প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ১৮:০০ পিএম
পর্তুগীজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ছবি: সিএনএন
বয়স যেন শুধু একটি সংখ্যা! ৪০ ছুঁইছুঁই বয়সেও মাঠে অদম্য ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বয়সকে যেন রীতিমতো বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গড়ে চলেছেন একের পর এক রেকর্ড। শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরের ঘটনাও তার নজর এড়ায় না। কোনো কিছু অপছন্দ হলে স্পষ্টবাদী মন্তব্য করতেও দ্বিধা করেন না এই পর্তুগিজ তারকা ফরোয়ার্ড।
চলতি বছরের আগামী ২২ সেপ্টেম্বর প্যারিসে দেওয়া হবে ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ
পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। এরই মধ্যে গত পরশু ফ্রান্স ফুটবল প্রকাশ করেছে মনোনয়নপ্রাপ্ত
৩০ জন খেলোয়াড়ের তালিকা। কিন্তু সেখানে নেই লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর
নাম। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অরের তালিকায় জায়গা পেলেন না আধুনিক ফুটবলের
এই দুই মহারথী। অথচ একসময় ব্যালন ডি’অরের লড়াই মানেই ছিল মেসি-রোনালদোর দ্বৈরথ। যেখানে
মেসির আটবার ও রোনালদো পাঁচবার দখল করেছেন।
ব্যালন ডি’অরের মনোনয়ন তালিকায় নাম না থাকায় রোনালদোকে নিয়ে আবারও
আলোচনায় আসে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এক পর্তুগিজ সংবাদ মাধ্যম রোনালদোর কাছে জানতে চায়,
এবারের ব্যালন ডি’অর জিততে পারেন কে? উত্তরে রোনালদো বলেন, ‘ব্যালন ডি’অর? এটা আমার
কাছে কাল্পনিক মনে হয়।’ এর আগেও ব্যালন ডি’অরের আয়োজক ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সাময়িকীর কার্যকারিতা
নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রোনালদো। গত জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা ক্লাব
বিশ্বকাপের আগে ব্যালন ডি’অর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘যে দল চ্যাম্পিয়নস
লিগ জিতেছে, তাদের মধ্য থেকেই কারও জেতা উচিত। নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না, কারণ
এখানে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী আছে। লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে কিংবা
ভিতিনহা, তাদের কেউ জিততে পারে। আমি ব্যক্তিগত পুরস্কারে খুব একটা বিশ্বাস করি না।
কারণ পর্দার আড়ালে কী ঘটে, সেটা আমি জানি। এই পুরস্কারের আর কোনো মূল্য নেই।’
২০২৩ সাল থেকে ইউরোপীয় ফুটবলের বাইরে রয়েছেন রোনালদো ও মেসি দুজনই।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর রোনালদো যোগ দেন সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে। এখন পর্যন্ত
ক্লাবটির হয়ে ১০৫ ম্যাচে খেলেছেন তিনি, গোল করেছেন ৯৩টি এবং ১৯টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন।
২০২৩ সালে আল নাসরের হয়ে আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়নস কাপও জিতেছেন রোনালদো। সর্বশেষ পরশু
আলগার্ভে স্টেডিয়ামে রিও আভের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি।
অন্যদিকে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার
মায়ামির হয়ে খেলছেন। দুই বছরে ক্লাবটির হয়ে ৭০ ম্যাচে করেছেন ৫৮ গোল, সঙ্গে অ্যাসিস্ট
করেছেন ২৮টি। ২০২৩ সালে তিনি মায়ামিকে জিতিয়েছেন লিগস কাপ, আর ২০২৪ সালে সাপোর্টার্স
শিল্ড। দুই কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের ইউরোপ ছাড়ার পরও তাদের আলোচনায় থাকার পেছনে মাঠের পারফরম্যান্স
যেমন আছে, তেমনি আছে তাদের মন্তব্যের প্রতিধ্বনি।