ইসলামিক সলিডারিটি গেমস
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ০০:৫৭ এএম
বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ইতিহাসে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) একটি গৌরবময় দিন। সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের টেবিল টেনিস ইভেন্টের মিশ্র দ্বৈতের ফাইনালে বাংলাদেশের জাভেদ আহমেদ-খই খই সাই মারমা জুটি এদিন ফাইনালে শক্তিশালী তুরস্কের জুটির কাছে ৫-১১, ৮-১১, ৬-১১ পয়েন্টে হেরে রৌপ্যপদক অর্জন করেন।
স্বর্ণবিজয়ী তুরস্কের হয়ে খেলায় অংশগ্রহণ করেন নারীদের বিশ্ব র্যাংকিংয়ের ৮০তম খেলোয়াড় সিবেল আলতিনকায়া এবং পুরুষদের বিশ্ব র্যাংকিংয়ের ২৬২তম খেলোয়াড় ইব্রাহিম গুনডুজ। বিপরীতে বাংলাদেশের মিশ্র জুটির কারও আন্তর্জাতিক রেটিং নেই!
এবার ইসলামিক সলিডারিটি গেমেসে বাংলাদেশ থেকে ১০টি ডিসিপ্লিনে ৩৬ খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় টেবিল টেনিস থেকে ১টি রৌপ্য এবং ভারোত্তোলন থেকে ৩টি তাম্রপদক লাভ করে বাংলাদেশ।
বিশ্বে টেবিল টেনিসের প্রচলন প্রায় ১০০ বছর হলেও বাংলাদেশে এর প্রচলন ৫০ বছরের সামান্য বেশি। গত পাঁচ দশকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে টেবিল টেনিসে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কোনো প্রাপ্তি নেই। যতটুকু প্রাপ্তি, তা ছিল শুধু দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে। তার সিংহভাগই জুনিয়রদের।
বৃহস্পতিবার জাভেদ-খই খই জুটি সেমিফাইনালে বাহরাইনের রাশেদ এবং কেন্দা মোহাম্মদকে ১৩-১১, ৭-১১, ১২-১০, ১১-৩ পয়েন্টে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বাংলাদেশর এই মিশ্র জুটি রাউন্ড অব ১৬-এর খেলাতে গায়নাকে ১৩-১১, ৭-১১, ১২-১০, ১১-৩ পয়েন্টে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। বুধবার (১২ নভেম্বর) কোয়ার্টারে মালদ্বীপকে সরাসরি ৩-০ গেমে হারিয়ে পদকপ্রাপ্তি নিশ্চিত করেছিল।
বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আহমেদ সনেট জানান, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি খেলোয়াড়দের পারফর্মেন্সে আমরা অত্যন্ত খুশি। কোনো ধরনের জিমনেসিয়াম সুবিধা ছাড়া, নন-এসি বদ্ধ অডিটরিয়ামে সীমিত সুযোগ সুবিধার ভেতরে আমাদের ছেলে-মেয়েরা তাদের সর্বোচ্চ উজাড় করে খেলেছে। রৌপ্যজয়ী খেলোয়াড়দের ইতোমধ্যে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে এক লাখ টাকা নগদ পুরষ্কারের ঘোষণা করা হয়েছে।
মাকসুদ আরও বলেন, নতুন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে একমি কাপ, প্রেসিডেন্ট কাপ, ফেডারেশন কাপ টুর্নামেন্টের মতো ৩টি বড় টুর্নামেন্ট, পাঁচ মাসের এসএ গেমসের ক্যাম্প, নেপালে সাউথ এশিয়ান জুনিয়র এবং সিনিয়রদের টুর্নামেন্ট, ভারতের ভুবনেশ্বরে এশিয়ান টিমস টুর্নামেন্ট, বাহরাইনে যুব গেমসে অংশগ্রহণের ফলে বাংলাদেশের টেবিল টেনিসের মান কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই শক্তিশালী অবস্থানে পৌছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।