প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ১৫:৪২ পিএম
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ১৫:৪৩ পিএম
অস্ট্রেলিয়ান সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ বব সিম্পসন ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের কিংবদন্তি অধিনায়ক ও কোচ বব সিম্পসন ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। খেলোয়াড়ি জীবন থেকে শুরু করে কোচিং ক্যারিয়ার—দুটি ক্ষেত্রেই তার অবদান ছিল অসামান্য। বিশেষ করে ১৯৮০ ও ৯০–এর দশকে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের পুনরুত্থানে সিম্পসনের কোচিং ভূমিকা ছিল নির্ধারক। অ্যালান বোর্ডার ও মার্ক টেইলারের অধিনায়কত্বে তার তত্ত্বাবধানে গড়া দল বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য ফিরে পায়।
বব সিম্পসনের প্রয়াণে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ড শোক প্রকাশ করে বলেন, “বব সিম্পসন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের মহারথীদের একজন। তাকে খেলতে দেখা কিংবা তার জ্ঞানের সুফল ভোগ করা যেকোনো মানুষের জন্য আজকের দিনটি নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক।” সিম্পসন ছিলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি পূর্ণ মেয়াদে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আইসিসির ‘হল অব ফেম’-এ স্থান পান তিনি।
১৯৫৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় বব সিম্পসনের। ৬২ টেস্টে ৪,৮৬৯ রান করা এই ডানহাতি ব্যাটার গড়েছিলেন ৪৬.৮১ গড়, হাঁকিয়েছিলেন ১০টি সেঞ্চুরি ও ২৭টি হাফসেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারের শুরুতে অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ার নির্ভরযোগ্য ওপেনার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৬৪ সালে এক মৌসুমেই করেন ১,৩৮১ রান, যা ছিল সে সময়ের রেকর্ড। ওই বছরই ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে খেলেন ক্যারিয়ারসেরা ৩১১ রানের ইনিংস। এরপর আরও কয়েকটি ডাবল সেঞ্চুরিও করেন।
বব সিম্পসন ও বিল লরির ওপেনিং জুটি ছিল প্রতিপক্ষ দলের জন্য এক আতঙ্ক। তারা একসঙ্গে ৬২ ইনিংসে গড়েন ৩,৫৯৬ রান, যা দীর্ঘ সময় টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি হিসেবে অক্ষুণ্ণ ছিল। লেগস্পিনার হিসেবেও সিম্পসন ছিলেন দারুণ কার্যকর। টেস্টে ৭১ উইকেট নেওয়া এই বোলারের ঝুলিতে রয়েছে দুটি পাঁচ উইকেটের কীর্তি। ১৯৬৮ সালে ভারতের বিপক্ষে নিজের শেষ টেস্ট ম্যাচেই তুলে নেন ক্যারিয়ারসেরা ৮ উইকেট, যার মধ্যে ছিল এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট।
প্রথমবার ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ১৯৭৭ সালে, ৪১ বছর বয়সে আবারও মাঠে ফেরেন সিম্পসন। সে সময় অস্ট্রেলিয়ার একাধিক তারকা খেলোয়াড় ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটে যোগ দেওয়ায়, জাতীয় দলের হাল ধরতে হয় তাকেই। ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন তিনি। এরপর তিনি চূড়ান্ত বিদায় নেন ক্রিকেট থেকে।