প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৫ ২২:৩৪ পিএম
ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু হওয়া ফিফার নতুন ফরম্যাটের ক্লাব বিশ্বকাপে রাজত্ব করেছে ইংলিশ জায়ান্ট চেলসি। টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এনজো মারেসকার দল। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ফাইনালে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে চেলসি। ম্যাচের আগে চেলসির অধিনায়ক রিচ জেমস বলেছিলেন, ‘আমরা রিয়াল মাদ্রিদ নই’, যার অনর্থক ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল না পিএসজির গোলবন্যা থেকে চেলসি নিজেদের রক্ষা করতে পারবে, সে বার্তাই ছিল তার কথায়।
চেলসির মিডফিল্ড জুটি কোল পালমার ও এনজো ফার্নান্দেজ শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। লুইস এনরিকের দল পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে তাদের গতিময়তা আর সংগঠিত ফুটবলের সামনে। ম্যাচের ষোড়শ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেলেও দিজিরে দুয়ের পাস থেকে আশরাফ হাকিমি গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর দুই মিনিটের ব্যবধানে দুয়ের আরেকটি জোরালো শট চমৎকারভাবে প্রতিহত করেন চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজ।
বেশ গরমের মধ্যে পিএসজিকে শুরু থেকেই চেপে ধরে চেলসি। প্রথম ৮ মিনিটের মাথায় পালমারের হালকা বাঁকানো শট পিএসজির পোস্টকে চোখ রাঙিয়ে যায়। ২২তম মিনিটে চেলসিকে এগিয়ে দেন কোল পালমার। গোলরক্ষকের বাড়ানো বল ধরে মালো গিস্তোর শট প্রতিহত হলে তিনি পাস দেন পালমারকে। বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে জড়ান ২৩ বছর বয়সি এই ইংলিশ উইঙ্গার। এরপর ৩০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ডিফেন্ডার লিভাই কলউইলের উঁচু করে বাড়ানো বল ধরে চমৎকার নিয়ন্ত্রণে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে আবারও বাঁ পায়ের নিচু শটে জাল খুঁজে নেন পালমার।
৪৩তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় চেলসি। পালমারের পাস থেকে অফসাইড ফাঁকি দিয়ে জোয়াও পেদ্রো গোলরক্ষক দোন্নারুম্মাকে পরাস্ত করেন। ক্লাবটির হয়ে এ ছিল পেদ্রোর টুর্নামেন্টে তৃতীয় গোল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এবং দ্বিতীয়ার্ধের একাধিকবার গোলবারের নিচে চেলসিকে রক্ষা করেন সানচেজ।
৬০তম মিনিটে আরেকবার সানচেজের দৃঢ়তায় বেঁচে যায় চেলসি। ৬৭তম মিনিটে জোয়াও পেদ্রোর বদলি নামার পর প্রথম স্পর্শেই চমৎকার এক গোল পেতে যাচ্ছিলেন লিয়াম ডেলাপ। বক্সের বাইরে থেকে এই ইংলিশ স্ট্রাইকারের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান পিএসজির গোলকিপার জানলুইজি দোন্নারুম্মা। ৮০তম মিনিটে ডেলাপের আরেকটি প্রচেষ্টা আটকান ইতালিয়ান গোলরক্ষক।
৮৫তম মিনিটে পিএসজি ১০ জনের দলে পরিণত হয়। ভিএআরের সহায়তায় দেখা যায়, মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস পেছন থেকে কুকুরেইয়ার চুল টেনে ধরেছেন। ফলে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। শেষ বাঁশি বাজার পর হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের কয়েকজন। জোয়াও পেদ্রোর মুখে আঘাত করেন পিএসজি কোচ এনরিকে। একটু পর অবশ্য বাঁধভাঙা উদযাপনে মেতে ওঠে গোটা চেলসি শিবির।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে বসে শিরোপা লড়াই উপভোগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে খেলোয়াড়, ম্যাচ অফিসিয়ালদের মেডেল ও চ্যাম্পিয়ন অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলে দেন তারা।
এ মৌসুমে ৫২ ম্যাচে ১৮ গোলের পাশাপাশি ১৪ গোল করানো পালমার ম্যাচ শেষে জানান, ‘মাঠে নামার আগে আমাদের নিয়ে অনেকেই সন্দেহ করেছিল। তাই এমন পারফরম্যান্স দিয়ে জবাব দিতে পারাটা দারুণ অনুভূতির।’ কোচ মারেসকার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি জানতেন কোথায় জায়গা পাওয়া যাবে এবং আমাকে যতটা সম্ভব স্বাধীনভাবে খেলতে দিয়েছেন।’
আর্থিক দিক থেকেও টুর্নামেন্টটি ছিল নজিরবিহীন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৩২টি ক্লাবের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। শিরোপাজয়ী চেলসি পেয়েছে ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ১ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা)। রানার্সআপ হলেও পিএসজি পেয়েছে ১০ কোটি ৫৮ লাখ ডলার (১ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা)। ইউরোপের ক্লাবগুলো গড়ে পেয়েছে ৩৯ মিলিয়ন পাউন্ড করে এবং দক্ষিণ আমেরিকান ক্লাবগুলো পেয়েছে গড়ে ২৪ মিলিয়ন পাউন্ড।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ প্রাইজ মানি নিয়ে এবারের ক্লাব বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী ফুটবল টুর্নামেন্ট। কাতার বিশ্বকাপে যেখানে মোট প্রাইজ মানি ছিল ৪৪ কোটি ডলার, সেখানে ক্লাব বিশ্বকাপের বাজেট ছিল পুরো ১০০ কোটি ডলার।