প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৫ ১৮:১৯ পিএম
দেশীয় ক্রিকেটারদের কল্যাণে গঠিত সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) বর্তমানে চলছে অ্যাডহক কমিটির অধীনে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আসন্ন ৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে সংগঠনটির নির্বাচন। গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত অ্যাডহক কমিটির এক বৈঠক শেষে নির্বাচনের এই দিনক্ষণ ঘোষণা করেন আহ্বায়ক সেলিম শাহেদ। এদিকে দেশের ক্রিকেটে নারী ক্রিকেটারদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ নারী দলের সদস্যরা। একের পর এক সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন জাতীয় দলের নারী ক্রিকেটার জ্যোতি-রুমানারা।
বাংলাদেশ নারী দলের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রুমানা আহমেদ ফেসবুকে লেখেন,
‘বৈষম্য, বৈষম্য আর বৈষম্য। যেখানে ক্রিকেটে উন্নত দেশগুলো তাদের নারী ক্রিকেটারদের
সঙ্গে নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে আমরা নারী ক্রিকেটারদের কোনো প্রকার আলোচনাতেও
আনছি না। আমাদের বৈষম্যটা কেন? আমরাও তো এ দেশের ক্রিকেটে গৌরব বয়ে আনছি।’
রুমানা আরও বলেন, ‘বহির্বিশ্বে যেখানে নারীরা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ যেমনÑ
ডব্লিউআইপিএল, ডব্লিউবিবিএল, ডব্লিউপিএসএলের মতো লিগ খেলে, সেখানে আমরা ডব্লিউবিপিএল
নিয়ে আলোচনা করতে করতে থেমে যাই। বারবার একই ভাবে পরের বছর বলে বলেই থেমে যাই। যদিও
আমাদের ছেলেদের বিপিএল এখনও দাঁড়াতে পারিনি। কিন্তু এই দায়ভার কার?’
অভিজ্ঞ এ অলরাউন্ডার কোয়াব নির্বাচন প্রসঙ্গে লেখেন, ‘সম্প্রতি বোর্ডে
কোয়াব নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। এখানে পুরুষ ক্রিকেটারের অনেক আনাগোনা দেখলেও, কোনো নারী
ক্রিকেটারের দেখা মিলল না।তাহলে আমাদের অবস্থান কোথায়? যাদের হাত ধরে এই নারী ক্রিকেট
তারাই বা কোথাও এখন? তামিম, সাকিব, মাহমুদুল্লাহ যদি সবার আলোচনাতে থাকে। সালমা, রুমানা,
জাহানারাদের নিয়ে কোথায় আলোচনা? কবে আমরা নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করব? কবে একটা সুন্দর
সংস্কৃতি তৈরি করব? এত বছর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের এইটুকু মূল্যবোধ তো আশা করতেই পারি।’
এদিকে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ফেসবুকে সংক্ষিপ্ত
বার্তায় লেখেন, ‘ক্রিকেটার আর নারী ক্রিকেটারের ভেতর পার্থক্য আছে বন্ধু।’ এই একটি
লাইনেই যেন ফুটে উঠেছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ব্যথা।
নারী ক্রিকেটারদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোয়াবের আহ্বায়ক সেলিম
শাহেদ বলেন, ‘সবাইকে একই তথ্য জানানো হয়েছে। যে আসতে চেয়েছে, সে এসেছে। কাউকে জোর করা
হয়নি।’ নারী ক্রিকেটারদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা হাবিবুল
বাশার সুমন ভালো বলতে পারবে। নারী ক্রিকেট তো সে-ই দেখত বিসিবিতে।’
হাবিবুল বাশার জানান, ‘আমি কোয়াবের সর্বশেষ বৈঠকে ছিলাম না। তবে এর
আগের এক সভায় আলোচনা হয়েছিল যে, কোয়াবে মেয়েদের জন্য একটি নির্ধারিত পোস্ট থাকবেই।
তারা ভোটাধিকারও পাবে।’