প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:২৯ পিএম
ইব্রাহিম জাদরান ২১ বর্ষী ব্যাটার মঙ্গলবার ১৪৬ বলে খেলেছেন ১৭৭ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। সংগৃহীত ছবি
রেকর্ড গড়ে, ভেঙেও যায়। কিছু হয় নাতিদীর্ঘ, তাল লয় সুর মিলে গেলে বন্ধুর পথও হয়ে ওঠে যুগের সাক্ষী। বেন ডাকেটের কথাই ধরুন। আফসোসে হয়তো কপাল চাপড়াচ্ছেন ইংলিশ ব্যাটার। আহ্, কী থেকে কী হয়ে গেল! উদযাপনের রেশ না কাটতেই রেকর্ড ভেঙে চুরমার। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দারুণ একটি কীর্তি গড়েছিলেন ডাকেট। অথচ চার দিনও টিকল না তা। টুর্নামেন্টে তার ১৬৫ রানের ব্যক্তিগত ইনিংস পেছনে ফেলেছেন আফগানিস্তানের ইব্রাহিম জাদরান। ২১ বর্ষী ব্যাটার ১৪৬ বলে খেলেছেন ১৭৭ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। যা জাদরানের তো বটে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে একক ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
জাদরানেরর দুর্দান্ত এক ইনিংস এবং শেষাংশে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ রানে জিতেছে আফগানিস্তান। এই ম্যাচের পর আনন্দ দেখে কে কোচ জোনাথন ট্রটের। বড় দলগুলোকে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ইংলিশ কোচ। ম্যাচ শেষে জাদরানও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। আফগানদের কীর্তিতে মুগ্ধ হয়ে তাৎক্ষণিক টুইট করেছেন ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার। স্তুতি ছিল প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক জস বাটলারের কণ্ঠেও। ভারতের দুই সাবেক ক্রিকেটার রবি শাস্ত্রী ও অজয় জাদেজাও প্রশংসা করতে ভোলেননি। পাকিস্তানের সাবেক পেসার শোয়েব আখতারের তো মনে হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়াকেও চ্যালেঞ্জ জানাবে এই আফগানিস্তান।

আফগানিস্তান আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছুই করেনি। কারণ গেল ওয়ানডে বিশ্বকাপেও বেশ চমক দিয়েছে তারা। ইংল্যান্ড-পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো সাবেক বিশ্বজয়ীদের বলে কয়ে হারিয়ে দিয়েছিল রশিদ খানরা। তবে জাদরানের ব্যাপারটা একটু আলাদা। গোড়ালিতে অস্ত্রোপচারের পরে এক বছর মাঠের বাইরে তিনি। গত সেপ্টেম্বরে ছুরি-কাঁচির নিচে গিয়েছিলেন। জাদরান হাসপাতালে শুয়ে রয়েছেন, এমন ছবি ভাইরাল হয়েছিল। দুরন্ত ইনিংস খেলার পর সম্প্রচার মিডিয়াকে এ নিয়ে জাদরান বলেছেন, ‘অস্ত্রোপচারের সাত মাস পরে মাঠে ফেরা সত্যিই কঠিন।’
দীর্ঘসময় মাঠের বাইরে থাকলেও জাদরানের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা ছিল কোচ ট্রটের। ১২ চার ৬ ছক্কা এবং ২২৬ মিনিট মাটি কামড়ে পড়ে থেকে তার অনিন্দ্যসুন্দর ইনিংস যে কারও চোখের শান্তি এনে দেবে। ইংলিশ কোচও বলছেন সে কথা, ‘ইনিংসটি খেলোয়াড় হিসেবে জাদরানের যোগ্যতা দেখিয়ে দিয়েছে। সে দারুণ কিছু শট খেলেছে। তার জন্য আমি সত্যিই আনন্দিত... আশা করি সে এই ফর্ম ধরে রাখতে পারবে। ইনিংসটি তার জন্য স্মরণীয়, অনেক দিন মনে রাখবে। তবে এটাও আশা করি, শুক্রবার যেন এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি করতে পারে।’
জাদরানের প্রশংসার পাশাপাশি ট্রট অবশ্য বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং (গত পরশু রাতে) এখন যা ঘটল, খেলোয়াড়দের বলেছি; আফগানিস্তানকে আর কেউ কখনও হালকাভাবে নেবে না। আগে সবাই আমাদের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে হয়তো ভেবেছেন, ইতিহাস-ঐতিহ্য আছে এমন কোনো টেস্ট দলের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে এটা সহজ। কিন্তু এই সংস্করণ এবং এই কন্ডিশনে, সেটা আমি মনে করি না।’
ট্রটের যুক্তি-বাক্য যে একদমই ভুল নয় সেটা স্পষ্ট হয় আফগানিস্তান নিয়ে সাবেক বিশ্বতারকাদের মূল্যায়ন দেখে। তাৎক্ষণিক এক টুইটে ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি টেন্ডুলকার লিখেছেন, ‘আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক উত্থান অনুপ্রেরণাদায়ক! এখন আর তাদের জয়কে অঘটন বলা যায় না, তারা এটি অভ্যাসে পরিণত করেছে। উত্তরে জাদরান লিখেছেন, ‘যিনি গোটা বিশ্বের প্রজন্মকে ব্যাট হাতে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, তার কাছ থেকে এমন প্রশংসা পাওয়া সত্যিই গর্বের!’

ম্যাচশেষে জাদরান বলেছেন, ‘আমি চেয়েছিলাম দলের জন্য একটা ভালো ক্যাচ নিতে। আমি প্রায় ৫০ ওভার ব্যাটিং করার পরেও দলের জন্য ফিল্ডিং করচে চেয়েছিলাম। যখন শেষ ওভারে রশিদের ক্যাচটা নিলাম, ওহহহ! কি শান্তি! আমরা ম্যাচটা জিতে গেছি। আমাদের পরের ম্যাচ নিয়েও প্ল্যান তৈরি রয়েছে।’
আফগানদের ইতিহাস উপহার দেওয়া ডানহাতি ব্যাটার বলেছেন, ‘এই ম্যাচের আগে আমি রশিদ খানের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। যখন আমি ব্যাটিংয়ের আগে রশিদের সঙ্গে কথা বলি, বড় স্কোর করি।’ কৃতিত্ব দিয়েছেন কোচ ট্রটকেও, ‘তিনি আমাকে বলেছিলেন, তুমি ভালো খেলেছ। যখনই ৪০ হয়ে যাবে, বড় স্কোর করে আসবে। আমি সেটা মাথায় রেখেছি।’
আজ গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। এ ম্যাচে হারলেই বাড়ি ফিরতে হবে জাদরানদের। তবে জায়ান্ট কিলিং করে আফগানরা যে আরও একবার কাবুল থেকে কান্দাহারে উৎসব এনে দিতে প্রস্তুত, তা হলফ করে বলে দেওয়া যায়।