এএফসি নারী অ-২০ বাছাই
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৫ ২০:৪১ পিএম
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৫ ২০:৫২ পিএম
গোল করার পর উদযাপন করছেন সাগরিকা। ছবি : বাফুফে
বাংলাদেশের আক্রমণ শুরু প্রথম মিনিট থেকেই। তবে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ২১ ধাপ এগিয়ে থাকা লাওস পরক্ষণেই জানান দেয় নিজেদের শক্তি। খেলা জমে ওঠে আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে। এর মধ্যেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ; সেই সঙ্গে সাফ অ-২০ এর অপরাজিত চ্যাম্পিয়নরা পায় নিজেদের চেনা ছন্দ। নিজেদের মাঠে যেন কোনঠাসা হয়ে পড়ে লাওসের মেয়েরা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে জেতে লাল সবুজের মেয়েরা।
ভিয়েনতিয়েনের নিউ লাওস ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ বুধবার এএফসি উইমেন’স অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে স্বাগতিক লাওসকে ৩-১ গোলে হারায় বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথমার্ধে মোসাম্মৎ সাগরিকার এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে লিড দ্বিগুণ করেন মিডফিল্ডার মুনকি আক্তার। শেষ দিকে বাংলাদেশের জালে এক গোল পরিশোধ করেন লাওসের ফরোয়ার্ড আন্না কিও ওনসি। আর শেষ বামি বাজার আগে লাওসের জাল ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো কাপান সাগরিকা। সর্বশেষ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ প্রতিযোগিতায় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর লাওসে গিয়েও জয়রথ অব্যহত রেখেছে পিটার জেমস বাটলারের দল।
খেলার প্রথম মিনিটেই কর্নার পায় বাংলাদেশ। স্বপ্না রানীর কর্নার কিকে গোলমুখের সামনে থেকে হেড নেন শ্রী মতি তৃষ্ণা রানী সরকার। তবে সহজেই বল তালুবন্দি করেন লাওসের গোলরক্ষক থংসামুদ ভংখাম্ফান। ১১ মিনিটে লাওসের দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রথমে সেভ করেন গোলরক্ষক স্বর্ণা রানী, দ্বিতীয়টি ক্লিয়ার করেন অধিনায়ক আফঈদা। মধ্য মাঠ থেকে আন্না কিও ওনসির সঙ্গে ওয়ান টু খেলে বাংলাদেশর রক্ষণভেদ করে বেড়িয়ে যান কেমি ওদোমসুক। এরপর ডানপ্রান্ত থেকে প্রথমে গোলে জোড়ালো শট নেন আন্না। ডানদিকে ঝাপিয়ে সেভ করলেও পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি স্বর্ণারানী; অরক্ষিত বক্সের সামনে বল পেয়ে যান ওদোমসুক। এই ফরোয়ার্ডের বা পায়ের শট এবার কোনোমতে আটকে দেন আফঈদা।
১৪ মিনিটে মাধ্যমাঠ
থেকে লং পাসে শান্তির পায়ে বল দেন মুনকি। প্রতিপক্ষের বাম কর্নারের কাছ থেকে লাওসের
ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে আড়াআড়ি শট নেন গোলে, তবে এবারও সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান প্রতিপক্ষের
গোলরক্ষক। পরের মিনিটে গোলের আরও ভালো সুযোগ পায বাংলাদেশ। এবার গোলমুখের সামনে তৃষ্ণার
প্লেসিং শট অল্পের জন্য পায়নি জালের দেখা। ১৬ মিনিট পর বক্সের কয়েকগজ সামনে থেকে স্বাগরিকার
শট সোজাসুজি যায় লাওসের গোলর্ষকের কাছে।
১৭ মিনিটে বাংলাদেশ আফঈদাকে কাটিয়ে বাম প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশের বিপদসীমায় ঢুকে পড়েন লাওসের ভানভালি বোনলামি। সামেন কেবল গোলরক্ষক স্বর্ণা রানী। এগিয়ে আসেন পোস্ট ছেড়ে; তবে গোলরক্ষকের বিপক্ষে ওয়ান ওয়ান সিচুয়েশনে লাওসের এই মিডফিল্ডারের শট বেড়িয়ে যায় বক্স ঘেঁষে। পরের মিনিটে প্রায় মাঝ মাঠ থেকে পূজা দাসের দূরপাল্লার শট খুজে নিছ্লি জাল; শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ মিডফিল্ডারের শট লাফিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন থংসামুদ ভংখাম্ফান।
