সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১৫:৩০ পিএম
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৫ ২০:৫২ পিএম
শেখার মঞ্চে লড়াই শুরু, আজ ভুটানে প্রথম পরীক্ষায় লাল-সবুজের কিশোরীরা
সর্বশেষ কয়েক বছরে সাফ টুর্নামেন্টে দারুণ সফল বাংলাদেশের মেয়েরা। পরপর দুবার সিনিয়র সাফ জেতার পর জুলাইয়ে ঘরের মাঠে কিংস অ্যারেনায় অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। আরেকটি সাফের আসরে আজ মাঠে নামছে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল। এদিন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভুটান। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়। চার দলের টুর্নামেন্টে খেলা গড়াবে এক দিন বিরতি দিয়ে। বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচের আগে বেলা ৩টায় নেপালকে মোকাবিলা করবে ভারত। আসরের সবগুলো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে।
২০২৪
সালে এই আসরটি মাঠে গড়িয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে। নেপালে অনুষ্ঠিত আসরে চ্যাম্পিয়ন
হয় বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে ১-১ গোলের পর টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জেতে লাল-সবুজের মেয়েরা।
অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে ২০২৩ সালে একবারই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেবার চ্যাম্পিয়ন
হয় অতিথি হিসেবে খেলা রাশিয়া। তবে অনূর্ধ্ব-১৫ ফরম্যাটে সাফ মাঠে গড়িয়েছে চারবার। প্রথমবার
২০১৭ সালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ, পরের দুবার ভারত; আর ২০২২ সালে বাংলাদেশকে
কাঁদিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে নেপাল।
ভুটানে
এবারও ভালো কিছু করার প্রত্যয় দলের অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাসের। সেজন্য তারা ম্যাচ বাই
ম্যাচ খেলার ছকে হাঁটবেন টুর্নামেন্টে। মঙ্গলবার ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্পিতা
বলেন, ‘আমাদের টিমটা মাত্র দেড় মাসের। তো আমরা সবাই এতদিন হার্ডওয়ার্ক করেছি এবং চেষ্টা
করব ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলার এবং ভালো খেলার। আমাদের এখান থেকে অনেক কিছু শেখার আছে,
চেষ্টা করব প্রত্যেকটা ম্যাচ থেকে শিখতে এবং পরের ম্যাচে সেটা কাজে লাগাতে।’
এর আগে
ঘরের মাঠে অনূর্ধ্ব-২০ সাফের আগেও কোচ পিটার বাটলার বলেছিলেন, ‘এ-ধরনের টুর্নামেন্ট
আমরা খেলি কেবল জয়ের জন্য না, এখান থেকে ভবিষ্যৎ খেলোয়াড় বের করে আনাই বড় লক্ষ্য।’
ব্রিটিশ কোচের দেখানো পথে যেন হাঁটতে চাইছেন অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হেড কোচ মাহবুবুর রহমান
লিটু, ‘আমরা আসলে দীর্ঘ দেড় মাস ধরে অনুশীলন করেছি। আমাদের প্রস্তুতি ভালো। আপনারা
জানেন অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ডেভেলপমেন্টের জায়গা। এটা আমাদের লার্নিং প্রসেস, এখান
থেকে আমাদের মেয়েরা অনেক কিছু শিখবে।’
শেখার
প্রসঙ্গে লিটু উল্লেখ করেন বাংলাদেশ সিনিয়র নারী ফুটবল দলের কথা। পরপর দুটি সাফ জয়ের
পর প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে। এ ছাড়া অনূর্ধ্ব-২০ দলও
আগামী বছর থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। যে কারণে শেখার
যে একটা প্রসেস চলমান সেটি মনে করিয়ে দিয়ে লিটু বলেন, ‘জানেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল
ডে বাই ডে অনেক উন্নতি করছে। আমি বিশ্বাস করি এখান থেকেও শেখার অনেক জায়গা আছে। এখানে
ভালো করার অনেক জায়গা আছে।’
ভুটানে
যে দলটি নিয়ে গেছে বাংলাদেশ সেখানে আছেন সুরভী আকন্দ প্রীতির মতো সিনিয়র দলের খেলোয়াড়।
এ ছাড়া অর্পিতা বিশ্বাসও সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়ন দলে ছিলেন। ওই দলের বেশ কয়েকজন
খেলোয়াড়ই আছেন বর্তমান দলটিতে। কেবল ৯ জন একদম নতুন খেলায়াড়। যে কারণে এই দলের মধ্যে
শক্তির জায়গা হিসেবে আক্রমণকেই বেছে নিয়েছেন লিুট। যেখানে স্বাভাবিকভাবেই নেতৃত্ব দেবেন
প্রীতিÑ ‘এখানে আমার শক্তির জায়গা হচ্ছে আক্রমণভাগ। এই জায়গায় গতবারের সেটআপ আছে। আশা
করি আমাদের মেয়েরা ভালো করবে।’
তবে
ভুটানের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে জেতাটা সহজও হবে না। বয়সভিত্তিক দলগুলোর সাধারণত শক্তি,
দুর্বলতা জানার সুযোগ কম থাকে। নিজেদের ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনে জেতার আত্মবিশ্বাস
ভুটানের কোচ লবজাং দর্জির কণ্ঠে, ‘আমি বিশ্বাস করি ভুটানে দর্শকদের উৎসাহ আমাদের দলের
জন্য সব সময়ই থাকবে। যে কারণে ঘরের মাঠে খেলা সুবিধাজনক। আর আমরা সব সময় ঘরের মাঠের
সুবিধা গ্রহণ করেছি এবং ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছি।’