প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৫ ১৯:৫৮ পিএম
সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের খুব একটা সাফল্য নেই। ২০২১ সালের মার্চে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১০ উইকেটে জেতার পর থেকে দশটি টেস্ট খেললেও জয়ের মুখ দেখেনি। আটটিতে হারের বিপরীতে দুটি ম্যাচ ড্র করতে পেয়েছে। সেই জয়খরা কাটানোর মিশনে এবার তরুণ একটি দল নিয়ে বাংলাদেশ বধের চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে জিম্বাবুয়ানরা।
বর্তমান স্কোয়াডের ১০ বা তার বেশি টেস্ট খেলেছেন কেবল অধিনায়ক ক্রেইগ
আরভিন (২৩ টেস্ট), শন উইলিয়ামস (১৭) ও ব্লেসিং মুজারাবানির (১০)। প্রতিশ্রুতিশীল ও
ভয়ডরহীন ক্রিকেট উপহার দিতে পারেন বেন কারান, ব্রায়ান বেনেট, জোনাথন ক্যাম্পবেল ও রিচার্ড
এনগারাভার মতো খেলোয়াড়রা। তারুণ্যনির্ভর দলকে নিয়েই বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ব্যাপারে
আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শন উইলিয়ামস।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে ৩৮ বছর বয়সি এই অলরাউন্ডার বলেন,
‘হ্যাঁ, এটা তরুণ দল। আশা করি, তারা আরেকটু বেশি নির্ভীক ও চতুর হবে। টেস্ট ক্রিকেট
বিকশিত হচ্ছে। খেলোয়াড়রা দ্রুত রান করছে, নতুন কিছুর চেষ্টা করছে। ট্যাকটিক্যালি এখন
টেস্ট ক্রিকেটে অনেক কিছু হচ্ছে। এই তরুণরা কী করতে পারে সেটা দেখতে পারা হবে রোমাঞ্চকর।’
সিরিজ ভালোভাবে শুরু করাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন উইলিয়ামস। বাংলাদেশের
বিপক্ষে নিজেদের ভাগ্য পাল্টাতে আশাবাদী তিনি। শেষবার তারা বাংলাদেশে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল
২০১১ সালে। আর সবশেষ বাংলাদেশকে তারা টেস্টে হারিয়েছিল ২০১৮ সালে। সিলেটেই ১৫১ রানে
জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। রবিবার সেখানেই শুরু হচ্ছে সিরিজ।
সিলেটের উইকেট, কন্ডিশন প্রসঙ্গে উইলিয়ামস জানিয়েছেন, ‘পিচ কিছুটা
ভিন্ন লাগছে এবার। আগেরবার লো স্লো এবং স্পিন সহায়ক মনে হয়েছিল। এবার ঘাস আছে বেশি
পেস সহায়কও। পরিসংখ্যান বলছে এখানে প্রায় ৮০% সময়ে পিচ পেস সহায়ক থাকে। ফলে এখানে পেস
সহায়ক পিচ থাকবে। আমাদের কিছু স্কিড বোলার আছে, ভালো দক্ষ বোলার আছে, ব্লেসিং আছে,
ভিক্টোর আছে, গুয়ান্দু আছে। আশা করি ভালো লড়াই হবে।’
মাঠে নামার আগে দলের প্রস্তুতির ব্যাপারে উইলিয়ামসের মুখে ঝরেছে সন্তুষ্টি।
নিজেরা দেশ থেকে প্রস্তুতি নিয়েই খেলতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘আমার মনে হয় আমাদের
প্রস্তুতি বেশ ভালো হয়েছে। জিম্বাবুয়েতে আমরা গেম টাইম পেয়েছি অনেক। সেখানে পেসাররা
বেশ ভালো করেছে। দলের মানসিক অবস্থা এবং পরিবেশ দারুণ। দুর্দান্ত যাচ্ছে সবকিছু।’
বাংলাদেশের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া সম্পর্কে উইলিয়ামসের ভাষ্য, ‘আমার
ক্ষেত্রে বলব এখানে অনেকবার সফর করা হয়েছে। অবশ্যই ঘুম, হাইড্রেশন এবং খাদ্যাভ্যাস
ঠিক রাখাটা বেশি জরুরি এখানে এই প্রান্তে এসে। উইকেটের ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতি,
নেটে খেলা, নিজেদের খেলাটা ঠিক রাখা এবং মনোযোগ নষ্ট হওয়া থেকে দূরে থাকা এসব ব্যাপারই
আসলে বেশি জরুরি।’