সাফ অ-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৫ ২২:২৭ পিএম
টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচ খেলে দুটি হ্যাটট্রিক করলেন সাগরিকা। ছবি: আ. ই. আলীম
হারলেই হাতছাড়া, ড্র কিংবা জয়ে মিলবে শিরোপা। এমন ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে শক্তিশালী একাদশই নামালেন কোচ পিটার জেমস বাটলার। দুর্দান্ত খেলায় প্রতিপক্ষকে শুরু থেকে চেপে ধরল লাল সবুজের মেয়েরা। মোসাম্মৎ সাগরিকার রুদ্রমূর্তি দেখল অতিথি শিবির, তাতে জ্বলে-পুড়ে স্বাগতিকদের সামনে স্রেফ উড়ে গেল নেপাল। সাগরিকার হ্যাটট্রিকে দুর্দান্ত জয়ে বাংলাদেশ পেল বয়সভিত্তিক সাফের আরেকটি শিরোপা।
সাফ উইমেন’স অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ খেলায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় নেপালকে ৪-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে এক গোলের লিডের পর দ্বিতীয়ার্ধে হয় আরও তিন গোল। মোট চারটি গোলই আসে মোসাম্মৎ সাগরিকার পা থেকে থেকে। টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচ খেলে দুটি হ্যাটট্রিক করলেন এই ফরোয়ার্ড।
বয়সভিত্তিক সাফের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এ নিয়ে মোট পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশের মেয়েরা। গত বছর ফেব্রুযারিতে কমলাপুরের শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ আসরে ভারতের সঙ্গে যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে ঘরের মাঠে এই নেপালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে লাল সবুজের মেয়েরা। ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ২০২১ সালের আসরটি বসে সাফের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে। সেবার আনাই মগিনির গোলে ভারতকে ১-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। আর ২০১৮ সালে ভুটানে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে মাসুরা পারভীনের গোলে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার সাফের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ।
শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ডান প্রান্ত দিয়ে একাই বল নিয়ে ওঠেন সাগরিকা। পোস্টের সামনে থেকে তার নেওয়া ডান পায়ের শট কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন নেপালের গোলরক্ষক সুজাতা তামাং। কর্নার থেকেও গোলের সুযোগ পায় বাংলাদেশ। তবে শান্তির শট ফের কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন সুজাতা। পঞ্চম মিনিটে বাংলাদেশের আরেকটি কর্নার থেকে সাগরিকার হেডে গোললাইন ক্লিয়ার করেন নেপালের এক ডিফেন্ডার।

অষ্টম মিনিটেই সাগরিকার দুর্দান্ত গোলে খেলায় প্রথম লিড নেয় বাংলাদেশ। আক্রমণের সুর বেঁধে দেন পূজা দাস। নিজেদের অর্ধ থেকে মাঝমাঠে বল দেন স্বপ্না রানীর পায়ে। এই মিডফিল্ডারের রক্ষণচেড়া পাসে বল পেয়ে যান সাগরিকা। শেষ পর্যন্ত আদায় করেন গোল। রেড কার্ড ইস্যুতে টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকার পর মাঠে নেমেই প্রতিযোগিতায় নিজের পঞ্চম গোলটি পেলেন ফরোয়ার্ড সাগরিকা।
১৯ মিনিটে প্রথমে ভাগ্য এরপর গোলরক্ষক মিলির দারুণ সেভে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। কর্নারের কাছ থেকে থ্রোয়ে প্রথমে গোলে শট নেন নেপালের পূর্ণিমা রাই। এই ফরোয়ার্ডের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে বক্সের মধ্যেই। সেখান থেকে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় গোলে হেড নেন সুকরিয়া মিয়া। দারুণ ক্ষিপ্রতায় লাফিয়ে সেই বল ধরে ফেলেন মিলি।
২১ মিনিটে লিড দ্বিগুণ করার সুযোগ আসে বাংলোদেশের সামনে। তবে এবারও গোললাইন ক্লিয়ার করে বেঁচে যায় অতিথিরা। আক্রমণ শুরু শান্তির পাস থেকে। এই ফরোয়ার্ডের কাছ থেকে বল পেয়ে নিজেদের অর্ধ থেকেই প্রতিপক্ষের সীমানায় উড়িয়ে মারেন স্বপ্না। অনেকটা দৌড়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন মুনকি আক্তার। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক তখন অনেকটাই ওপরে। সেটি দেখেই গোলরক্ষক সুজাতার মাথার ওপর দিয়ে গোলে বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শট নেন এই ফরোয়ার্ড। বল যাচ্ছিল জালের দিকে; শেষ মুহূর্তে এসে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার আনিশা রাই। ৪৪ মিনিটে উমেহলার পাস অল্পের জন্য নাগাল পাননি সাগরিকা। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লাল সবুজের মেয়েরা।
বিরতির পর দ্রুতই লিড দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। ৫১ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে পূজার পাসে ডান প্রান্তে বল পান উমেহলা। এই ফরোয়ার্ডের রক্ষণচেড়া পাসে বক্সের সামনে বল পান সাগরিকা। নেপালের অধিনায়ক বীরসেনাকে কাটিয়ে আগুন্তুক গোলরক্ষকের বাঁ পাস দিয়ে গোলে শট নেন ১৯ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক সুজাতা ঝাঁপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পাননি, বক্সের বাঁ প্রান্ত দিয়ে বল খুঁজে নেয় জাল। ২-০ গোলে লিড বাড়ায় বাংলাদেশ। সাগরিকা করেন টুর্নামেন্টে নিজের ষষ্ঠ গোল।
৫৬ মিনিটে সাগরিকার হ্যাটট্রিকে লিড ৩-০ করে বাংলাদেশ। মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা বলে নেপালের আনিশা রাইয়ের আগে দৌড়ে এগিয়ে যান সাগরিকা। ড্রপ খাওয়া বলে চিপ শটে আগুন্তুক গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জালে বল জড়ান সাগরিকা।
৭৭ মিনিটে অপ্রতিরোধ্য সাগরিকাকে আটকানো যায়নি। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের তিন ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে সাগরিকার পায়ে বল তুলে দেন মুনকি। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের সঙ্গে ওয়ান ওয়ান সিচুয়েশনে ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন সাগরিকা। যদিও সাগরিকার এই গোলে তার চেয়েও বেশি অবদান এই আসরে দারুণ খেলা মুনকির।