শেখ সাদী
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০০:৫৬ এএম
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০২:০০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
এশিয়া কাপে সুপার ফোরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে
টাইগাররা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত
হাইভোল্টেজ ম্যাচে ১ বল হাতে রেখেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। ব্যাট
হাতে সাইফ হাসানের পর তাওহিদ হৃদয় ঝড়ো ব্যাটিং উপহার দেন।
শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৬৯ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো
হয়নি লিটনদের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আরও একবার ব্যর্থ তানজিদ হাসান। আবারও শূন্য রানে
ফিরলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। নুয়ান থুসারার বল বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় লাইনেই যেতে
পারেননি তানজিদ। বল আঘাত হানে অফ স্টাম্পে।
১ ওভারে বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ২। ক্রিজে সাইফ হাসানের সঙ্গী লিটন
দাস। শুরুতেই তানজিদ ফিরে গেলেও নেতিবাচক প্রভাব দলের ওপর পড়তে দেননি সাইফ হাসান ও
লিটন দাস। দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছেন তারা। ষষ্ঠ ওভারে তাদের জুটি ২৮ বলে তোলে ৫০।
আর ৬ ওভারে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৫৯।
পাওয়ার প্লেতে নুয়ান থুসারার ৩ ওভারে ৩০ রান তোলে বাংলাদেশ। তবে লিটনের
বিদায়ে ভাঙে দ্রুত এগোনো জুটি। পাওয়ার প্লের পর আক্রমণে এসেই সাফল্য পান ওয়ানিন্দু
হাসারাঙ্গা। এই লেগ স্পিনারের বলে সীমানায় ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন দাস। ভাঙে ৩৪ বল
স্থায়ী ৫৯ রানের জুটি। ১৬ বলে তিন-চারে লিটন করেন ২১ রান।
৭ ওভারে বাংলাদেশের রান তখন ২ উইকেটে ৬২। ক্রিজে সাইফ হাসানের সঙ্গী
তাওহিদ হৃদয়। প্রথম ১০ ওভারে লড়াই হয়েছে প্রায় সমানে সমান। ১০ ওভারে বাংলাদেশের রান
২ উইকেটে ৮২। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩৬ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ৫০ তুলে নেন সাইফ। ১১ ওভারে
বাংলাদেশের রান তখন ২ উইকেটে ৮৮।
ফের আক্রমণে ফিরে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ফেরান সাইফ হাসানকে। ভাঙেন
আরেকটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি। ব্যাটের কোনায় লেগে শর্ট থার্ডম্যানে ধরা পড়েন সাইফ।
তাতে ভাঙে ৪৫ বল স্থায়ী ৫৪ রানের জুটি। ৪৫ বলে চার ছক্কা ও দুই চারে ৬১ রান করেন সাইফ।
১৪ ওভারে বাংলাদেশের রান তখন ৩ উইকেটে ১১৪। এরপর ৩১ বলে হৃদয় পঞ্চাশ তুলে নেন। তাকে
সঙ্গ দেন শামীম হোসেন। ১৭ ওভারে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৪৫।
তবে জয়ের খুব কাছে গিয়ে ৫৮ রানে বিদায় নেন হৃদয়। ৩৭ বলে চার বাউন্ডারি
ও দুই ছক্কায় ৫৮ রান করেন হৃদয়। শামীম তখন ১৪ রানে অপরাজিত। এরপর জাকের আলী ব্যাটিংয়ে
নেমে প্রথম বলেই করেন বাউন্ডারি। দারুণ শুরুর পর ৪ বলে ৯ রান করে বিদায় নেন তিনি। পরের
বলে মেহেদি বিদায় নেন। শেষ ২ বলে প্রয়োজন ১ রান। তখন নাসুম ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান তুলে
জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন। শামীম ১২ বলে অপরাজিত ১৪ রান করেন।
এর আগে দুবাইয়ে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৮ রান
তোলে লঙ্কানরা। প্রথম ৩ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে শ্রীলঙ্কা করে ২৮ রান। একাদশে
ফেরা পেসার শরিফুল নিজের প্রথম দুই ওভারে দেন ২৩ রান। পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম
বলে পাথুম নিসাঙ্কার ব্যাটে ছক্কা হজম করেন তাসকিন আহমেদ। তবে ওভারটি শেষ করেন হাসিমুখে।
টাইমিং করতে পারেননি লঙ্কান ওপেনার। ক্যাচ নেন সাইফ হাসান। ভাঙে ৩০ বল স্থায়ী ৪৪ রানের
উদ্বোধনী জুটি।
শ্রীলঙ্কার রান তখন ৫ ওভারে ১ উইকেটে ৪৪। এরপর কুসাল মেন্ডিস-ঝড় থামান
মেহেদি। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ নেন সাইফ হাসান। ২৫ বলে তিন ছক্কা ও এক
চারে ৩৪ রান করেন লঙ্কান ওপেনার। এবার মিশারাকেও ফেরান মেহেদি। পরপর দুই ওভারে দুটি
উইকেট তুলে নেন এই স্পিনার। ১১ বলে মিশারা করেন ৫ রান।
১০ ওভারে শ্রীলঙ্কার রান তখন ৩ উইকেটে ৭২। এবার কুসাল পেরেরাকে ফেরান
পেসার মুস্তাফিজ। ফিজের বল ব্যাটের কোনা ছুঁয়ে জমা পড়ে লিটন দাসের গ্লাভসে। ১৬ বলে
এক চারে কুসাল পেরেরা করেন ১৬ রান। আগ্রাসী ব্যাটিং করা দাসুন শানাকাকে ফেরানোর একটা
সুযোগ হাতছাড়া করেন শামীম হোসেন। জীবন পেয়ে ৩০ বলে শানাকা পঞ্চাশ পূর্ণ করেন। শেষ
পর্যন্ত এই লঙ্কান ৩৭ বলে তিন বাউন্ডারি ও ছয় ছক্কায় অপরাজিত ৬৪ রান করেন।
বল হাতে মুস্তাফিজ ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট। মেহেদি ৪ ওভারে
২৫ রানে দুটি উইকেটে পান। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ৪ ওভারে ৩৭ রানে নেন একটি উইকেট। শরিফুল
৪ ওভারে ৪৯ রান দিলেও উইকেট পাননি। এছাড়া নাসুম ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে থাকেন উইকেটশূন্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা : ২০ ওভারে ১৬৮/৭
বাংলাদেশ : ১৯.৫ ওভারে ১৬৯/৬
বাংলাদেশ : ৪ উইকেটে জয়ী