প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:০৩ পিএম
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:০৫ পিএম
নেদারল্যান্ডসকে হোয়াইটওয়াশ লজ্জায় ডুবাতে না পারলেও ব্যাটিং-বোলিংয়ে সক্ষমতা দেখিয়েছে টাইগাররা
এশিয়া কাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। আট জাতির টুর্নামেন্ট শুরু হতে দিন তিনেক বাকি। সবকিছু ঠিক থাকলে দুই-তিন দিনের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে উড়াল দেবেন লিটন দাসরা। তার আগে এশিয়া কাপের প্রস্তুতি হিসেবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে টিম টাইগার। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ বৃষ্টির বাধায় বাতিল হলেও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ ভাগিয়ে নিতে অসুবিধা হয়নি বাংলাদেশের।
এশিয়া কাপের আগে ডাচদের বিপক্ষে সিরিজ খেলার কোনো লক্ষ্যই
ছিল না বাংলাদেশের। কারণ এ সময়ে ভারত ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল। তবে বিসিসিআইয়ের
আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত সিরিজের সময় ও সূচি পরিবর্তন হয়। আর স্কট এডওয়ার্ডসের নেতৃত্বে
নেদারল্যান্ডস বিসিবির অতিথি হয়। ডাচদের বিপক্ষে লাল-সবুজ দলের মুখোমুখি দ্বিপাক্ষিক
সিরিজ বলে মনে হলেও আদতে তা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যাচাই-বাছাইয়ের সিরিজ। এশিয়া
কাপের জন্য ক্রিকেটাররা কতটা ফিট, নিজেদের মজুদে থাকা অস্ত্র কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা
করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
ম্যাচ শেষ কিংবা পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ
দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা ক্রিকেটার-কোচদের বারবারই বলতে শোনা গেছে, আন্তর্জাতিক ম্যাচ
মানেই আন্তর্জাতিক। ডাচদের বিপক্ষে প্রস্তুতি, যাচাই-বাছাইয়ে কোনো সুযোগ নেই। পারদপক্ষে
তা ছিল কথার কথা। কারণ সিরিজের প্রথম জয়ের পরও দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে তিনটি পরিবর্তনে
এনেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে সেটাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এদিন বাংলাদেশ খেলতে নেমেছিল
পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে। সবাইকে শেষবার পরখ করে নেওয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায়নি দল।
ডাচদের বিপক্ষে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ স্কোয়াডে সবাই সুযোগ
পেয়েছেন খেলার। এক্ষেত্রে পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনকে কপাল পোড়া বলতেই হয়। শেষ ম্যাচে
বৃষ্টির বাগড়ায় সক্ষমতা প্রমাণের সুযোগ পাননি তিনি। এ ছাড়া স্কোয়াডের বাকি ১৫ জনই সুযোগ
পেয়েছেন ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ে। বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজে প্রাপ্তির একটি বড় জায়গাÑ
যখন যে ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছেন, নিজেদের ভূমিকায় তারা অবদান রেখেছেন বেশ ভালোভাবেই।
অবধারিতভাবে দেশের ক্রিকেটে ওপেনিংয়ে সমস্যা ছিল। তামিম
ইকবালের বিদায়ের পর রোলারকোস্টারে চড়েছিল উদ্বোধনী সেক্টর। সেটা পারভেজ হোসেন ইমন ও
তানজিদ হাসানের কল্যাণে স্থিতিশীল পর্যায়ে। প্রায়ই ধারাবাহিক ব্যাটিং ওপেনিং জুটি।
শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান এবং সবশেষ ডাচদের বিপক্ষে ব্যাটিংশৈলতা দেখিয়েছেন দুই তরুণ। ইমন
দুই ম্যাচে ৩৮ রান নিয়েছেন। আর তানজিদের পেয়েছেন একটি ফিফটির দেখা। অবশ্য শেষ ম্যাচে
তাদের খেলানো হয়নি। সে জায়গায় সাইফ হাসানকে ওপেনিংয়ে সুযোগ দেওয়া হয়।
লিটন দাস প্রথম দুই ম্যাচে ওয়ানডাউনে খেলেছেন, তৃতীয়
ম্যাচে সাইফের সঙ্গে ওপেনিং করেছেন। আশাজাগানিয়া কথা, পাকিস্তানের সঙ্গে ফ্লপ হওয়া
এই টাইগার ক্যাপ্টেন রিদমে ফিরেছেন। দুই অর্ধশতকে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন।
সিরিজ-সেরার পুরস্কারও ভাগিয়েছেন। ক্যাপ্টেন ও উইকেটরক্ষক লিটনের জন্য এই সিরিজটি ছিল
আপন বলয়ে ফেরার।
বোলিং সেক্টরে দশে দশ পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। প্রথম ম্যাচে
৪ উইকেট আর দ্বিতীয় ম্যাচে ২ উইকেট তুলেছেন। নাসুম দ্বিতীয় ম্যাচে সুবিধা না করতে পারলেও
প্রথম ম্যাচে ২১ রান খরচায় তোলেন ৩ উইকেট। মোস্তাফিজুর রহমান বরাবরই কিপটে। প্রতিপক্ষকে
চেপে ধরার মোক্ষম সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। খুব বেশি উইকেট না তুলতে পারলেও নিজের সক্ষমতা
দেখিয়েছেন।
ডাচদের বিপক্ষে সব ঠিকঠাক করতে পেরেছেন ক্রিকেটাররা,
এই সিরিজে বাংলাদেশের প্রাপ্তিটাইবা কী? প্রশ্নটা করা হয়েছিল অধিনায়ক লিটনকে। তৃতীয়
ম্যাচ বাতিলের পর সিলেটে সংবাদ সম্মেলনের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় অনুশীলন
করাটা গুরুত্বপূর্ণ, তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলনের চেয়ে ম্যাচে আপনি কতটা
ডেলিভার করতে পারছেন। ম্যাচ খেললে আপনার উন্নতি হবে, গেম সেন্স বাড়বে। আমার মনে হয়,
আমরা এখন (এই সিরিজটা খেলার পর) ভালোভাবে প্রস্তুত এশিয়া কাপে যাওয়ার জন্য।’
এশিয়া কাপ সামনে রেখে মাস দেড়েকের একটি প্রস্তুতি ক্যাম্পও
করেছে বাংলাদেশ। ফিটনেস দিয়ে সেটি শুরু হওয়ার পর মিরপুর ও সিলেটে হয়েছে ব্যাট-বলের
অনুশীলন। এই ক্যাম্পের মতো প্রস্তুতি লিটন ‘কখনও দেখেননি’। এর পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে
সিরিজটাও ভালো কেটেছে বাংলাদেশের। এখন দেখার বিষয় এশিয়া কাপটা কেমন কাটে লিটনদের।