প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৫ ১০:৫৯ এএম
আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৫ ১১:৪৮ এএম
আরও ক’বছর দলকে সার্ভিস দিতে চান রোহিত শর্মা
নতুনদের সুযোগ দেওয়া, পাশাপাশি বয়সটাও যে ৩৮ ছুঁইছুঁই। তাতেই জল্পনা চলছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষে এক দিনের ক্রিকেটকে জানাবেন বিদায়। তবে ভারতের হয়ে রেকর্ড তৃতীয়বার শিরোপা জয়ের পর অবসর নিয়ে একটি বাক্যও উচ্চারণ করেননি রোহিত শর্মা। বরং হিটম্যানের কথাবার্তায় ফুটে উঠেছে ভিন্ন কিছু। আরও ক’বছর দলকে সার্ভিস দিতে চান তিনি। এমনকি ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিলেন না। বারবার তার মুখে উঠে এলো আগ্রাসি ক্রিকেট খেলে যাওয়ার।
নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের পর গতকাল রবিবার সব গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ৩৭ বছর বয়সী রোহিত, ‘আমি এই সংস্করণ থেকে অবসর নিচ্ছি না। এ বিষয়ে যেন কোনো গুজব না ছড়ায় তা নিশ্চিত করতেই কথাটা বললাম।’ এখন অবসর না নিলেও ঠিক কবে অবসর নিতে পারেন, সে বিষয়েও কিছু বলেননি রোহিত। বরং রোহিত বললেন অবসর নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ভাবনা নেই তার।
তার আগে সঞ্চালকের প্রশ্নের উত্তরে রোহিত বললেন, ‘জিততে পেরে দারুণ লাগছে। গোটা প্রতিযোগিতা জুড়েই আমরা ভালো খেলেছি। ফাইনালেও জেতার অনুভূতিটা বাকিগুলোর থেকে আলাদা। যেভাবে খেলেছি সেটা বাড়তি তৃপ্তি দিচ্ছে। এর পরই আগ্রাসনের কথা উঠে এলো তার মুখে। বললেন, ‘অনেকেই জানেন, আমার স্বাভাবিক খেলা নয় এটা। কিন্তু এ ধাঁচেই খেলতে চেয়েছিলাম। যখন আপনি আলাদা কিছু করছেন, তখন দল এবং কোচদের সমর্থন খুব দরকার হয়। আগে রাহুল ভাইয়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছিলাম। এখন গৌতি (গৌতম গম্ভীর) ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। ওরা দুজনই আমাকে সমর্থন করেছেন। তাই আগ্রাসি খেলা চালিয়ে গিয়েছি। গত কয়েক বছর অন্যভাবে খেলেছি। এখন অন্যভাবে খেলে ফলাফল পাচ্ছি।’
ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্য নিয়ে তিনি জানিয়েছেন কিছু গোপনীয়তা। বললেন, ‘সবার আগে বুঝতে হবে পিচ কী রকম। সে অনুযায়ী খেলতে হবে। আজ (রবিবার) প্রথম ৫-৬ ওভার কীভাবে খেলব সে ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা ছিল। আগে আগ্রাসি খেলতে গিয়ে আউট হয়েছি। তবে শট মারার ধরনের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। দলের ব্যাটিং গভীরতা আমাকে আরও স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ করে দেয়। জাদেজার মতো ক্রিকেটার ৮ নম্বরে খেলতে নামছে। এটাই আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে বাধ্য।’
একসময় টানা উইকেট পড়লেও যেভাবে কেএল রাহুল শেষ পর্যন্ত থেকে ম্যাচ বের করে দিয়েছেন তার প্রশংসা করেছেন রোহিত। একই সঙ্গে বোলার বরুণ চক্রবর্তীর প্রশংসাও শোনা গেছে তার মুখে। রোহিতের কথায়, ‘কেএলের মানসিকতা নিয়ে কী আর বলব। চাপে পড়লে কখনও সেটা দেখাতে ভালোবাসে না। একাই ম্যাচটা শেষ করে এলো। চাপের মুখে ঠিক যে শটটা খেলতে হবে সেটাই খেলে। বাকিদের স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ করে দেয়। আজ যে রকম হার্দিককে খোলা মনে খেলতে দিল।’ রোহিতের সংযোজন, ‘আগেই বলেছি, বরুণের মধ্যে আলাদা একটা ব্যাপার রয়েছে। এ ধরনের পিচে খেলতে গেলে ওর মতো বোলারদেরই দরকার। শুরুর দিকে খেলেনি। পরের দিকে খেলে অনেক উইকেট নিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে ৫ উইকেটের কথাই ধরুন। আমাদের সাহায্য করেছে।’
ফাইনাল মঞ্চে রোহিত নিজে খেলেছেন ৮৩ বলে ৭৬ রানের ইনিংস। হয়েছেন ফাইনালের ম্যাচসেরাও। ভারতের ব্যাটিং গভীরতার জন্যই শুরুতে মেরে খেলার স্বাধীনতা পেয়েছেন বলেই জানালেন অধিনায়ক, ‘এ সব তো কাজ সহজ করে দেয়। একটু স্বাধীনতাও দেয়। এ কারণেই আমি আগেই বলেছি ব্যাটিং-গভীরতা যতটা সম্ভব বাড়ানোর কথা। জাদেজা আট নম্বরে নামে, এটাই তো আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট।’