প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৫ ১৭:০৬ পিএম
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন (চতুর্থ) চক্রে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ড্র করে বাংলাদেশ। অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে ড্রয়ের সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তরা। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) মাঠে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
গলে লঙ্কানদের বিপক্ষে আধিপত্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। তারপরও জয় ছিল অধরা। অমীমাংসিত থাকে টেস্টটি। প্রথম টেস্টে লাল-সবুজ দলের পাওয়া শান্তর জোড়া সেঞ্চুরি। বিশ্বের ১৫তম ব্যাটার হিসেবে টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৯০ রানের ইনিংস খেলে অফ-ফর্ম কাটান লিটন দাস। ফাইফারের দেখা পান স্পিনার নাঈম হাসান।
বোলাররা ম্যাচ জয়ের সুযোগ তৈরি করে দিলেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ম্যাচ হারতে হয় বাংলাদেশকে। তবে গল টেস্টে ব্যর্থতার খোলস থেকে বেরিয়েছে টাইগার ব্যাটাররা। স্পিনারদের দাপটের সঙ্গে সমানতালে ব্যাট চালিয়েছেন ব্যাটাররা। সব সেক্টরে সমানতালে জ্বলে উঠলেও পরিকল্পনার অভাবে গলে সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। আগেভাগেই দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেনি সফরকারীরা। তাই শান্ত ও মুশফিকের ইনিংস উঠেছে কাঠগড়ায়।
চায়ের টেবিলে ওঠা সেসব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন শান্ত। জানিয়েছেন, ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিজ ইচ্ছা বা মাইলফলকের জন্য তিনি এবং মুশফিক ব্যাট করেননি, দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে পড়েও থাকেননি। ২৬ বর্ষী বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘নিশ্চিত করতে পারি, ড্রেসিংরুমে কেউ ব্যক্তিগত মাইলফলকের জন্য খেলবে না।
গল থেকে একেবারেই ভিন্ন দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু। পরিসংখ্যান বলছে, সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ৪৫টি টেস্টের ৩১টির ফল হয়েছে। এ মাঠে সর্বশেষ ২০১৪ সালে ড্র হয়েছে। সেটিও আবার বৃষ্টির কারণে। ২০১০ সাল থেকে এই ভেন্যুতে কোনো টেস্ট ড্র হয়নি। এ মাঠে তিনটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। সবগুলোই বড় ব্যবধানে হেরেছে। সবশেষ ১৮ বছর আগে এই মাঠে খেলেছিল দলটি। ২০০১ সালে এ মাঠে টেস্ট অভিষেকেই সেঞ্চুরি করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি, যা এখনও তার দখলে।
সিংহলিজের উইকেটে স্পিনাররা ৫১.৯২ শতাংশ এবং পেসাররা ৪৮.০৮ শতাংশ উইকেট শিকার করেছে। এই ভেন্যুতে ১৬৬ উইকেট নিয়ে শীর্ষে শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরন। প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের সহজেই মোকাবিলা করেছিল সফরকারীরা, যা টাইগার ব্যাটারদের বাড়তি সাহস দেবে। কিন্তু গেল বছর এই ভেন্যুতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে স্পিনার প্রবাথ জয়সুরিয়ার ৮ উইকেট শিকারের ম্যাচে ১০ উইকেটে বড় ব্যবধানে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা।
সম্প্রতি এই ভেন্যুতে সফরকারী স্পিনারদের বিপরীতেও হিমশিম খেতে হয়েছে লঙ্কানদের। ২০২২ সালে পাকিস্তানের দুই স্পিনার আবরার আহমেদ ও নোমান আলির বোলিং তোপে হার বরণ করেছিল শ্রীলঙ্কা। এমন পরিসংখ্যান, সেই সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজের একাদশে ফিরে আসা নিশ্চিত বাংলাদেশকে উজ্জীবিত করবে। এজনই বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্স সরাসরিই বলে দিয়েছেন জয়ের লক্ষ্যের কথা।
দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে টাইগার দলের কোচ বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কা ভালো ক্রিকেট খেলছে, তাদের হারানো সহজ হবে না। কিন্তু গলের মতো এখানেও আমরা জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামব। আমার মানসিকতা সবসময়ই এমন- কীভাবে জেতা যায়, সেটা খুঁজে বের করতে হবে।’