কোপা দেল রে
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৫ ১৯:৪৮ পিএম
প্রথম লেগে রোমাঞ্চকর এক লড়াই উপহার দিয়েছিল বার্সেলোনা ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। তবে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে খুব একটা জমেনি লড়াই। ফেররান তোরেসের কল্যাণে প্রথম আধা ঘণ্টায় পাওয়া গোল বাকি সময়ে আগলে রাখল বার্সেলোনা। তাতে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে তিন মৌসুম পর কোপা দেল রের ফাইনালে উঠল কাতালান দলটি।
বুধবার রাতে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ ব্যবধানের জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বার্সা। আগামী ২৬ এপ্রিল শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ। ২০১৪ সালের পর এই প্রথম স্পেনের দ্বিতীয় সেরা প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে দেখা যাবে এল-ক্লাসিকো মহারণ।
এই বছরের স্প্যানিশ সুপার কাপ বার্সেলোনা জিতে নিয়েছে আগেই। এবার কোপা দেল রের সেমিফাইনাল জিতে ফ্লিক শোনালেন আরও ট্রফির তাড়না, যেখানে ফুটে উঠল ট্রেবলের চাওয়া। যদিও বেশ সতর্কও তিনি, ‘আমাদের বড় স্বপ্ন হলো অনেক ট্রফি জয় করা। প্রথমটি (সুপার কাপ) আমরা জিতেছি। কিন্তু আরও অনেক ট্রফি জয়ের সুযোগ এই ক্লাবের আছে। এই মুহূর্তটি দারুণ (ফাইনালে ওঠা)। তবে আমি যথেষ্ট অভিজ্ঞ কোচ। এটা জানি যে, সবকিছু কত দ্রুত বদলাতে পারে। তবে স্বপ্ন দেখতেই পারি আমরা। এজন্য আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।’
বার্সেলোনার জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে এই মৌসুমে আরেকটি এল ক্লাসিকো। আগের দিনই রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ফাইনালে উঠে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। কোপা দেল রের ইতিহাসে সাতবার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল। রিয়াল জিতেছে চারবার, বার্সেলোনা তিনবার। গত ৩৫ বছরে অবশ্য স্রেফ দুইবার ফাইনালে দেখা হয়েছে তাদের। দুবারই জিতেছে রিয়াল। সবশেষ ম্যাচটি ছিল ২০১৪ সালে। যেটিতে ৮৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে গ্যারেথ বেলের সেই অসাধারণ দৌড়ে দুর্দান্ত গোলটি আইকনিক গোল হয়ে আছে। সেবার ২-১ গোলে জিতেছিল রিয়াল। ২০১১ আসরের ফাইনালে তারা জিতেছিল অতিরিক্ত সময়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হেডে।
চলতি মৌসুমে অবশ্য রিয়ালকে বেশ পর্যদুস্ত করে ছেড়েছে বার্সেলোনা। ফাইনাল ঘিরেও আগ্রহ থাকবে তুঙ্গে। ফ্লিক যদিও এখনই উত্তেজনায় বুঁদ হতে চান না, ‘আমি বর্তমানে বাস করতে চাই, অতীতে নয়, ভবিষ্যতেও নয়। এজন্যই ফাইনাল নিয়ে এখনই চিন্তা করছি না। আপনি যদি ফাইনালের কথা জিজ্ঞেস করেন, আমি বলব পরের ম্যাচ বেতিসের সঙ্গে (লা লিগায়)। ক্লাসিকো ম্যাচ সব সময়ই দারুণ। তবে এর আগে আমাদের অনেক ম্যাচ আছে। আমার কাছে এটা (ফাইনাল) এখন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নয়, আরও গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু এখনও আছে।’
গত ফেব্রুয়ারিতে কোপা দেল রের শেষ চারের প্রথম লেগে শুরুর ৬ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বার্সেলোনা। পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৮৩ মিনিট পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা; কিন্তু শেষ দিকে দুই গোল হজম করে জয় হাতছাড়া করে তারা, ৪-৪ ড্র।
ঘরের মাঠ মেট্রোপলিটানোয় বুধবার রাতে সমর্থকদের হতাশ করে অ্যাতলেটিকো। পুরো ম্যাচে ৬টি শট নিলেও তাদের একটি শটও ছিল না লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে ৫৭ শতাংশ সময় বল দখলে রাখা বার্সা ১৫টি শট নিয়ে ৫টি গোলমুখে রেখেছিল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনার অপরাজেয় যাত্রা পৌঁছে গেল টানা ২১ ম্যাচে। লা লিগার শীর্ষে থাকা দলটি এই বছর এখনও কোনো ম্যাচ হারেনি।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শুরু থেকে জমে ওঠে লড়াই। বল দখলে অবশ্য যথারীতি আধিপত্য করে বার্সেলোনা। কিন্তু কয়েকটি ‘হাফ চান্স’ তৈরি করলেও কাজে লাগাতে পারেনি কাতালানরা। লামিনে ইয়ামাল ও জুল কুন্দের শট লক্ষ্যে থাকেনি। একের পর এক চেষ্টার পর ম্যাচের ২৭তম মিনিটে বার্সাকে প্রথম সাফল্য এনে দেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেররান তোরেস।
ডি-বক্সে দারুণ এক পাস দেন ইয়ামাল, ছুটে গিয়ে প্রথম স্পর্শে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান রবার্ট লেভানদোভস্কির জায়গায় শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া তোরেস। প্রথমার্ধে আরও দুটি দারুণ সুযোগ পায় বার্সা। তবে সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ইয়ামাল-রাফিনিয়ারা। তাতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ওই গোলের লিড ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে কাতালুনিয়ারা।