২০ মিনিটে ক্ষিপ্রগতিতে বামপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ওঠেন বোনলামি। তবে জয়নব বিবি রিতার দুর্দান্ত ট্যাকলে কোনো বিপদ ঘটেনি। পরের মিনিটে আফইদার রক্ষণচেড়া পাসে বল পাস তৃষ্ণা। তবে বক্সে তাকে আটকে দেন লাওনের ডিফেন্ডাররা। ২৪ মিনিটে বিপদ হতে হতেও হয়নি। হঠাৎই জটলার মধ্য বাংলাদেশর রক্ষণদেয়াল ভেদ করে বল নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন লাওসের ফরোয়ার্ড আন্না। তবে ডিফেন্ডার জয়নব তাকে বক্সেই ঢুকতে দেননি, পেছন থেকে দৌড়ে গিয়ে বল কেড়ে নেন আন্নার কাছ থেকে।
৩৬ মিনিটে কর্নার থেকে
স্বাগরিকার গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। শান্তির সেট পিসে গোলমুখের সামনে লাফিয়ে উঠে সরাসরি
হেডে লক্ষ্যভেদ করেন সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-২০ সাফ টুর্নামেন্টে ৮ গোল করা বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড।
বিরতির আগে বাংলাদেশের লিড দ্বিগুণ হলেও হতে পারত, তবে গোলবারে লেগে ফিরে আসায় এ যাত্রায়
বেঁচে যায় লাওস। ৪১ মিনিটে বক্সের কয়েকগজ সামনে থেকে গোলে শট নেন পূজা; সেই শটে বল
জালেই যাবে মনে হচ্ছিল, গোলরক্ষক লাফিয়ে আটকানোর চেষ্টা করেও নাগাল পাননি, তবে বল উপরের
বারে লেগে ফিরে আসায় গোলবঞ্চিত হন পূজা। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায়
লাল সবুজের মেয়েরা।
বিরতির পর প্রথম মিনিটেই
বাংলাদেশের অ্যাটাক। দুই প্রচেষ্টায় এবার ব্যর্থ লাল সবুজে মেয়েরা। বক্সের ডান কোনো
থেকে মুনকির আড়াআড়ি ক্রসে গোলমুখের সামনে প্রথমে পা ছোয়াতে পারেননি সাগরিকা। বল পেয়েও
একই কাজ করে বসেন শান্তি মার্ডি। বলে পা ছোয়াতে পারলে দুজনের বেলাতেই গোলের সুযোগ ছিল
পরিষ্কার।
৫৮ মিনিটে মুনকির গোলে
ব্যবধান ২-০ করে বাংলাদেশ। তবে এই গোলে অবদান আছে তৃষ্ণাও। আক্রমনের সুর বেধে তৃষ্ণার
পায়ে বল তুলে দেন শান্তি। এই ফরোয়ার্ডের দুর্দান পাসে বক্সে বল খুজে নেয় মুনকি আক্তারকে।
বল পায়ে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক ও ডিফেন্ডার নিতজা সোমালুকে ডজ দেন, এরপর গোলরক্ষকের সামনে
একটু সময় নিয়ে প্লেসিং শটে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে জালে বল জড়ান বাংলাদেশ মিডফিল্ডার মুনকি।
৭২ মিনিটে আরও একবার
গোলবঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। স্বপ্নার কর্নার প্রতিহত হয়ে বল ফিরে আসে তার কাছেই। দ্বিতীয়বার
ফের বক্সেই বল উড়িয়ে মাড়েন এই মিডফিল্ডার; সেখানে সাগরিকার হেড ফিরে আসে পোস্টে
লেগে। ৯ মিনিট পর অপ্রতিরোধ্য স্বাগরিকাকে গোলবঞ্চিত করেন থংসামুদ।
৮৬ মিনিটে তিন ডিফেন্ডার আফঈদা, জয়নব আর নবিরনকে কাটিয়ে এক গোল পরিশোধ করেন লাওসের আন্না কিও। তবে যোগ করা সমেয়ের দুই মিনিটের মাথায় সাগরিকার গোলে ফের লিড বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ। মুনকির সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সে ঢুকে পড়েন তৃষ্ণা। গোলমুখের সামনে নিজে শট না নিয়ে বল তুলে দেন পোস্টের অপর পাশে থাকা সাগরিকাকে। ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের আলতো টোকা গোলরক্ষকের হাতে লেগে খুজে নেয় জাল। উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশের ডাগআউট। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাটলারের দল।