রুমেল খান
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ২২:৪৭ পিএম
পিছিয়ে পড়ে জোড়া গোল করে এগিয়েও জিততে পারেনি হামজার বাংলাদেশ। শেষ মুহূর্তের গোলে নেপালের বিপক্ষে হাতছাড়া হয়েছে জয়। ছবি : প্রবা ফটো।
হতে পারতো দুর্দান্ত একটি জয়। দর্শকরা গ্যালারি ছাড়তে পারতেন অনাবিল চিত্তমুখ নিয়ে। কিন্তু তা আর হলো না! পিছিয়ে পড়েও জয়ের পানে এগিয়ে যাওয়া, কিন্তু শেষ মুহূর্তের ভুলে ড্র করে সেই জয় হাতছাড়া করা ... এই হলো নিয়তি!
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে নেপালের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। ম্যচের প্রথমার্ধে স্বাগতিক দল পিছিয়ে ছিল ১-০ গোলে! লাল-সবুজ বাহিনীর জন্য এই ম্যাচটি মূলত এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের জন্য প্রস্তুতির। কেননা আগামী ১৮ নভেম্বর একই ভেন্যুতে ভারতের মুখোমুখি হবে হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যরা।
ম্যাচের আগে থেকে যিনি ছিলেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু, সেই হামজাই অল্পের জন্য হতে পারলেন না ম্যাচের নায়ক। দলের হয়ে তিনিই করেন জোড়া গোল। তাও আবার তিন মিনিটের ব্যবধানে!
চার ম্যাচ পর আবারও জয়ের মুখ দেখতে পারতো বাংলাদেশ। গত ৪ জুন ভুটানকে প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। আর নেপালকে হারাতে পারতো পাঁচ বছর পর, কাকতালীয়ভাবে এই মাঠেই এবং একই তারিখে (১৩ নভেম্বর)। সেটিও ছিল প্রীতি ম্যাচ! নেপালের সঙ্গে এ নিয়ে ২৬তম ম্যাচ খেললো বাংলাদেশ। তারা জিতেছে ১৩ ম্যাচে। নেপাল জিতেছে ৮ ম্যাচে। বাকি ৫ ম্যাচ ড্র হয়।
প্রথমার্ধটা ছিল বাংলাদেশের জন্য হতাশার। কেননা এই অর্ধে বলার মতো তেমন ভালো খেলতে পারেনি তারা। রক্ষণাত্নক, পরিকল্পনাহীন, এলোমেলো, ছন্নছাড়া ফুটবলের প্রদর্শনী! এজন্য দায়ী করা যেতে পারে কোচ ক্যাবরেরাকে। কেননা প্রথম একাদশে তিনি সাইডবেঞ্চে বসিয়ে রাখেন সামিত শোমকে। অথচ দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সামিতকে মাঠে নামানোর পরেই বাংলাদেশের দলের আক্রমণের ধার বেড়ে যায়। তার সুফলও মেলে হাতেনাতে। তিন মিনিটের মধ্যে আদায় করে নেয় দু-দুটো গোল! এবং প্রতিটি গোলই করেন বাংলাদেশ তথা এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার হামজা। লাল-সবুজের জার্সিতে এ পর্যন্ত তার গোলসংখ্যা ৪ (৬ ম্যাচে)।
খেলা শুরুর ২৯ মিনিটে আচমকা গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। কাউন্টার অ্যাটাকে দ্রুতগতিতে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন সুমিত শ্রেষ্ঠা। তিনি পাস দেন রোহিত চাঁদকে। তার এই পাস রুখতে পারেননি সোহেল রানা। রোহিত মাটি কামড়ানো শটে পরাস্ত করেন গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে (১-০)।
বিরতির পর একাদশে পরিবর্তন আনেন কোচ ক্যাবরেরা। জুনিয়র সোহেল রানাকে উঠিয়ে কানাডা প্রবাসী সামিত শোমকে নামান বাংলাশে কোচ। ৪৬ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের ক্রসে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় হেডের মাধ্যমে ফেরালে বল চলে যায় জামালের কাছে। এ মিডফিল্ডারের মাপা ভলিতে বক্সে থাকা হামজার চোখধাঁধাঁনো বাইসাইকেল কিক আশ্রয় নেয় নেপালের জালে, যা ছিল নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের গোল (১-১)।
৪৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে রাকিবকে ফেলে দেন নেপালের এক ফুটবলার। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান নেপাল খেলোয়াড়রা। তাতে লাভ হয়নি। নেপাল গোলরক্ষককে উল্টো দিকে ফেলে দিয়ে ঠান্ডা মাথায় ‘পানেনকা’ শটে গোল করেন হামজা (২-১)।
৮০ মিনিটে চোট পান হামজা। চলে যান সাইডবেঞ্চে। দর্শকরা প্রমাদ গোনেন। আশঙ্কা করেন-এই না আবার হামজাবিহীন বাংলাদেশ ম্যাচের শেষদিকে গিয়ে আবার গোল খেয়ে বসে। অথচ সেই আশঙ্কাই সত্য হয়! ম্যাচের সংযুক্তি সময়ে (৯০+৩ মিনিটে) কর্নার পায় নেপাল। জটলার মধ্যে বুদ্ধিদীপ্ত এক ব্যাকহিলে বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে স্তব্ধ করে দেন নেপালের অনন্ত তামাং (২-২)।
এর কয়েক মিনিট পরেই রেফারি খেলা শেষের বাঁশি বাজালে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া করে হতাশার ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশের ফুটবলাররা।