রিয়ালের আরেকটি প্রত্যাবর্তন
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৫ ১৯:৪৪ পিএম
খেলার ৭২ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে রিয়াল সোসিয়েদাদকে এগিয়ে দিলেন ডেভিড আলাবা। এরপর শুরু হলো গোলের উৎসব। ক্ষণে ক্ষণে বদলাতে থাকল ম্যাচের গতিপথ। কখনও রিয়াল সোসিয়েদাদ ফাইনালের পথে এগিয়ে যায় তো কখনও রিয়াল মাদ্রিদ। রোমাঞ্চে ঠাসা লড়াইয়ের ১১৫ মিনিটে আরেকবার অতিথিদের জালে বল পাঠিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ব্যবধান গড়ে দিলেন রিয়াল মাদ্রিদের অ্যান্তনি রুডিগার। তাতে কোপা দেল রের ফাইনালে জায়গা করে নিল কার্লো আনচেলত্তির দল।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মঙ্গলবার রাতে সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগ ৪-৪ গোলে ড্র করে রিয়াল মাদ্রিদ। ফলে প্রথম লেগের ১-০ গোলে জয়ের সুবাদে শেষ হাসি হাসল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। রিয়াল মাদ্রিদের চার গোলদাতা হলেনÑ এন্দ্রিক, জুড বেলিংহ্যাম, চুয়ামেনি ও রুডিগার। আর সোসিয়েদাদের হয়ে জোড়া গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল, একবার জালে বল পাঠান আন্দের বারেনেচিয়া।

দুই লেগ মিলিয়ে অনেকটা সময় পর্যন্ত এগিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। উত্তেজনাও ততটা ছিল না। তবে আট মিনিটের মধ্যে যখন দুই গোল খেয়ে বসে ঘরের মাঠের দলটি, কোপা দেল রে থেকে বিদায়ের চোখ রাঙানি তখন তাদের সামনে। তবে এই রিয়াল মাদ্রিদ তো শেষের আগে শেষ হওয়ার নয়, বিশেষ করে খেলাটা যখন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে! চেনা আঙিনায় আরেকটি প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনালে ওঠার পর কার্লো আনচেলত্তি বললেন, বিদায়ের ভাবনা কখনই মাথায় আসেনি তার।
কোপা দেল রের সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগে মঙ্গলবার ষোড়শ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের জালে বল পাঠিয়ে প্রথম লেগের ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলে সোসিয়েদাদ। ৩০ মিনিটে এন্দ্রিকের গোল দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে দেয় রিয়ালকে। তবে ৭২তম মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবার আত্মঘাতী গোল ও ৮০ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের লক্ষ্যভেদে ম্যাচে সোসিয়েদাদ এগিয়ে যায় ৩-১ ব্যবধানে। জবাব দিতে অবশ্য বেশি সময় লাগেনি স্বাগতিকদের। ৮২ মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম ও ৮৬ মিনিটে চুয়ামেনির গোলে স্কোরলাইন ৩-৩ করে ফেলে তারা। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে তখন আনচেলত্তির দলই।

এরপরই আবার নাটকীয়তা। যোগ করা সময়ে ওইয়ারসাবালের দ্বিতীয় গোলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে আর পেরে ওঠেনি সফরকারীরা। ১১৫ মিনিটে স্কোরলাইন ৪-৪ করে ফেলেন রুডিগার। প্রথম লেগে ১-০ গোলের জয় রিয়ালকে ফাইনালে পৌঁছে দেয় ৫-৪ গোলের অগ্রগামিতায়। ম্যাচের পর আনচেলত্তির কণ্ঠে যেমন ফুটে উঠল লক্ষ্য পূরণ হওয়ার উচ্ছ্বাস, তেমনি খেলোয়াড়দের প্রতি সব সময় আস্থা রাখার কথা বললেন তিনি, ‘আমরা আজ (মঙ্গলবার রাত) আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছি, যেটা ছিল ফাইনালে পৌঁছানো। এটা নিয়ে ভাবার খুব বেশি সময় নেই। কিছু ভুল এবং অনেক ভালো কিছু মিলিয়ে বিনোদনদায়ী এক ম্যাচ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমরা ফাইনালে উঠতে পেরেছি। কখনই ভাবিনি, আমাদের বিদায় নিতে হবে, কারণ বার্নাব্যুতে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। যখন আমরা পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপার থাকে, আমরা কখনই হাল ছাড়ি না, বিশেষ করে ঘরের মাঠে, যেখানে আমাদের পাশে সমর্থকরা থাকে।’

রিয়ালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় গোল হজম করায় দায় ছিল আলাবার। তবে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারকে দোষ দিতে নারাজ আনচেলত্তি। তিনি প্রশংসা করলেন দলের আক্রমণভাগেরও, ‘এক ম্যাচে চার গোল হজম করা ভালো নয়। তবে আক্রমণভাগে আমরা যা করেছি, তা ভুলে গেলে চলবে না, রিয়ালের (সোসিয়েদাদ) বিপক্ষে চার গোল করা এত সহজ নয়। আমার মনে হয় আমরা বেশ ভালো খেলেছি।’
২০১৩-১৪ মৌসুমের পর পর কেবল একবার কোপা দেল রের শিরোপা জিততে পেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ (২০২২-২৩ মৌসুমে)। এবার শিরোপা লড়াইয়ে আগামী মাসে বার্সেলোনা অথবা আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে ইউরোপের সফলতম দলটি।