প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৫ ২০:২৭ পিএম
মাঝে পেরিয়ে গেছে ষোলো মাসেরও বেশি সময়, এ সময়ে বাংলাদেশ সিনিয়র জাতীয় নারী ফুটবল দলে অভিষেক হয় মোসাম্মাৎ সাগরিকার। তবে সেই ষোলো মাস আগে একটা জায়গায় নিজেকে রেখেছিলেন তরুণ এই ফরোয়ার্ড। আজ যেন আবার সেখান থেকেই শুরু করলেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সাফ উইমেনস অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন সাগরিকা; হাতে উঠেছিল জোড়া পুরস্কার। তিন ম্যাচে করেছিলেন ৪ গোল। এবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ আসরে মাঠে নেমেই করলেন হ্যাটট্রিক। সাগরিকার হ্যাটট্রিকে সাফ উইমেনস অনূর্ধ্ব-২০ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচে শুক্রবার স্বাগতিক বাংলাদেশের কাছে ৯-১ ব্যবধানে হেরেছে শ্রীলঙ্কা।
লঙ্কান মেয়েদের বিপক্ষে ২০২১ সালে সাফের অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের আসরে বাংলাদেশ জিতেছিল ১২-০ গোলে। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা স্টেডিয়ামের সেই স্মৃতিই যেন শুক্রবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফিরিয়ে আনলেন আফঈদা খন্দকার, স্বপ্না রানী ও সাগরিকারা। রাউন্ড রবিন লিগের প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন মুনকি আক্তার। স্বাগতিকদের পক্ষে একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন স্বপ্না রানী, শিখা জাহান, রুপা আক্তার ও শান্তি মার্দি।
এদিন গোল উৎসবের শুরু খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই, স্বপ্না রানীর ফ্রি কিকে বল বাতাসে ভেসে লাফিয়ে ওঠা গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। তিন মিনিট পর এক ছুটে বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে কাছের পোস্ট দিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মুনকি আক্তার। ২০ মিনিটে মুনকির শট গোলরক্ষক ফেরানোর পর শিখা জাহানের ফিরতি শট পোস্টে লেগে ফেরে। শ্রীলঙ্কার রক্ষণে চাপ ধরে রেখে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকেন সাগরিকা, স্বপ্নারা। ৩৭ মিনিটে গোলের খাতা খোলেন সাগরিকা। শিখার দারুণ ক্রস গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে খুঁজে নেয় তাকে। গোলমুখ থেকে অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করেন সিনিয়র জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড। খানিক পর স্বপ্নার রক্ষণচেরা পাস ধরে শিখা জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে হয়নি গোল।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ছোট বক্সের ভেতর থেকে সাগরিকা গোলকিপারকে পরাস্ত করার পর ওঠে অফসাইডের পতাকা। সে সময় গোললাইনের ওপর শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড় ও গোলকিপার ছিলেন। ফলে অফসাইডের সিদ্ধান্ত জন্ম দেয় বিস্ময়ের। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সাগরিকার কাটব্যাকে গোলমুখে অরক্ষিত মুনকি নিখুঁত ট্যাপে জাল খুঁজে নেন। এরপরই অধিনায়ক আফঈদাকে তুলে রুমা আক্তারকে নামান বাটলার। ৫০ মিনিটে বাম দিক থেকে আসা ক্রস দারুণ প্লেসিং শটে জালে জড়ান শিখা। ৫৩ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শটে ব্যবধান বাড়ান সাগরিকা। পাঁচ মিনিট পর পুজার কাটব্যাকে প্লেসিং শটে হ্যাটিট্রিক পূরণ করেন এই ফরোয়ার্ড।
শেষ দিকে নতুনদের পরখ করে নেওয়ায় মনোযোগী হন বাটলার। ৭২ মিনিটে বন্যার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার একটু পরই মুনকির বদলি নামান কানন রানীকে। ৮৫ মিনিটে বক্সের জটলার ভেতর থেকে স্কোরলাইনে নাম লেখান রুপা। যোগ করা সময়ে পাল্টা আক্রমণ থেকে জাসোথারান লায়নসিকা কমানো একমাত্র গোলটি করেন। শেষের বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে বাংলাদেশের হয়ে নবম গোলটি করেন শান্তি মার্দি। বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতার ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ আগামীকাল রবিবার মুখোমুখি হবে নেপালের।