নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাই
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৫ ১৮:৫৩ পিএম
এ বছরের অক্টোবরে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আট জাতির আসন্ন মেগা আসরে স্বাগতিক ভারতসহ অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা— এই ছয় দল সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার টিকিট কেটেছে। তবে সেই যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। এ বছরের জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারেই মূলত টাইগ্রেসদের সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেঙে যায়। তবে নিগার সুলতানা জ্যোতি ব্রিগেডের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। বাছাইপর্বের বাধা পেরোতে পারলে ভারতের টিকিট পাবে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।
পাকিস্তানের লাহোরে আগামী ৯ এপ্রিল পর্দা উঠবে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের। ছয় দলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশকে খেলতে হবে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, থাইল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। টুর্নামেন্ট খেলতে আজ বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের মাটিতে পা রেখেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। নারী দলের প্রধান কোচ হিসেবে সারোয়ার ইমরানের যাত্রা শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ বাছাই দিয়ে। দেশ ছাড়ার আগে হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। যেখানে দলের পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে বাছাইপর্বে পাঁচ ম্যাচের সবকটিই জেতার লক্ষ্য জানিয়েছেন অভিজ্ঞ এই কোচ।
নিগার সুলতানা জ্যোতিরা অবশ্য মাঠে নামবেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিন। ১০ এপ্রিল লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গ্রাউন্ডে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। বাংলাদেশের মেয়েদের দ্বিতীয় ম্যাচ লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। একই ভেন্যুতে ১৫ এপ্রিল স্কটল্যান্ডের মেয়েদের বিপক্ষে লড়াই করতে হবে জ্যোতি-নাহিদা আক্তারদের। লাহোর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গ্রাউন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশকে খেলতে হবে ১৭ এপ্রিল। ১৯ এপ্রিল বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে খেলতে হবে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে।
বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে কোনো প্রতিপক্ষকেই খাটো করে দেখছেন না বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরান। তবে সব কটি ম্যাচ জেতার লক্ষ্যের কথাই জানান তিনি, ‘ওখানে আমাদের পাঁচটি ম্যাচ আছে। আমরা একটি একটি করে সব কটি জিততে চাই। দুটি শক্তিশালী দল আছে আমাদের সঙ্গে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান। বাকিদেরও ছোট করে দেখতে চাই না। আমরা সবার সঙ্গে লড়াই করে একটির পর একটি ম্যাচ জিতে কোয়ালিফাই করতে চাই।’
লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এলসিসিএ) গ্রাউন্ড, গাদ্দাফি স্টেডিয়াম—লাহোরের এই দুই মাঠে হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচগুলো। পাকিস্তানের ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলারদেরও দারুণ কিছু যে করে দেখাতে হয়, সেভাবেই মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১০ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্পে অনুশীলন হয়েছিল বলে জানান সারোয়ার, ‘আমরা এই ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। আমাদের যে ক্যাম্প হয়েছে, আমরা বিশেষ এই কাজগুলো করেছি। ব্যাটিং উইকেটে কীভাবে বোলিং করতে হবে, কীভাবে ব্যাটিং করতে হবে, স্ট্রাইক রেট কেমন হবে সেগুলো অনুশীলন করিয়েছি। ব্যাটিং উইকেট হলে এখানে (পাকিস্তানে) ২৫০-এর বেশি রানের উইকেট হবে। আমি আশা রাখি, ব্যাটসম্যানরা করতে সক্ষম হবে।’
রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে হবে ৬ দলের বিশ্বকাপ। বাছাই পর্বে পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুইয়ে থাকা দুটি দল জায়গা করে নেবে ভারত বিশ্বকাপ। সে মিশনকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের দল থেকে বাদ পড়েছেন মুর্শিদা খাতুন, সুলতানা খাতুন এবং তাজ নেহার। পায়ের চোটের কারণে দলে নেই লতা মণ্ডলও। সবশেষ নারী ডিপিএলে আলো ছড়িয়ে সুযোগ পেয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনা, ইশমা তানজিম এবং রিতু মনি। তাদের তিনজনের মধ্যে জান্নাতুল-রিতু স্কোয়াডে ফিরলেও প্রথমবার ডাক পেয়েছেন ইশমা। সর্বশেষ নারী ডিপিএলের চ্যাম্পিয়ন দল শেলটেক ক্রিকেট একাডেমির হয়ে খেলেছেন জান্নাতুল এবং ইশমা। দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে বল হাতে ২১ উইকেট নিয়েছেন স্পিনার সুমনা। তারই সতীর্থ ইশমা ব্যাটিংয়ে আলো ছড়িয়ে ৭ ম্যাচে করেছেন ৩৩৬ রান। গুলশানের হয়ে ৮ ম্যাচে ১৮ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে ১৬৩ রান করেন রিতু।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি কঠিন দলের বিপক্ষে লড়তে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের। গ্রুপের দল নিয়ে গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে জ্যোতি বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত খেলা হয়। সে তুলনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে কম, তবে সম্প্রতি আমরা তাদের বিপক্ষে খেলে এসেছি। তাদের আগে কিন্তু আমরা থাইল্যান্ড-স্কটল্যান্ডের সঙ্গে খেলব।’
সাফল্য পেতে হলে ব্যাটারদের সঠিক ভূমিকায় দেখতে চান জ্যোতি, ‘প্রথম দিকে আমরা যদি একটা মোমেন্টাম ক্রিয়েট করতে পারি তাহলে ভালো হবে। আমাদের ব্যাটিং যদি ভালো করতে পারি তাহলে ভালো হবে। পাকিস্তানের উইকেট ব্যাটিং-বান্ধব, আবার আমাদের বোলাররাও সব সময় অনেক দুর্দান্ত (পারফর্ম করছে)। ব্যাকআপ দেয় তারা সব সময়, ব্যাটিং উইকেটে যেন আমরা আরও ভালো করতে পারি সেটাই লক্ষ্য থাকবে।’
বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট নিয়ে প্রশংসা করলেও, বিরূপ উইকেটে তাদের কৌশল নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘গত কয়েকটা সিরিজ আমরা যখন বাইরে খেলেছি, তারা অনেক ভালো করেছে। ভালো উইকেটে যত ভালো বোলিং করা যায় আরকি। এসব উইকেটে অত টার্ন পাবেন না, আর আমাদের (মাঠ) তো স্পিননির্ভর থাকে। দেশের উইকেটে খেলার সময় ভালো জায়গায় বল করলে উইকেট চলে আসে। কিন্তু দেশের বাইরে উইকেট নেওয়ার জন্য অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। বোলারদের সঙ্গে এভাবে কথা হয়েছে যেন উইকেটের পেছনে না ছুটে ইকোনমিক্যাল বল করতে পারি।’