প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৫ ১১:০৫ এএম
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৫ ১১:২৯ এএম
বেশ কিছুদিন ধরেই বৈশ্বিক আসরগুলোতে মুল প্রতিদ্বন্দিতা ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে। গত বছর ওয়ান ডে বিশ্বকাপ ও এর আগে টেস্ট বিশ্বচ্যাম্পিয়নশীপ ফাইনালে মুখোমুখি হয় এই দুই দল। যদিও দুবারই ভারতকে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করেছে অস্ট্রেলিয়া।
চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অবশ্য ফাইনালে এই দুদলের মুখোমুখি হওয়ার কোন সুযোগ নাই। কেননা সেমিফাইনালেই দেখা হচ্ছে এই দুই জায়ান্টের। আজ মঙ্গলবার দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার মহাদ্বৈরথে নামছে সর্বশেষ ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের এই দুই ফাইনালিস্ট। তাপ ছড়ানো এই ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩ টায়।
চলতি টুর্নামেন্টে ভারতের মুল শক্তি তাদের স্পিনাররা। আর অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে নিচ্ছেন তাদের ব্যাটাররা।‘এ’ গ্রুপে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ উইকেট শিকার করেছেন ভারতীয় স্পিনাররা। লেগ স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী একাই শিকারন ৫ উইকেট। ম্যাচে ২৪৯ রানের মাঝারি মানের পুঁজি নিয়েও ৪৪ রানে জেতে রোহিত শর্মার দল। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের গড়া ৩৫১ রানের সৌধ গুড়িয়ে দিয়ে অজিরা জেতে ৭ উইকেটর বিশাল ব্যবধানে। অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুটো ম্যাচ ভেসে গেছে বৃস্টিতে। তবে সর্বশেষ ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে মাত্র ১২.৫ ওভারে ১০৫ রান সংগ্রহ করে প্রমান রেখেছে নিজেদের ব্যাটিং সামর্থ্যের।
এমনিতেই ভারতীয় ব্যাটিংকে বিবেচনা করা বিশ্ব সেরা হিসাবে। যদিও এই আসরে তাদের ব্যাটারদের সেভাবে কোন পরীক্ষাতেই বসতে হচ্ছে না। প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই বিপক্ষ দলকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছে ভারতীয় স্পিনাররা। কুলদিপ যাদব, অক্ষর প্যাটের , রবীন্দ্র জাদেজারা ত্রাস ছড়াচ্ছেন প্রতিপক্ষ শিবিরে। সর্বশেষ ম্যাচে বরুণের ভেল্কিাবজিতে পথ হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এই টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং অপেক্ষাকৃত সাদামাটা।
সহজ করে বললে, সেরা বোলারদের ছাড়াই ুএই আসরে অংশ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্যাট কামিন্স, হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্কের মত প্রমানীত ম্যাচ উইনার পেসারদের বাইরে রেখেই খেলছে স্টিভ স্মিথের দল। তবে দলটির নাম অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকেটে পেশাদারিত্বের শেষ কথা তারাই। বড় আসরে াজিদের ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা একটা নৈমিত্তিক ব্যাপার। সব কথার এক কথা, ক্রিকেটে সবচেয়ে সমীহ জাগানো নাম অজি জার্সি।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাভিস হেড এই নামটা ভারতের জন্য দু:স্বপ্নের মত। সর্বশেষ দু দুটো ফাইনালে হেডের আগ্রাসনের শিকার হয়ে শিরোপা স্বপ্ন চুর্ণ হয়েছে ভারতের।একই বছরের নভেম্বরে আবারও ভারতকে শিরোপাবঞ্চিত করেন হেড। ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে ৬ উইকেটে হারায় অস্ট্রেলিয়া।
মাত্র ১২০ বলের ইনিংসে ১৩৭ রান করেন হেড। অজিরা ঘরে তোলে নিজেদের ৬ষ্ঠ বিশ্বকাপ। এর আগে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ ফাইনালে ১৪১ বলে ১৪০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন হেড। ভারতকে ২০৯ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতে অজিরা। এই দুই আসরেই ুম্যান অব দ্য ফাইনাল পুরস্কার পান হেড। আজ ফাইনালে ওঠার ম্যাচে ভারতীয় স্পিনারদের অেকেজো কাররা বড় চ্যালেঞ্জ হেডের।
চলতি আসরে দুদলই এখন পর্যন্ত অপরাজিত। ভারত তিনটি ম্যাচ জিতলেও অস্ট্রেলিযার জয় মোটে একটা। বৃস্টি দুটো ম্যাচ ভাসিয়ে না নিলে গ্রপ সেরা হওয়ার সুযোগ ছিল অস্ট্রেলিয়ার। সেক্ষেত্রে তাদের ভারতের সঙ্গে ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল যথেস্টই।এখন ফাইনালের আগেই এই দলের একজনের বিদায়ঘন্টা বাজবে এটাই বাস্তবতা।
এদিকে দুবাইয়ের অতিমাত্রায় শ্লথ উইকেট নিয়ে সমালোচনা করছেন অনেকেই। ভারতকে সুবিধা দেয়ার জন্য এমন উইকেট বানানো হয়েছে এমন কথাও বলছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগ গ্রাহ্যের মধ্যেই নিচ্ছেনা আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ড। সংস্থাটির সিইও সুভান আহমেদ জানান, যে মুহূর্তে আমরা জানতে পেরেছি যে দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ হবে সেই মূহূর্ত থেকে আমরা পিচ তৈরি করেছি। আইসিসির সব নিয়ম মেনেই পিচ প্রস্তুত করা হয়েছে।’ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে নিজেদের স্পিন শক্তি বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়াও। তারা দলভুক্ত করেছে বাঁহাতী স্পিনার কুপার কোনোলিকে ।
দুদলের ওয়ান ডে দ্বৈরথে আধিপথ্য অস্ট্রেলিয়ার। দুদলের ১৫১ দেখায় ভারতের ৫৭ জয়ের বিপরীতে অজিদের জয় ৮৪ ম্যাচে। বাকি ১০ ম্যাচ থেকেছে নিষ্ফলা। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আবার এগিয়ে ভারত। বিপরীতে ভারত জিতেছে দুিই ম্যাচ। একটি ম্যাচে কোন ফল আসেনি।
সময়ের দুই সেরা দরের লড়াইয়ে আজ ভারত – অস্ট্রেলিয়া কে কাকে টেক্কা দেয় এখন তারই রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা।