অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৫ ২১:২১ পিএম
তিন সেরা রানার্সআপের একটি হয়ে অ-২০ নারী এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে দেশের মেয়েরা। ছবি: বাফুফে
বড়রা যে অর্জনে প্রশংসায় ভেসেছেন, সেখানে পৌঁছানোর সুযোগ মেলে ছোটদেরও। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ অর্জন করেন আফঈদা খন্দকাররা। অনূর্ধ্ব-২০ দলের কাছেও সে সুযোগ ধরা দেয়। বাছাইয়ে ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে টানা দুই জয় পেয়েছিল তারা। তবে তৃতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৬-১ গোলের ব্যবধানে হোঁচটে পড়ে শঙ্কায়। অবশ্য চীনের কাছে লেবাননের ৮-০ ব্যবধানে হারে সেই শঙ্কা দূর হয়। আগামী বছর থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব ২০ এশিয়ান কাপে দেখা যাবে দেশের মেয়েদের।
গতকাল রবিবার ভিয়েনতিয়েনের
নিউ লাওস ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে শুরুতে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচঘড়ির ১৫ মিনিটে দলকে
আনন্দ উপহার দেন তৃষ্ণা রানী। শেষ পর্যন্ত মলিন মুখ নিয়েই তাদের মাঠ ছাড়তে হয়। কারণ,
দ্বিতীয়ার্ধে আফঈদারা আরও ৫টি গোল হজম করেন। পরিশোধ করতে পারেননি একটিও।
৬-১ ব্যবধানে হারের পর কঠিন
এক সমীকরণের সামনে পড়ে দেশের মেয়েরা। ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে বাছাই শেষ করে কোরিয়া।
৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ বাংলাদেশ। মূলপর্বে যেতে হলে থাকতে হবে আট গ্রুপের সেরা
তিন রানার্সআপ। বাংলাদেশ + ৬ গোলগড় নিয়ে ছিল তিনে। ওপরে জর্ডান (+ ১১) ও চাইনিজ তাইপে
(+৭)। বাংলাদেশের সেই অবস্থান ধরে রাখতে হলে হার কামনা করেছিল লেবাননের (+২)। ‘ই’
গ্রুপে শেষ ম্যাচে তারা চীনের মুখোমুখি হয়। চীন ও লেবাননের দুই ম্যাচ শেষে পয়েন্ট ছিল
৬ করে। নিজেরা মুখোমুখি হওয়ার আগে চীনের গোলগড় +১৩ এবং লেবাননের +২। এই ম্যাচ ড্র হলে
দুই দলই উঠে যেত চূড়ান্ত পর্বে। চীন উঠত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে, রানার্সআপ হয়ে লেবানন।
অবশ্য লেবানন হারায় গোলগড় বিবেচনায় মূলপর্বে পৌঁছেছে বাংলাদেশই।
এদিন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে
চতুর্দশ মিনিটে তৃষ্ণা রানী বক্সের ঠিক ওপরে বল পেয়েছিলেন, কিন্তু দুই ডিফেন্ডারের
বাধা পার হতে ব্যর্থ হন তিমুর লেস্তের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা এই ফরোয়ার্ড। পরের মিনিটেই
তৃষ্ণা এগিয়ে নেন দলকে। বক্সে ঢুকে গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকা ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে
আড়াআড়ি পাস বাড়ান শান্তি মার্দি, বল গোলকিপারের গ্লাভস ছুঁয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর আলতো
টোকায় জালে জড়িয়ে দেন তৃষ্ণা।
অষ্টাদশ মিনিটে চো হেইওং ভালো
পজিশনে বল পেয়েও উড়িয়ে মারেন, এর পরের মিনিটেই সমতায় ফেরে দক্ষিণ কোরিয়া। বাম দিক থেকে
আসা আক্রমণ আটকাতে পোস্ট ছেড়ে কিছুটা এগিয়েছিলেন স্বর্ণা রানী মন্ডল। সতীর্থের পাস
ধরে ফাঁকায় থাকা লি হায়েউন সহজেই খুঁজে নেন জাল।
একটু পর জিয়ং জিওনের শট আটকে
বাংলাদেশের ত্রাতা স্বর্ণা। চোট পাওয়া শান্তিকে ২৪তম মিনিটে তুলে বন্যা খাতুনকে নামান
পিটার জেমস বাটলার। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সাগরিকার বাম পায়ের শট সরাসরি যায় গোলকিপারের
কাছে। বিরতির বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার আরেকটি প্রচেষ্টা আটকে বাংলাদেশকে
সমতায় রাখেন স্বর্ণা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে
যায় দক্ষিণ কোরিয়া। বাম দিক দিয়ে ওঠা আক্রমণ আটকাতে ডিফেন্ডাররা সবাই মনোযোগী হওয়ায়
ডান প্রান্ত ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান চো হেইওং। সতীর্থের পাস ধরে অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করেন
তিনি। বাংলাদেশেরও পথ হারানোর শুরু।
৫৭তম মিনিটে স্বর্ণার দৃঢ়তায়
ব্যবধান বাড়েনি। থ্রু পাস ধরে চো হেইওং একা পেয়ে গিয়েছিলেন স্বর্ণাকে। বাংলাদেশ গোলকিপার
দারুণ ক্ষিপ্রতায় ছুটে এসে পথ আগলে দাঁড়ান, তাতে দক্ষিণ কোরিয়া অধিনায়ক পারেননি শট
পোস্টে রাখতে। তিন মিনিট পর অবশ্য চো হেইওংই বাম দিক দিয়ে ঢুকে নিখুঁত শটে স্কোরলাইন
করেন ৩-১।
সফল স্পট কিকে ৮৭তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানো লি হায়েউন একটু পর হেডে আবারও জাল খুঁজে নেন। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে ষষ্ঠ গোল এনে দেন জিন হাইয়েরিন।
এশিয়ার ৩৩টি দল নিয়ে ৬ আগস্ট
শুরু হওয়া এই বাছাইপর্ব শেষ হয় গতকাল। যেখানে আট গ্রুপ থেকে সেরা আট দলের মধ্যে দক্ষিণ
কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, ভারত, জাপান ও চীন সরাসরি জায়গা করে নিয়েছে আগামী বছর থাইল্যান্ডে
অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মূল আসরে। আর রানার্সআপ থেকে বাংলাদেশ, জর্ডান ও চাইনিজ তাইপে মূলপর্বে
উঠেছে।
আগামী ১ থেকে ১৮ এপ্রিল থাইল্যান্ডে
হবে অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ। যেখানে স্বাগতিক হিসেবে আগেই জায়গা করে নেয় থাইল্যান্ড।
তাদের সঙ্গে বাছাই খেলে যোগ্যতা অর্জন করে অন্য ১১ দল। এই টুর্নামেন্টের সফল দল জাপান।
তারা এখন পর্যন্ত ৬ বার এশিয়ান কাপ জিতেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া।
এশিয়ান কাপে ভালো করলে মিলবে
অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের টিকিটও। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ১২ দলের এশিয়ান কাপে সেমিফাইনালে
যাওয়া চার দল পাবে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ। একই বছরের সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডে হবে অনূর্ধ্ব-২০
নারী বিশ্বকাপের ১২তম আসর। বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নও উত্তর কোরিয়া।