ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৫ ২২:১১ পিএম
চেলসির হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে জোয়াও পেদ্রো যেন একপ্রকার ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ফুটবল শাসন করতে এসেছেন। গত বুধবার রাতে ব্রাজিলের ২৩ বর্ষী ফরোয়ার্ডের জোড়া গোলে ফ্লুমিনেন্সকে হারিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে চেলসি। সপ্তাহখানেক আগে দ্য ব্লুজ শিবিরে যোগ দেওয়ার পর প্রথম ম্যাচে পালমেইরাসের বিপক্ষে সুবিধা না করতে পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে জাত চেনান পেদ্রো।
নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এদিন ফ্লুমিনেন্সকে ২-০ গোলে হারানোর মধ্য দিয়ে টানা ১৩ বারের মতো ফিফা আয়োজিত ক্লাব পর্যায়ের টুর্নামেন্টের শিরোপা ইউরোপিয়ান ক্লাবের হাতে থাকা নিশ্চিত হলো। সর্বশেষ ২০১২ সালে চেলসিকে হারিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল করিন্থিয়ান্স। একই সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে চেলসি। এর আগে ২০১২ ও ২০২১ সালে ফাইনাল খেলেছে ইংলিশ ক্লাবটি। ২০১২ সালে রানার্সআপ হলেও ২০২১ সালে শিরোপা জিতেছিল তারা।
ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে বাঁচা-মরা ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে চেলসি। তবে ম্যাচঘড়ির মাত্র ১৮ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিলের ক্লাব। জয়ের নায়ক স্বদেশি পেদ্রো। আক্রমণে ওঠার একপর্যায়ে বাঁ পাশে ফ্লুমিনেন্স বক্সের কাছাকাছি জায়গায় বল পান ব্রাইটন ফেরত তরুণ তুর্কি। সেখান থেকেই দূরের পোস্ট তাক করে শট নেন। ফ্লুমিনেন্স গোলরক্ষক ফাবিও ঝাঁপিয়ে পড়েও নাগাল পাননি বলের।
গোলটি দেখে অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে মাথায় হাত দিয়ে ফেলেন নেতো। তবে পেদ্রো কোনো উদযাপন করেননি। বরং দুহাত ওপরে তুলে আত্মসমপর্ণের ভঙ্গি করেন। তাকে ঘিরে উল্লাস করেন সতীর্থরা। কিন্তু তিনি ছিলেন প্রায় নির্লিপ্ত, মুখে ছিল না হাসিও। একপর্যায়ে হাতজোড় করে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিও করেন।
বিরতির পরও আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। তবে ৫৬ মিনিটে লিড দ্বিগুণ করে চেলসি। ফ্লুমিনেন্সের জালে দ্বিতীয়বার বল পাঠান পেদ্রো। এনজো ফার্নান্দেজের পাস থেকে বল পেয়ে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে দারুণ এক গোল করেন। এই গোলের পরও উদযাপন করেননি পেদ্রো। এরপর ফ্লুমিনেন্স চেষ্টা করেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
ম্যাচের পর উদযাপন না করার কারণ জানান পেদ্রো, ‘তারা (ফ্লুমিনেসি) আমাকে সবকিছু দিয়েছে। গোটা বিশ্বের সামনে আমাকে তুলে ধরেছে তারা। আজ আমি এখানে আসতে পেরেছি, কারণ তারা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে।’
ম্যাচ শেষে চেলসি কোচ এনজো মারেসকা বলেন, ‘এটা দারুণ অর্জন। মৌসুমটা দারুণ গেল। লিগে সেরা ছিলাম, কনফারেন্স লিগ জিতলাম এবং এখন এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠলাম। আমরা দারুণ আনন্দিত। আমরা এখন মৌসুমের শেষ ম্যাচে পৌঁছে গেছি। আশা করি টুর্নামেন্টটা জিততে পারব।’