কলম্বো টেস্ট
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৫ ০৯:৫৭ এএম
গলের মতোই কলম্বো টেস্টের পরিণতি হবে! এখানেও ব্যাটাররা রান পাবেন, বোলাররা ধুঁকবেন। অন্তত অতীত ইতিহাস সেটাই সাক্ষ্য দেয়। তবে সিংহলিজ ক্রিকেট ক্লাব মাঠে সফরকারী দলের বিপক্ষেই কথা বলছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে কিছুতেই যেন কিছু করতে পারছে না লাল সবুজ দল। গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে ওভারের পর ওভার বোলিং করে গেছেন ইবাদত হোসেন চৌধুরী ও নাহিদ রানারা। তবুও লঙ্কান ব্যাটারদের বেকায়দায় ফেলতে পারেনি তারা। বরং বাংলাদেশের বিপরীতে সাবলীল ব্যাটিং করেছেন পাতুম নিশাঙ্কা-দিনেশ চান্দিমালরা।
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৪৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। সফরকারী দলের পক্ষে কেউই অর্ধশতক তুলতে পারেননি। সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন সাদমান ইসলাম। দলের পক্ষে ৬ জনের বেশি ২০ ঊর্ধ্ব রান তুললেও সেটি লম্বা হয়নি। অথচ বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের জবাবে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রান তুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন টাইগার দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। এসে উইকেটের আচরণে পরিবর্তনের কথা জানান তিনি। সিমন্স বলেন, ‘উইকেট এখন বেটার ব্যাটারদের জন্য। প্রথম দিন উইকেট কিছুটা থেমেছে। আজকে (গতকাল) অনেক বেটার ছিল। প্রথম দিনের মতো এতটা টার্ন ছিল না। ব্যাটাররাও দারুণ ব্যাট করেছে। টেস্ট ক্রিকেট এ রকমই মাঝেমধ্যে।’
সাবেক ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার বলেন, ‘আসলে যে ট্রিকটা আমরা মিস করেছি তা হচ্ছে বেশি বড় জুটি গড়তে পারিনি। যার ফলে আজকে (গতকাল) ২-৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাট করার সুযোগ পাইনি। এটা আমাদের দিকেই ফিরে এসেছে। প্রথম দিনের ব্যাটিং এবং জুটি বেশ ভুগিয়েছে। এই কারণেই দ্বিতীয় দিনে আমরা ব্যাট করছি না।অন্তত ২-৩ জন ব্যাটারের উচিত ছিল লম্বা ইনিংস খেলা এবং দলের রান বাড়িয়ে নেওয়া। নিশাঙ্কা এটা করে দেখিয়েছে। আশা করি, এটা শিখে দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেরা বড় স্কোর করতে পারব।’
তাড়াহুড়োর পাশাপাশি বাজে শট খেলে প্রথম দিনেই ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম দিনের খেলা শেষে সাদমান সংবাদ সম্মেলনে এসে জানিয়েছিলেন উইকেট খানিকটা ধীরগতির। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং কোচ থিলিনা কান্দাম্বিও নিশ্চিত করেছিলেন এসএসসির মাঠে এমন উইকেট তিনি কখনও দেখেননি। প্রথাগতভাবেই প্রথম দুই তিনে বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন ব্যাটাররা।
প্রথম দিনে সেটা না হলেও দ্বিতীয় দিনের উইকেট কলম্বোর প্রথা মেনেছে পুরোপুরিভাবে। নিশাঙ্কা ও চান্দিমালের ব্যাটের সামনে কিছুই করতে পারেননি তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসানরা। এ নিয়ে সিমন্স বলেছেন, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য অনেক সহজ গেছে। এজন্যই বোলারদের জন্য কঠিন দিন গেছে।
সিমন্স আরও যোগ করেন, ‘প্রথম দিনের থেকে আজ উইকেট অনেক ভালো ছিল। গতকাল উইকেটে বল থেমে থেমে আসছিল, পেসও দুরকম ছিল। তবে আজ ছিল অনেক ভালো। গতকালের মতো টার্নও ছিল না, ব্যাটিং করা সহজ হয়েছে। ব্যাটসম্যানরাও ভালো ব্যাটিং করেছে। কখনও কখনও টেস্ট ক্রিকেট এমনই।’
বাংলাদেশের ব্যাটাররা না পারলেও দুই টেস্টেই নিজের ব্যাটিংয়ের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন নিশাঙ্কা। প্রথম টেস্টে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলার পর কলম্বোতে প্রথম ইনিংসে অপরাজিত আছেনÑ ১৪৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের দুই কিংবা তিনজন ব্যাটার বড় ইনিংস না খেলতে পারার আক্ষেপ করেছেন সিমন্স। পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন, কীভাবে ব্যাটিং করতে হয় নিশাঙ্কা সেটা তাদের দেখিয়ে দিয়েছে। সিমন্স বলেন, ‘গতকাল দুই বা তিনজন ব্যাটারকে আরও লম্বা ইনিংস খেলতে হতো, বড় রান করতে হতো। আজ পাথুম নিশাঙ্কা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে ব্যাটিং করা উচিত। আশা করছি, আমাদের দ্বিতীয় ইনিংসে গিয়ে আমরা ভালো করতে পারব।’