জরাজীর্ণ পুরনো কোনো ভবন। অবশ্য এ নিয়ে বাফুফের কোনো মাথাব্যথা ছিল না। তবে সম্প্রতি তাদের বোধদয় হয়েছে। ভবনের সামনের দিকে নিচতলার একটা অংশের পুরোটাজুড়ে অঙ্গসজ্জার দিকে মনযোগ দিয়েছে বাফুফে।
দৃষ্টিনন্দন নানা রংয়ের ব্যবহারে নিচতলার চারটি পিলারে সুন্দরভাবে আঁকা হয়েছে সুদৃশ্য দেয়ালচিত্র। এতে বাফুফের বাহ্যিক চেহারার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। আউটলুক যে বেটার হয়েছে, তা তো বলাই বাহুল্য।

প্রতিটি পিলারে আছে- জাতীয় পতাকার লাল-সবুজের প্রলেপ, আর তাতে বড় করে আঁকা হয়েছে বিভিন্ন ফুটবলারদের প্রতিচিত্র। সর্ব বায়ে নারী, দ্বিতীয়টিতে কিশোর, তৃতীয়টিতে তরুণ এবং সর্ব ডানে বালক ফুটবলার। তবে নারী ফুটবলারের জার্সিটা ঠিক বাংলাদেশসুলভ হয়নি। জার্সির রংটা কিছুটা মিলে যায় উরুগুয়ের জার্সির সঙ্গে। তাছাড়া শারীরিক গড়ন ও মুখভঙ্গি কিছুটা পুরুষালি দেখায়।
এই দেয়ালচিত্রের কাজটি করেছে ‘লাইটবক্স প্রোডাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকতা রায়হান খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, বাফুফে আমাদের কিছু খেলোয়াড়দের ছবির স্যাম্পল দিয়েছে। তা দেখেই আমরা এই ছবিগুলো এঁকেছি। জার্সির কালার ও খেলোয়াড়দের মুখভঙ্গি কেমন হবে, সেটাও তারা ঠিক করে দিয়েছেন।

আঁকাআঁকির কাজটা রায়হানসহ আরও করেছেন লাইটবক্সের আবু নাছের, মোহাম্মদ শান্ত, সুজিত কুমার ও ফাহারিয়া হোসেন দিয়া (তিনি মূলত আলোকচিত্রী) তারা সবাই শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। তাদের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়াতেই দীর্ঘ ২০ বছর পর নতুন চেহারায় দেখা যাচ্ছে বাফুফেকে।
দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৪ সালে বাফুফে এএফসির সদস্যপদ এবং ’৭৬ সালে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার সদস্যপদ লাভ করে। রাজধানীর মতিঝিলে বাফুফে ভবনে এর সদর দপ্তর অবস্থিত। বাফুফের প্রথম অফিস ছিল ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামের দোতালায়।