টি-টোয়েন্টি সিরিজ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৫ ২১:১৩ পিএম
দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজ জয়ের মিশনে মাঠে নামছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।
সিরিজের প্রথম ম্যাচেই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। লিটন দাসের ঝলমলে অর্ধশতক, তাসকিন আহমেদের আগ্রাসী বোলিং এবং সাইফ হাসানের ফিরে নিজেকে জানান দেওয়া। সব মিলিয়ে লাল-সবুজের পারফরম্যান্স ছিল চোখধাঁধানো। বিশেষ করে, গত দশ দিনের নিবিড় প্রস্তুতির ছাপ দেখা গেছে টাইগারদের খেলায়। ব্যাটে-বলে গা-ঝাড়া দিয়ে যেন নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে বাংলাদেশ। এমন পারফরম্যান্সই দেখতে চায় টাইগার সমর্থকরা।
আগামীকাল দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজ জয়ের মিশনে মাঠে নামছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন
বাংলাদেশ। সিরিজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই ম্যাচ তাদের জন্য এশিয়া কাপের প্রস্তুতি
হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। দল চাইবে একই ছন্দ ধরে রেখে আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের
মুখোমুখি হতে। প্রথম ম্যাচে যেমনভাবে খেলেছে বাংলাদেশ, তেমনি আরেকটি দাপুটে পারফরম্যান্স
দেখাতে পারলে সিরিজ নিজেদের করে নিতে পারবে টাইগাররা।
এশিয়া কাপের আলোচনায় নুরুল হাসান যতটা ছিলেন, সাইফ হাসান ততটা ছিলেন
না। যে কারণে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ দলে ‘চমক’ বলতে গেলে সাইফই। প্রায় দুই বছর আন্তর্জাতিক
ক্রিকেট থেকে দূরে থাকা সাইফকে মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে নেওয়ার পেছনে তার একাধিক জায়গায়
ভূমিকা রাখার সামর্থ্যে আস্থা রাখার কথা বলেছিলেন নির্বাচকরা। সাইফ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন
তার প্রত্যাবর্তনের পেছনে অবদান আছে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীনের।
আজ ঐচ্ছিক অনুশীলনের আগে সিলেটে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে
আসেন সহকারী কোচ সালাহউদ্দীন। সাইফের ফেরা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আপনাদের
আমি আগেও অনুরোধ করেছি, কাউকে খুব তাড়াতাড়ি আকাশে তুলে ফেলবেন না। কাউকে এত তাড়াতাড়ি
নিচেও নামিয়ে ফেলবেন না।’
সাইফের ফেরাটা কিছুটা অবাক করার মতোই। টেস্ট ওপেনার এখন নিজেকে জানান
দিচ্ছেন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও। ধৈর্যেরই সুফল পাচ্ছেন সাইফ বলে মনে করেন সালাহউদ্দীন,
‘উন্নতি তো সব সময় করতে হবে। কিন্তু তার চেষ্টা ছিল, সে নিজেকে অন্য জায়গায় দেখতে
চেয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রথম ৬-৭ ম্যাচে সে ব্যর্থ হয়েছে। সেখান থেকে মানসিকভাবে আবার
ঘুরে দাঁড়ানোÑ এটা আসলে কঠিন কাজ। সে ধৈর্য ধরেছে। একজন মানুষ কত দিন ধৈর্য ধরে। সে
গত ৪-৫ বছর ধরেছে। এ সুফল এখন সে পাচ্ছে, ভবিষ্যতে হয়তো আরও ভালো করবে।’
সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মের অ-ধারাবাহিকতা নিয়ে কম সমালোচিত হননি লিটন দাস। তবে নেদারল্যান্ডস সিরিজের প্রথম ম্যাচে লিটনের রানে ফেরাটা স্বস্তির।সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন বলেছিলেন, ‘লিটন অসাধারণ ব্যাটিং করেছে মাশা-আল্লাহ। আসলে লিটনের ভালো খেলা বা ফর্মে থাকাটা আমাদের দলের জন্য অনেক জরুরি।’
জয়ের জন্য দলের প্রতিটি বিভাগেই সক্রিয় হওয়া জরুরি বলে মনে করেন তাসকিন,
‘স্পোর্টিং কন্ডিশনে যেকোনো এক সাইড দিয়ে জেতা কখনোই সম্ভব না। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং–
সবই লাগে। আর আমাদের মতো দলে তো সব ক্ষেত্রে অবদানটা আরও বেশি লাগে। তাই এটা খুব ভালো
লক্ষণ যে ব্যাটিং ভালো হচ্ছে, বোলিংও ভালো হচ্ছে।’