এএফসি চ্যালেঞ্জ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৫ ১০:৫৭ এএম
কিরগিজস্তানের ক্লাব এফসি মুরাসের বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য নিজেদের বেশ ভালোভাবে প্রস্তুত করেছে আবাহনীর ফুটবলাররা। ছবি: আ. ই. আলীম
এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে মাঠে নামছে বাংলাদেশের দুই জায়ান্ট ক্লাব ঢাকা আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংস। যার মধ্যে হোম ভেন্যু জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ বিকাল পাঁচটায় কিরগিজস্তানের ক্লাব এফসি মুরাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আবাহনী। আর দোহায় সুহেইম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে বসুন্ধরা কিংস মাঠে নামবে সিরিয়ান ক্লাব আল কারামাহর বিপক্ষে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায়। দুটি ম্যাচই সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল টি-স্পোর্টস।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কিংসের দলের সঙ্গে দোহায় যোগ দিয়েছেন কিউবা মিচেল আর ঢাকায় আবাহনীতে একমাত্র বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দিয়েছেন সবশেষ প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মালির স্ট্রাইকার সুলেমান দিয়াবাতে। তার সঙ্গে নতুন করে আকাশি-নীল শিবিরে যুক্ত হয়েছেন আল আমিন ও মোরছালিন। তাতে দলের শক্তি বেড়েছে, নিজেদের ঘরে মুরাসকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে অর্থাৎ গ্রুপ পর্বে যেতে চায় আবাহনী।
ঢাকায় আবাহনী-মুরাস ম্যাচের আগে গতকাল সোমবার বাফুফে ভবনে হয়ে গেল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। যেখানে দুই দলের কোচ এবং অধিনায়ক ছিলেন। আবাহনী কোচ মারুফুল হক বলেছেন, ‘যখন প্রতিপক্ষ ঠিক হয়েছিল তখন থেকেই কিছু কাজ করেছিলাম। আমার প্ল্যান ছিল ৪ সপ্তাহ প্রস্তুতি নেব, কোনো কারণে সেটি হয়নি। আমরা ২৬ দিন অনুশীলন করেছি। তারপরও বলব, আমরা যখন শুরু করেছিলাম, মাঝপথে কিছু প্লেয়ার দলের সঙ্গে যোগ হয়, গতকাল এলো দিয়াবাতে। আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে শুরু করেছিলাম, সেখানেই আছি। তবে প্রতিপক্ষ কঠিন, তাদের সর্বশেষ ৭-৮টা ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে। যদি আমার খেলোয়াড়েরা মাঠে প্ল্যান বাস্তবায়ন করে, নিজেদের শক্তির জায়গা বাস্তবায়ন করে তাহলে ভালো কিছু হবে।’
মুরাসের যে দলটি এসেছে সেখানে আছে ৯ জন বিদেশি খেলোয়াড়। যার মধ্যে ৭ জনই আবার ইউক্রেনের। আর আবাহনীর দলে বিদেশি বলতে কেবল সুলেমান দিয়াবাতে। তারপরও দল নিয়ে সন্তুষ্ট মারুফুল, ‘সর্বশেষ মৌসুমে যে ভুল ছিল সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এই মৌসুম শুরু করছি। আর যেহেতু আমাদের বিদেশি প্লেয়ার একটা পেয়েছি, আমার চাওয়া ছিল তিনটি। তারপরও বাইরে থেকে আল আমিন, মোরছালিন, কাজেম শাহ আসায় আগের বছর থেকে শক্তিশালী হয়েছে মনে করি।’
ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনে খেলবে আবাহনী। এটাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে নিচ্ছেন না কোচ মারুফুল। সেই সঙ্গে বলেছেন, এটি কোনো চাপ নয় প্রতিপক্ষের জন্য ‘তাদের দলে ইউক্রেনের অনেক খেলোয়াড় আছে, বিশেষ করে রক্ষণের চারজনই তাদের ইউক্রেনের। তারা প্রফেশনাল টিম, তাড়াতাড়ি তার প্রতিপক্ষকে বুঝতে পারবে। তাদের জন্য এটা কোনো ডিজ-অ্যাডভান্টেজ না।’
মুরাস ইউনাইটেডের কোচ পুচকভ সারগেই বলেছেন, ঘরের মাঠে হলেও আবাহনীকে হারাতে চান তারা, ‘অবশ্যই ঘরের মাঠে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলাটা সহজ। সমর্থকরা দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়। তবে আমরা ইতোমধ্যে অনেক অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলেছি।’ মুরাসের অধিনায়কের কণ্ঠেও একই সুর, ‘আমরা খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। কাল আমরা আমাদের সেরাটা দেব। আশা করি জিতব।’
মুরাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নামতে মুখিয়ে আছেন আবাহনীর ফুটবলাররা। মুরাসের পরিকল্পনা ধ্বংস করে জয় পেতে চান কোচ মারুফুল হক, ‘মাঠের মধ্যে ফুটবলাররা যদি পাজলড হয়ে না যায়, তাড়াহুড়ো না করে আর ভয় না পাই এবং আমার ট্রেনিং যদি অনুসরণ করে তাহলে সাকসেস পাব। একটা জিনিস হলো সৃষ্টি করার চেয়ে ধ্বংস করা সহজ। আমি সেই পথেই আগাচ্ছি।’