প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৫ ১৭:২৫ পিএম
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৫ ১৭:২৬ পিএম
সবশেষ মিরপুরে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তান। এ সিরিজে উইকেট নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে ছবি: আ.ই.আলীম
প্রায় ১৪ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিল মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে শুরু সেই প্রত্যাবর্তন। তিন ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিক বাংলাদেশ জয় পেলেও মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল মিরপুরের উইকেট। ম্যাচজয়ী দলের অধিনায়ক লিটন দাস পর্যন্ত উইকেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এমন উইকেটে জয় পাওয়া সত্ত্বেও এটি আসন্ন এশিয়া কাপ কিংবা পরের বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
পাকিস্তান দলের পক্ষ থেকেও
উঠে আসে একই সুর। সিরিজের প্রথম ম্যাচের পরই কোচ মাইক হেসন স্পষ্ট করে বলেন, মিরপুরের
উইকেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপযোগী নয়। অধিনায়ক সালমান আগা বলেন, এই ধরনের উইকেটে
খেলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়েছে তাদের। দেশের মাটিতে ফিরে একই বক্তব্য দিয়েছেন ওপেনার
সাইম আইয়ুব, যিনি বলেন, মিরপুরের উইকেট একরকম ধোঁকা দিয়েছে তাদের।
এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি মুখ
খুলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তিনি মনে করেন,
আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে খেলোয়াড়দের হাই-স্কোরিং উইকেটে খেলানো জরুরি। তার মতে,
ভালো উইকেট না পেলে ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে না, বরং ক্ষতি হয় মানসিকভাবে।
ঘরের মাঠে অনুকূল উইকেটের
বদলে চ্যালেঞ্জিং উইকেটে খেলার পরামর্শ দিয়ে নান্নু বলেন, ‘কোন কন্ডিশনে খেললে কীভাবে
খেলোয়াড়রা কতটুকু এগোবে সেটা টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা করতে হবে। আমার মনে হয়, বিশ্বকাপের
আগে স্পোর্টিং উইকেটে খেলে নিজেদেরকে তৈরি করে যাওয়া উচিত হবে।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের
(বিসিবি) পক্ষ থেকেও এ নিয়ে কিছুটা আত্মসমালোচনার সুর শোনা গেছে। বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশনস
কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম জানান, মিরপুরের উইকেট আদর্শ নয়। তবে বোর্ড
থেকে লো ও স্লো উইকেট তৈরির কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়,
‘আমরা স্পোর্টিং উইকেট তৈরির চেষ্টা করেছি। কিন্তু যারা উইকেট তৈরি করেন, তারা সেটা
বাস্তবায়ন করতে পারেননি। দায়টা তাদের।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে
মিরপুরের উইকেট নিয়ে বড় পরিবর্তনের চিন্তা করা হচ্ছে। মাঠের মাটি পুরোপুরি বদলানোর
প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, যেসব জায়গায় বেশি খেলা হয়, সেসব উইকেটের অবস্থা নিয়ে অতিরিক্ত
সতর্ক থাকা উচিত।’ ফাহিম জানান, মিরপুরের চিরাচরিত কালো মাটির উইকেটও সমস্যার একটি
বড় কারণ। উইকেটে ঘাস না থাকায় বলের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে, যা খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি
চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম
বুলবুলও এর আগে এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটারদের ভালো করার জন্য
ভালো উইকেট দরকার। মিরপুরের উইকেট আদর্শ নয়। এখানে অনুশীলন করতে গিয়ে খেলোয়াড়দের ব্যাট
ভেঙে যায়, ব্যাটিং করা কঠিন হয়ে পড়ে, আত্মবিশ্বাসও হারায় তারা।’
উইকেট বিতর্কে বারবারই উঠে
আসছে কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার নাম। বিসিবির অভ্যন্তরীণ আলোচনা অনুযায়ী, তাকে দ্রুত
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। অথচ স্লো ও লো উইকেট তৈরি করে
প্রতিপক্ষ দলকে বিপদে ফেলতেই বারবার কাজটি করে আসছে বিসিবি, কিন্তু এতে নিজেদের খেলোয়াড়রাই
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি। ঘরোয়া বা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তা চললেও, বিশ্বমঞ্চে গিয়ে বিপদে
পড়তে পারেন দেশের ক্রিকেটাররা।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই
দর্শনযোগ্যতা, ব্যাট-বলের সমান লড়াই, এবং রানপ্রসবা উইকেট। মিরপুরে সেই চিত্র প্রায়
অনুপস্থিত। আসন্ন এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রস্তুতির জন্য
এটি বড় এক প্রতিবন্ধকতা হিসেবেই দেখা দিচ্ছে।