চ্যাম্পিয়নস লিগ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৫ ২১:৩২ পিএম
আজ আতলেটিকোর ডেরায় পরিক্ষায় বসবে রিয়াল মাদ্রিদ
রিয়াল মাদ্রিদ নাকি আতলেটিকো মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে যাচ্ছে কে? মাদ্রিদ ডার্বির ফল জানতে অবশ্য অপেক্ষা করতে হবে, চোখ জোড়া নিবিষ্ট করতে হবে টিভি পর্দায়। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ২-১ ব্যবধানে জিতে কিছুটা নির্ভার লস ব্লাঙ্কোসরা। তবে ফিরতি লেগে কার্লো আনচেলত্তিরা অতিথি। রিয়াদ এয়ার মেট্রোপলিটানোতে কিলিয়ান এমবাপে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের দ্বিধায় ফেলতে পারে স্থান-কন্ডিশন। এসবের পাশাপাশি বুধবার রাত ২টার আগুনে ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারেন ডাগআউটে দাঁড়ানো দুই মাস্টারমাইন্ড দিয়েগো সিমিওনে ও আনচেলত্তি। তাদের পুরোনো বিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, বিশেষ মুহূর্তে হাত-পা ছোড়াছুড়ি কিংবা নখ কামড়ানোর দৃশ্য জোগান দিতে পারে আলাদা রসদ।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ডিফেন্ডিং
চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। অথচ বহু চড়াই-উতরায় পেরিয়ে শেষ ষোলোয় বার্নাব্যুর দল। এই
পর্বে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় নগর প্রতিদ্বন্দ্বী আতলেটিকোকে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে
প্রথম লেগে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয় পায় রিয়াল। ম্যাচটিতে মাত্র ৪ মিনিটে রদ্রিগোর গোলে
এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা, পরে হুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত গোলে সমতায় যায় অতিথিরা। অবশ্য
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্রাহিম দিয়াজ দলকে জয়সূচক গোল উপহার দেন। ম্যাচের বাকি সময় আক্রমণ-প্রতি
আক্রমণে জমে উঠলেও আর সমতায় ফেরা হয়নি আতলেটিকোর।
আসরে রিয়াল রোলারকোস্টারে চড়লেও
শীর্ষ পাঁচে থেকে শেষ ষোলো নিশ্চিত থাকে আতলেটিকো। ৮ ম্যাচে ৬ জয় ছিল তাদের। তবে শেষ
ষোলোয় প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় রিয়ালকে। ভিনিদের কাছে প্রথম লেগেই বড়সড় ধাক্কা খায় তারা।
চলতি বছর প্রথম দেখায় দুদল ড্র করলেও দ্বিতীয় দেখায় হেরে বসে আতলেটিকো। এর আগে ২০২৪
সালে ৪ দেখায় মাত্র একবার করে জিতেছে দুই দল। বাকি ম্যাচ দুটি ড্র হয়েছে।
রিয়াল-আতলেটিকোর সম্প্রতি শক্তিমত্তা
দেখে মনে হতে পারে প্রতিযোগিতায় দুদল সমমানের। তবে সার্বিক বিচারে অর্থাৎ ২০১০ সাল
থেকে ২০২৫ সালের ৫ মার্চ পর্যন্ত হিসাব টানলে দেখা যাবে সবগুলো লিগ মিলিয়ে ৫২ বার মুখোমুখি
হয়েছে রিয়াল ও আতলেটিকো। সর্বোচ্চ ২২ বার জিতেছে রিয়াল। আতলেটিকোর পক্ষে ফল গেছে ১৩টিতে।
১৭ ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে টিকে থাকার মিশনে কেউ যে কাউকে ছাড় দিয়ে
কথা বলবে না, তা দুদলের কোচের কথায় স্পষ্ট।
বুধবারের ম্যাচ প্রসঙ্গের আগে
প্রথম লেগের প্রসঙ্গ টেনে আনচেলত্তি বলেন, ‘৭০ মিনিট পর্যন্ত তারা দুর্দান্ত খেলেছে।
তাদের ৩-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু যখন আমি মনে করি যে, রক্ষণের সময়
এসেছে, তখন আমি ফরোয়ার্ডদের সরিয়ে নিই। আর এটা করতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি তার
কাছ থেকে কিছু মিনিট সময় নিয়েছি, যেমনটি রদ্রিগোর সঙ্গে হয়েছে এবং বাকিটা বুধবারের
জন্য তার জন্য ভালো হবে।’
এই মুহূর্তে রিয়াল কিছুটা চোটে
জর্জরিত। এ নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘থিবোর হালকা একটু সমস্যা আছে। তবে আমি মনে করি,
বুধবারের ম্যাচের জন্য আগেই সে সেরে উঠবে। আশা করি, রুডিগার অসুস্থতা কাাটিয়ে ফিরতে
পারবে। সে ফ্লুতে ভুগছে। এ ছাড়া খেলোয়াড়দের সতেজ মনে হচ্ছে। আমাদের পরের ধাপে যাওয়ার
ভালো সম্ভাবনা থাকবে।’
বার্নাব্যুতে শুরুতে পিছিয়ে
পড়ার আতলেটিকো যেভাবে সাড়া দিয়েছে, তাতে খুশি আর্জেন্টাইন কোচ সিমিওনে। তিনি আশাবাদী,
বুধবার ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোয় সমীকরণ মিলিয়ে নিতে পারবেন। ইন্টার মিলানের বিপক্ষে
যেমনটা তারা করতে পেরেছিলেন গত মৌসুমে। বলেন, ‘যখন ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তখন
আরও ভালোভাবে সুবিধা কাজে লাগানো উচিত ছিল।’
শেষ দিকে রিয়াল ব্যবধান বাড়ানোর
সুযোগ হাতছাড়া করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়নি। ন্যূনতম ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় সিমেওনে
আশাবাদী, ফিরতি লেগে ঘরের মাঠ তাদের জন্য উদ্দীপক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে বাঁচা-মরা
মিশনে এদিন আর্সেনালের মুখোমুখি হবে পিএসভি। ক্লাব ব্রুগ খেলবে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে।
আর ডর্টমুন্ডের প্রতিপক্ষ লিলে।