সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৫৪ পিএম
আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৫৭ পিএম
গেল মাসে ঘরের মাঠে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ সাফের আসর বসে ঢাকার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। ১১ দিনের টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ওই টুর্নামেন্ট শেষে ১০ দিনের মাথায় এএফসি উইমেনস অ-২০ এশিয়ান কাপে খেলে মূলপর্বে কোয়ালিফাই করে পিটার বাটলারের দল। এবার আরেকটি সাফের মিশন শুরু হচ্ছে মেয়েদের। সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে আজ ভুটান গিয়েছে বাংলাদেশ।
সাফের আগে গতকাল বৃহস্পতিবার
বিকালে টুর্নামেন্টের জন্য ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল
ফেডারেশন (বাফুফে)। গত বছর অনূর্ধ্ব-১৬ সাফে খেলা ১৫ জনই আছেন এই দলে। নতুন আটজন হলেনÑ
রিয়া, প্রতিমা রানী, জবা রানী, সুরভী রানী, মামনী চাকমা, ঈশিতা ত্রিপুরা, পূর্ণিমা
মারমা, আমেনা খাতুন। দলটির অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস।
চলতি বছরে এখনও কোনো ম্যাচ
খেলেনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল। ২০২৪ সালে সাফে চার ম্যাচের চারটিতে জেতে
তারা। সেই প্রতিযোগিতায় ভারতের সঙ্গে খেলা ফাইনালই মেয়েদের সর্বশেষ ম্যাচ।
জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ
পিটার বাটলার গত ১১ আগস্ট লাওসে অনূর্ধ্ব-২০ দলের খেলা শেষে ছুটিতে গেছেন। আগস্টের
বাকি সময় তিনি ছুটিতে থাকবেন। কোচ হিসেবে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের সঙ্গে ভুটান যাবেন মাহবুবুর
রহমান।
বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও
নেপালÑ এই চার দেশ নিয়ে ২০ থেকে ৩১ আগস্ট থিম্পুতে হবে এই টুর্নামেন্ট। রাউন্ড রবিন
পদ্ধতিতে এক দল অন্য দলের সঙ্গে দুটি করে ম্যাচ খেলবে। এরপর সর্বোচ্চ পয়েন্টধারীর হাতে
উঠবে ট্রফি। এর আগে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-২০ সাফে অংশ নেয়নি ভারত। ওই টুর্নামেন্টে
খেলা শ্রীলঙ্কা থাকছে না অ-১৭ সাফের এই আসরে।
২০ আগস্ট ভুটান ম্যাচ দিয়ে
টুর্নামেন্ট শুরু করবে বাংলাদেশ। এক দিন বিরতি দিয়ে ২২ আগস্ট দলটির প্রতিপক্ষ ভারত।
২৪ ও ২৭ আগস্ট পর পর দুই ম্যাচে নেপালকে মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ। ২৯ আগস্ট ভুটান এবং
৩১ আগস্ট আবার ভারতের মুখোমুখি হবে মেয়েরা। সবগুলো ম্যাচ থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে।
এই টুর্নামেন্টের বর্তমান
চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। সাতবার অংশ নিয়ে দুবার ট্রফি জিতেছে তারা। বাংলাদেশের সমান দুবারের
চ্যাম্পিয়ন ভারত। এ বছর অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ের টুর্নামেন্ট হলেও ২০১৭ সালে প্রথম আসর
থেকে চতুর্থ আসর পর্যন্ত হয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ে। এরপর ২০২৩ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ও
২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাফের এই প্রতিযোগিতা।
ক’দিন আগে বাফুফের কার্যনির্বাহী
কমিটির সদস্য এবং নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেছিলেন ক্যাম্পে থাকা
নারী ফুটবলারদের কখনোই পাঙাশ মাছ খাওয়ানো হয় না। গতকাল সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের
সংবাদ সম্মেলনেও আলোচনায় পাঙাশ। এবার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস বললেন,
‘না কখনো পাঙাশ মাছ দেওয়া হয় না।’
দীর্ঘদিন ধরে নারী ফুটবলের
টিম স্পনসর ঢাকা ব্যাংক। তাদের সঙ্গে বাফুফের চুক্তি কত দিনের এবং কী পরিমাণ অর্থ তারা
ফেডারেশনকে দিচ্ছে, সেটা জানতে প্রসঙ্গক্রমে পাঙাশের কথা চলে আসে। ঢাকা ব্যাংক এত
টাকা দিলে মেয়েরা কেন ক্যাম্পে পাঙাশ মাছ খায়? এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে একটু
রেগেমেগেই উত্তর দেন মাহফুজা আক্তার, ‘অর্পিতা এখানে বসা আছে, জিজ্ঞেস করেন ওরা পাঙাশ
মাছ খায় নাকি।’এরপরই এক লাইনে অর্পিতার উত্তর, ‘না কখনও পাঙাশ মাছ দেওয়া হয় না।’
২৩ সদস্যের বাংলাদেশ স্কোয়াড
:
ইয়ারজান বেগম, মেঘলা রানী,
মমিতা খাতুন, শিউলি রায়, তানিয়া আক্তার, অর্পিতা বিশ্বাস (অধিনায়ক), ফাতেমা আক্তার,
উম্মে কুলসুম, আরিফা আক্তার, মোসাম্মৎ আলমিনা, রেশমি আক্তার, থুইনুয়া মারমা, সুরভী
আকন্দ, ক্রানুচিং মারমা, রিয়া, আলফি আক্তার, প্রতিমা রানী, জবা রানী, সুরভী রানী, মামনি
চাকমা, ঈশিতা ত্রিপুরা, পূর্ণিমা মারমা ও আমেনা খাতুন।