৪-৩ ব্যবধানে টাইব্রেকারে নাটকীয় জয় পিএসজির
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৪৭ পিএম
সুপার কাপ ফাইনালে শিশু ও বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধের প্রতীকী প্রতিবাদ। ছবি: এএফপি
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিদিনই বেসামরিক মানুষ, বিশেষত শিশুদের মৃত্যুর খবর সামনে আসছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মহল থেকে এই মানবিক সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে, যার প্রতিধ্বনি এবার শোনা গেল ইউরোপিয়ান সুপার কাপে। উয়েফার দুই শীর্ষ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়নদের এ লড়াই। একদিকে ফেভারিট ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) অন্যদিকে ইউরোপা লিগজয়ী টটেনহ্যাম হটস্পার।
ইতালির উদিনেতে ব্লুনার্জি
স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ইউরোপিয়ান সুপার কাপ ফাইনাল। ম্যাচ শুরুর আগে ব্যতিক্রমী এক
মুহূর্তে দুই দলের খেলোয়াড়দের সামনে প্রদর্শন করা হয় ‘শিশু ও বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধ করো’ লেখা ব্যানার। যদিও এতে কোনো দেশের নাম উল্লেখ ছিল না, তবে গাজায়
শিশু হত্যার প্রেক্ষাপটে বার্তাটির তাৎপর্য ছিল স্পষ্ট।
মানবিক এই বার্তা শুধু
খেলা শুরুর আগেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ম্যাচ শেষে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে দেখা যায় গাজা উপত্যকার
দুই ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিশুকে, যারা উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফারিনের পাশে দাঁড়িয়ে
ছিল। ‘উয়েফা ফাউন্ডেশন ফর চিলড্রেন’ এর আমন্ত্রণে তারা উপস্থিত ছিল ২০২৫ সালের সুপার কাপ ফাইনালে। পরে
উয়েফার অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে তাদের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে জানানো হয়, “ফিলিস্তিনি দুই শরণার্থী শিশু উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফারিনের
পাশে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানের সময় দাঁড়িয়ে আছে।”
উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী,
মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তবে এবারের বার্তাটি ছিল মানবিক আবেদনমূলক।
নির্দিষ্টভাবে কোনো দেশের নাম না উল্লেখ করেও বিশ্বজুড়ে চলমান সহিংসতা ও শিশু হত্যার
বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ জানায়, শুধু ফিলিস্তিন
নয়, ইরাক ও আফগানিস্তান থেকেও শরণার্থী শিশুদের নিয়ে আসে উয়েফা। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের
শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতীকী প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে।
চলতি মাসের ৭ তারিখে
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) জানায়, দক্ষিণ গাজার রাফা এলাকায় মানবিক সহায়তার
জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান ফিলিস্তিনের তরুণ ফুটবলার সুলাইমান।
‘ফিলিস্তিনের পেলে’ নামে পরিচিত ছিলেন এ ফুটবলার। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে শোক জানান
মিসরীয় তারকা মোহাম্মদ সালাহ। নিজের এক্স হ্যান্ডলে সুলাইমানের ছবি পোস্ট করে তিনি
প্রশ্ন করেন, “আপনারা কি বলতে পারবেন সে কোথায়, কীভাবে এবং কেন
মারা গিয়েছে?”
এই মানবিক বার্তাবাহী
আয়োজনের মধ্যেই জমজমাট ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করেছে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা। দুই ইউরোপিয়ান
প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়নদের লড়াইয়ে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামে পিএসজি। ম্যাচের শুরুতেই
দারুণভাবে চমকে দেয় টটেনহ্যাম। প্রথমার্ধের ৩৯তম মিনিটে মিকি ভ্যান দে ভেনের গোলে লিড
নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে (৪৮ মিনিটে) ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সদ্য অধিনায়কত্ব
পাওয়া আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। পেদ্রো পারোর ফ্রি-কিক থেকে মাথা
ছুঁয়ে বল জালে পাঠান আর্জেন্টাইন তরুণ। এটি ছিল টটেনহ্যামের কোচ টমাস ফ্র্যাঙ্কের প্রথম
প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ।
তবে দুই গোল পিছিয়ে
পড়েও শেষ মুহূর্তে চমক দেখায় পিএসজি। ৮৫তম মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার উইঙ্গার লি কাং-ইনের
নিচু শটে গোল পায় ফরাসি ক্লাবটি। এরপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে উসমান দেম্বেলের
ক্রসে হেডে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান গঞ্জালো রামোস।
টাইব্রেকারে উত্তেজনা
আরও তুঙ্গে ওঠে। পিএসজির প্রথম শট পোস্টে লাগলেও পরবর্তী চার শটেই গোল করে তারা। টটেনহ্যামের
হয়ে শট মিস করেন মিকি ভ্যান দে ভেন ও মাথিয়াস তেল। পিএসজির বদলি গোলরক্ষক লুকাস শ্যাভলিয়ের
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সেভ করে দেন দলকে। ফলে ৪-৩ ব্যবধানে টাইব্রেকারে জয় পায় পিএসজি।
ম্যাচজুড়ে বল দখলে পিএসজি ছিল একচেটিয়া। লুইস এনরিকের দল ৭৪ শতাংশ বল দখলে রেখে নেয় ১২টি শট, যার মধ্যে ৩টি ছিল লক্ষ্যে। টটেনহ্যাম নেয় ১৩টি শট, যার ৫টি ছিল লক্ষ্যে।