টি-টোয়েন্টি সিরিজ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৫ ২০:২৩ পিএম
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৫ ২০:২৫ পিএম
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দল। এই সফরের মধ্য দিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ডাচরা বাংলাদেশের মাটিতে। যদিও এর আগে ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে একবার বাংলাদেশে এসেছিল তারা। সেবার সিলেটে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২৫ রানে জয় পেয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে সেটা ছিল টুর্নামেন্ট ভিত্তিক ম্যাচ, দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নয়। পেছনে ফিরে দেখলে টি-টোয়েন্টিতে নেদারল্যান্ডসের জন্য বাংলাদেশের বিপক্ষে সাফল্যের গল্প খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে পাঁচবার। এর মধ্যে মাত্র একবার (২০১২) জয়ের দেখা পেয়েছে ডাচরা।
এবারের সিরিজটি
বাংলাদেশের জন্য আসন্ন এশিয়া কাপের প্রস্তুতি হিসেবেই ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের
জন্য এটি উপমহাদেশের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার বড় সুযোগ, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
সামনে রেখে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়াবে ৩০ আগস্ট, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো ছোট দল নেই। আমরা সব সময় খেলি জেতার জন্য। অতীতে বা ভবিষ্যতেও যতগুলো ম্যাচ খেলব, সব জেতার জন্যই। বাংলাদেশ এর আগেও অনেক দলের কাছে হেরেছে, নতুন কিছু নয়। যদি হেরেও যাই, হেরে যেতেই পারি।’
একাদশের বাইরের ক্রিকেটারদের পরীক্ষার
একটা মঞ্চ হিসেবেও কি নেদারল্যান্ডস সিরিজকে কাজে লাগাবে বাংলাদেশ? এমন প্রশ্নের উত্তরে
লিটন বলেন, ‘যদি আমাদের হাতে ওই সুযোগ থাকে কিছু খেলোয়াড় দেখার,
আমরা দেখব। কিন্তু একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনাকে জেতার জন্যই যেতে হবে।’
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাংলাদেশের দু-আড়াইশ রানের জন্য ব্যাট করার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে লিটন বলেন, ‘আপনি যে কথাটা বললেন যে ২০০-২৫০ রান করাটা একটা অভ্যাসেরও বিষয়। আমরা যদি করতে পারি, খুবই ভালো। না করতে পারলেও আমরা ওই ধারাবাহিকতা চেষ্টা করব যে ওইখানে কীভাবে পৌঁছানো যায়।’
সিলেটের প্রস্তুতি আবুধাবিতে কাজে আসবে বলেও বিশ্বাস লিটনের, ‘এশিয়া কাপে যখন খেলব, ভিন্ন দল থাকবে। সেই দল তো আমরা এখানে আনতে পারব না। কিন্তু ওখানকার কাছাকাছি কন্ডিশন থাকবে, আমার কাছে মনে হয়। কারণ, আমরা সবাই জানি, আবুধাবি ব্যাটিং-সহায়ক উইকেট হয়। সিলেটও অনেকটাই ব্যাটিং-সহায়ক উইকেট।’
তার আগে প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে এলেন ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। সংবাদ সম্মেলনে এডওয়ার্ডস বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই, সব সিরিজেই জেতার জন্যই যাই আমরা। এখানে আশা করছি বেশ ভালো ক্রিকেট হবে। চেষ্টা থাকবে নিজেরা যেন ভালো করতে পারি।’
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে
বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেয়ে আত্মবিশ্বাস পেয়েছে কি নাÑ এমন প্রশ্নের উত্তরে এডওয়ার্ডস
বলেন, ‘আসলে আমার মনে হয় এই স্কোয়াডের মাঝে অনেক আগে থেকেই বিশ্বাস আছে। বিশ্বকাপে,
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সবাই অনেক চাপের ম্যাচ খেলেছে। সবাই নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে
সামর্থ্যটা বুঝিয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে, আমরা নির্দিষ্ট দিনে
যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখি।’
বাংলাদেশের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে আসা কতটা রোমাঞ্চকর, সে প্রশ্নের জবাবে ডাচ অধিনায়ক বলেন, ‘বিসিবির আমন্ত্রণে এখানে আসতে পেরে আমরা আনন্দিত। এটা আমাদের জন্য বিশ্বকাপের আগে ভালো প্রস্তুতি, আবার বাংলাদেশের জন্য এশিয়া কাপের প্রস্তুতি।’
এখনও সিলেটের
উইকেট না দেখলেও উইকেট নিয়ে আশাবাদী এডওয়ার্ডস বলেন, ‘আশা করি, উইকেট ভালোই হবে। বাংলাদেশ
নিজেদের মাঠে অনেক শক্তিশালী দল। তাদের মান এবং শক্তি সম্পর্কে আমরা জানি। তাদের হারাতে
হলে আমাদের খুব ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে
টাইগারদের পেস ইউনিট নিয়েও মন্তব্য করেন ডাচ অধিনায়ক। জানান, বাংলাদেশের পেস ইউনিট
খুবই অভিজ্ঞ এবং বৈশ্বিক মানের। তাদের বোলাররা বিশ্বজুড়ে সফল। আমাদের দল তাদের সামলানোর
জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সিরিজের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ সময় আমরা ২-৩টি অনুশীলন সেশনেই নিজেদের প্রস্তুত করি। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। জানি, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ কঠিন হবে। কিন্তু জয়ের জন্য আমাদের নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতেই হবে।’
স্মরণ করিয়ে দেওয়া
হয় ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্মৃতি, যেখানে সিলেটেই রানরেটের হিসেবে দ্বিতীয়
রাউন্ডে জায়গা করে নেয় নেদারল্যান্ডস। সেসময়ের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ নিয়ে এডওয়ার্ডস বলেন,
‘আমি তখন দলে ছিলাম না, তবে যারা খেলেছিল তারা আমার বন্ধু। এটি ডাচ ক্রিকেট ইতিহাসের
অন্যতম স্মরণীয় এক জয় ছিল।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশে তার প্রথম সফর হলেও বাংলাদেশ নিয়ে তার আগ্রহ ও সম্মান স্পষ্ট। সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসানকে নিয়েও কথা বলেন এডওয়ার্ডস। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, সাকিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে তো দারুণ একজন ক্রিকেটার, যদিও এখন দলে নেই।’
সংবাদমাধ্যমের
সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এই সিরিজে জয় নিয়েই মাঠে নামবে তার দল। এডওয়ার্ডস বলেন,
হ্যাঁ, অবশ্যই সব সিরিজেই জয়ের জন্যই যাই আমরা। এখানেও ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টা থাকবে।
নিজেদের পারফরম্যান্সেই জিততে চাই।’