প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৫ ১০:১৭ এএম
আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৫ ১১:১৮ এএম
জাতীয় দলের ব্যস্ততা শেষের এক দিন পরই ম্যাচ হওয়ায় একাদশে ছিলেন না নিয়মিত খেলোয়াড়ের বেশ কয়েকজন। তবে বার্সেলোনার মাঠের খেলায় এর কোনো প্রভাবই পড়েনি। শুরু থেকেই ওসাসুনার রক্ষণে প্রবল চাপ তৈরি করতে থাকেন কাতালানরা। আক্রমণাত্মক ফুটবলে সহজ জয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান সুসংহত করল হান্সি ফ্লিকের দল।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) রাতে ঘরের মাঠ অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ওসাসুনার বিপক্ষে একপেশে ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে বার্সেলোনা। ফেররান তোরেস দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর সফল স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দানি ওলমো। আর বদলি নেমে হেডে চমৎকার গোলে ফল নিয়ে সব অনিশ্চিয়তার ইতি টানেন রবার্ট লেভানদোভস্কি।
প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের মাঠে ৪-২ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। এবার ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে মধুর প্রতিশোধ নিয়েই ছাড়ল তারা। ২৮ ম্যাচে ২০ জয় ও তিন ড্রয়ে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। ৬০ পয়েন্ট নিয়ে ২-এ রিয়াল মাদ্রিদ, ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে ৩-এ আতলেতিকো মাদ্রিদ। ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে ১৪ নম্বরেই আছে ওসাসুনা।
বার্সেলোনা-ওসাসুনা ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ৮ মার্চ, তবে খেলা শুরু হওয়ার ২০ মিনিট আগে বার্সার চিকিৎসক কার্লেস মিনারো গার্সিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে তা স্থগিত করা হয়। তবে পুনর্নির্ধারিত ম্যাচের সময়সূচি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক। আন্তর্জাতিক বিরতির মাত্র এক দিন পর ম্যাচটি আয়োজন করাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বার্সার অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় রাফিনিয়া এ ম্যাচে খেলতে পারেননি, কারণ তিনি ব্রাজিল থেকে দীর্ঘ ভ্রমণের পর বিশ্রামে ছিলেন। ডিফেন্ডার জুলস কুন্দেও সময়সূচির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘এটা শুধু ক্লাবের জন্য নয়, খেলোয়াড়দের জন্যও অসম্মানের। আমাদের বোঝা উচিত, আমরা যন্ত্র নই।’
সূচি নিয়ে অভিযোগ থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে বার্সেলোনা ছিল দুর্দান্ত। ম্যাচের শুরু থেকে একের পর এক আক্রমণে ওসাসুনাকে ভীষণভাবে চেপে ধরে বার্সেলোনা। যার ফলে একাদশ মিনিটেই গোলও পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের রক্ষণ চেরা পাস পেয়ে চলতি বলেই ক্রস করেন আলেহান্দ্রো বাল্দে। দুজনের কড়া পাহারার মধ্যেই ছুটে গিয়ে স্লাইডে জাল খুঁজে নেন তোরেস।
৩ মিনিট পর ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন তোরেস। লামিনে ইয়ামালের দারুণ পাসে গোলরক্ষক সার্জিও এররেরাকে একা পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। তবে সে আক্ষেপ বেশিক্ষণ থাকেনি বার্সার। বেশ নাটকীয়তার পর ২১তম মিনিটে সফল স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দানি ওলমো।
কিন্তু গোল করার পর বেশিক্ষণ মাঠে থাকতে পারেননি ওলমো। মৌসুমে তৃতীয়বারের মতো চোট পেয়ে ২৭তম মিনিটে মাঠ ছাড়েন তিনি। বদলি নামেন ফের্মিন লোপেজ। ২৯তম মিনিটে পেদ্রির ক্রসে খুব কাছ থেকে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি তোরেস। ২ মিনিট পর ইয়ামালের আড়াআড়ি শট বেরিয়ে যায় দূরের পোস্টের কাছ দিয়ে।
৩৯তম মিনিটে একটুর জন্য জালের দেখা পাননি তোরেস। তার চমৎকার ফ্রি কিক ব্যর্থ হয়ে যায় ক্রসবারে লেগে। একই ছন্দে শুরু করা দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম সুযোগ তৈরি করে বার্সেলোনাই। ৪৭তম মিনিটে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি পেদ্রি। পরের মিনিটে কর্নার থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ওসাসুনা ডিফেন্ডার হোর্হে এররান্দো।
৫৬তম মিনিটে আরও একটি সুযোগ নষ্ট করেন তোরেস। খুব কাছ থেকে আরও একটি শট লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন তিনি। ৬০তম মিনিটে ওসাসুনা ফরোয়ার্ড মোই গোমেস বদলি নামার পরের মিনিটে সুযোগ পান। চমৎকার স্লাইডে কর্নারের বিনিময়ে তার শট ফিরিয়ে দেন এরিক গার্সিয়া। তবে আক্রমণাত্মক ফুটবলে বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি তারা।
৭৭তম মিনিটে চমৎকার পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান বাড়ায় বার্সেলোনা। নিজেদের ডি-বক্সের সামনে থেকে বাড়ানো বল ধরে লোপেজ দারুণ ক্রসে খুঁজে নেন লেভানদোভস্কিকে। অসাধারণ হেডে বাকিটা সারেন ছন্দে থাকা পোলিশ স্ট্রাইকার। চলতি আসরে এটি তার ২৩তম গোল। এরপর আর কোনো গোল না হলে সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্লিকের দল।