চ্যাম্পিয়নস লিগ
১০ জন নিয়েও জিতেছে বার্সেলোনা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৫ ১৩:৫৫ পিএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৫ ১৩:৫৫ পিএম
চ্যাম্পিয়নস লিগে থিবো কোর্তোয়ার সেই অবিশ্বাস্য ম্যাচের কথা এখনো স্বরণ করেন ফুটবলপ্রেমিরা, বিশেষকরে রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকেরা। ২০২২ সালের সেই ফাইনালে লিভারপুলের ২৪ শটের সামনে বাধার প্রাচীর তৈরি করেছিলেন কোর্তোয়া। শেষ পর্যন্ত অল রেডরা পারেনি কোর্তোয়ার বাধা ডিঙ্গাতে। এবার তেমন এক প্রাচীর পিএসজির সামনে দ্বার করালেন লিভারপুলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষেলোর প্রথম লেগে ফরাসী চ্যাম্পিয়নদের ২৭ শটের সামনে প্রাচীর বানালেন ৩২ বছর বয়সি তারকা। তাতে ফ্রান্স থেকে ১-০ গোলে জিতে ইংল্যান্ডে ফিরতে পেরেছে আর্নে স্লটের দল।
‘প্রতিপক্ষের সামনে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন কোনো গোলরক্ষক’, কত ম্যাচে কতবারই তো এই কথা লেখা বা বলা হয়েছে। কিন্তু অ্যালিসন বেকার যেমন দেখালেন, তাতে এই বিশেষণকেও এখন হয়তো ভাবতে হবে নতুন করে। পিএসজির কঠিন আক্রমণের স্রোতও বিন্দুমাত্র ফাটল ধরাতে পারেনি তার প্রতিরোধে। লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক নিজেও বলছেন, গোটা ক্যারিয়ারে এর চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স আগে আর দেখাতে পারেননি তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে বুধবার রাতে পিএসজির আগ্রাসী ফুটবলের সামনে লিভারপুল ছিল বিপর্যস্ত। কিন্তু একের পর এক আক্রমণ করেও গোল করতে পারেনি ফরাসি দলটি। কিছু কৃতিত্ব প্রাপ্য লিভারপুলের রক্ষণভাগের; তার চেয়েও বড় কৃতিত্ব আলিসনের।
গোটা ম্যাচে গোলে ২৭টি শট নিয়েছে পিএসজি। এর ১০টি ছিল লক্ষ্যে। তার পরও একটি গোলও করতে পারেনি ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচজুড়ে শুধু আক্রমণ ঠেকিয়ে যাওয়া লিভারপুল উল্টো ৮৭তম মিনিটে বদলি নামা হার্ভি ইলিয়টের গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
পুরো ম্যাচে বেকার সেভ করেছেন ৯টি। গোল হজম না করা ম্যাচে চলতি চ্যাম্পিয়নস লিগে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ সেভ করার কীর্তি এটি। প্রায় ১২ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে চারশর মতো ম্যাচ খেলেছেন অ্যালিসন বেকার। অনেকবারই দলের ত্রাতা হয়েছেন। অনেক দিন ধরেই তিনি বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকদের একজন। কিন্তু এই ম্যাচ তার নিজের মানদণ্ডেও ভিন্ন উচ্চতায়।
ম্যাচের পর অ্যালিসনকে জিজ্ঞেস করা হয়, এই মৌসুমে তার সেরা পারফরম্যান্স এটিই কি না। ৩২ বছর বয়সি তারকা সীমানা বাড়িয়ে দিলেন ক্যারিয়ারজুড়ে, ‘হ্যাঁ… আমার তো মনে হয়, সম্ভবত আমার জীবনেরই সেরা পারফরম্যান্স। ম্যানেজার আমাদেরকে আগেই বলেছিলেন, পিএসজির বিপক্ষে কাজটা কতটা কঠিন হবে, বল পায়ে তারা কতটা ভালো ও ভোগান্তির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে আমাদের। প্রতিপক্ষের ম্যাচের ভিডিও ক্লিপ দেখেই বোঝা যায়, কী অপেক্ষায় আছে, যখন এতটা মানসম্পন্ন দল তারা। তবে আমরাও কঠোর পরিশ্রম করেছি।’

এদিন রাতে ৩-০ ব্যবধানে বায়ার লেভারকুসেনকে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। তার আগে ফেইনুর্ডকে ২-০ গোলে পরাস্ত করেছে ইন্টার মিলান। আর ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয়ে পেয়েছে ১০ জনের দলে পরিনত হওয়া বার্সেলোনা। বেনফিকার বিপক্ষে স্প্যানিস জায়ান্টদের হয়ে জয়সূচক গোল আসে রাফিনিয়ার পা থেকে। বার্সেলোনার হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম লাল কার্ড দেখে ২২তম মিনিটে মাঠ ছাড়েন তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সি।
বাকি সময়ে রক্ষণ সামলে দারুণ এক জয় তুলে নিল বার্সেলোনা। গোলের জন্য ২৬টি শট নেয় বেনফিকা। এর আটটি ছিল লক্ষ্যে, যেগুলো ঠেকিয়ে সফরকারীদের জয়ের নায়ক স্ট্যান্সনি। অন্য দিকে বার্সেলোনার ১০ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। বল দখলে রাখা, গোলের জন্য শট নেওয়া ও লক্ষ্য রাখা- এই তিন সূচকে একই সঙ্গে বার্সেলোনাকে ছাড়িয়ে যাওয়া কোনো দলের জন্যই সহজ নয়। কুবার্সির লাল কার্ড বেনফিকাকে সেই পথ করে দেয়। কিন্তু গোলমুখে ব্যর্থতায় আসল কাজটি করতে পারেনি স্বাগিতকরা।