লা লিগা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ২০:৪৭ পিএম
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ২১:০৪ পিএম
লা লিগায় টানা দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেলো সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ফুটবল যোদ্ধারা
জাবি আলোনসো হয়তো একটু বাজিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন, কেন কী কারণে গোল মুখ খুলতে ব্যর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রদ্রিগোরই-বা সমস্যা কোথায়। বেঞ্চ প্লেয়ার হিসেবে তকমটা যে একদমই সেঁটে গেছে ব্রাজিল পোস্টারবয়ের। তবে ২০২৫-২৬ মৌসুমে লা লিগায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওভিয়েদোর বিপক্ষে শুরুর একাদশ পরিবর্তন করে ভিনির জায়গায় সুযোগ পান স্বদেশি রদ্রিগো, ভালভার্দের স্থানে ফ্রাংকো মাস্তানতুনো। তাতেই টানা দ্বিতীয় সফলতা পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
ওসাসুনার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে লা লিগায় প্রমোশন
হওয়া রিয়াল ওভিয়েদোর বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয় পেয়েছে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর যোদ্ধারা।
ম্যাচে দুটি গোল করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে। অন্যটি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এ ম্যাচের
মাধ্যমে রিয়ালের স্পেন কোচ বুঝিয়ে দিলেন, দলের কারোই জায়গা স্থায়ী নয় আবার ক্ষণস্থায়ীও
নয়। দলের প্রয়োজনে তিনি যখন খুশি যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত দেড়টায় ওভিয়েদোর মাঠে খেলতে নামে লস ব্লাঙ্কোসরা।
অচেনা মাঠ সে সঙ্গে ওভেইদাও ছিল অচেনা প্রতিপক্ষ। কারণ গত মৌসুমে ভালো করে নতুন মৌসুমে
তারা লা লিগায় প্রমোশন পেয়েছে। যদিও ম্যাচের দুই অর্ধেই তারা ধুঁকেছে। তবে প্রথমার্ধের
তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা হলেও গোছানো ফুটবল উপহার দিয়েছে। প্রথমার্ধে যেখানে মাত্র
২৭ শতাংশ বল দখলে রাখতে সক্ষম হয়, সেখানে দ্বিতীয়ার্ধে তারা ছোট ছোট পাস আর রিয়ালের
দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তা উন্নতি করে ৪৫ শতাংশে।
এদিন ওভিয়েদো সীমান্তে মোট ১৭ বার শট নেয় রিয়াল। আর অন টার্গেটে ছিল
৫টি। দুবার বড় সুযোগ তৈরি হয়। দ্বিতীয়ার্ধে মোট ৯ শটের ৫টি ছিল অন টার্গেটে। তবে বেশিরভাগ
শট ছিল দুর্বল; যা ওভিয়েদোর গোলরক্ষক অ্যারন এস্কেনদাল ভালোভাবেই রুখে দেন।
এদিন ম্যাচের ডেডলট ভাঙে ৩৭তম মিনিটে, এমবাপে গোল করলে। চুয়ামেনি দারুণ এক ট্যাকেলে বল ছিনিয়ে নেয় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের পা থেকে। তা সুন্দরভাবে আয়ত্তে নেন আর্দা গুলেয়ের এবং তা এমবাপেকে পাস দেন এবং সে পাসের সূত্র ধরে জল কাঁপান ফরাসি ফরোয়ার্ড। এর আগে অবশ্য বেশ কিছু বিক্ষিপ্ত আক্রমণ হয় রদ্রিগো-ভিনির পা থেকে।

প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে লিডের পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া
হয়ে ওঠে সফরকারীরা। ৮২ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে গোল দ্বিগুণ করেন এমবাপে। তৃতীয়
গোলটি নিজেই করেন ব্রাজিল তারকা। ব্রাহিম দিয়াজ ডান দিক থেকে ভেতরে কেটে এসে বক্সে
বল বাড়ান, আর ভিনিসিয়ুস নিখুঁতভাবে বল ঠেলে দেন বক্সের ডানদিকের নিচের কোনায়। তাতেই
৩-০ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল।
ম্যাচ শেষে জাবি আলোনসো বলেন, ‘আমরা টিম হিসেবে খেলেছি। ম্যাচটি আমি
বিশ্লেষণ করেছি। ওভিয়েদো ছিল অচেনা, তাদের ডিফেন্স রেখেছিল সংরক্ষিত। দ্বিতীয়ার্ধে
তারা কিছুটা ওপরে উঠে খেলেছে। সে সুযোগ কাজে লাগিয়েছি আমরা।’
রিয়ালের মতো নম্বর টেন এমবাপেরও শুরু মনোমুগ্ধকর। দুই ম্যাচে তিনটি
গোল করেছেন তিনি। ফরাসি ফরোয়ার্ডের সাফল্যের রহস্য ব্যাখ্যায় কোচ বলেন, ‘সে (এমবাপে)
চার কেজি ওজন বাড়িয়েছে। এর আগে ক্লাব বিশ্বকাপে সে চার কেজি ওজন কমিয়েছিল। তাকে দেখতে
পরিপাটি এবং ভালো দেখাচ্ছে। যখন আমরা এসব মানিয়ে চলতে পারব। তখনই ভালো করতে পারব।’
ম্যাচে কিছুটা বিতর্ক জন্ম দেয় ৩৭ মিনিটে চুয়ামেনির ট্যাকেল ঘিরে।
কড়া ট্যাকেল অনেকেই দাবি করেন এটি ফাউল ছিল। যা থেকে নিজেদের প্রথম গোল আদায় করেন এমবাপে।
এ নিয়ে ওভিয়েদোর ম্যানেজার ভেজকো পাউনোভিচ বলেন, ‘রেফারি নিয়ে কথা বলতে চাই না। এ ব্যাপারে
কোনো মতামতও দিতে চাই না। আমার মনে হয়েছে মাদ্রিদের খেলোয়াড় সেখানে পৌঁছেছে, কিন্তু
সে (কোচ) আমাদের খেলোয়াড়কেও নামিয়ে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সেই দল যা মাত্র প্রমোশন পেয়েছে এবং আমাদের সম্মান
অর্জন করতে হবে। কেউ সেটি আমাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেবে না।’