চ্যাম্পিয়নস লিগ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১১:৫৫ এএম
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১২:১০ পিএম
গার্দিওলার কোচিং ক্যারিয়ারে এর আগে কখনও এমন কিছু দেখা যায়নি, সিটিও তার অধীন শেষ ষোলোর আগে কখনও বাদ পড়েনি
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আগত প্রায় ৮০ হাজার দশর্ক তখনও আরাম করে সিটে বসেনি। তার আগেই যা ঘটানোর ঘটিয়ে ফেলেন কিলিয়ান এমবাপে। মাত্র ৪ মিনিটে লস ব্লাঙ্কোসদের লিড উপহার দেন ফরাসি সেনসেশন। মুহূর্তেই সিটিজেনদের ঝলমলে রোদ্দুরে আকাশ ঢেকে যায় নিকষকালো মেঘে। ডাগআউটে দাঁড়ানো পেপ গার্দিওয়ালাও কিংকর্তব্যবিমূঢ়। হয়তো আঃ বাক্য উচ্চারিত হয়েছিল সিটি মাস্টারমাইন্ডের হৃদয়ের গহিনে। সেটি না হোক, মুখ লুকিয়ে, হাত ছুড়ে যেভাবে তিনি নিজেকে উপস্থাপন করলেন, এক অর্থে তার সারমর্ম দাঁড়ায়— আমার যা হারাবার গেছে হারিয়ে।
হারিয়েছেও বইকি। হারার আগে হেরে যাওয়া। রিয়ালের মাঠে জয়কে সপ্তাকাশে দেখা। নিজেদের সম্ভাবনা ১ শতাংশ দেখা গার্দিওয়ালার সিসা ঢালা প্রাচীর একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এমবাপে। ফরাসি অধিনায়কের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো ভালোভাবে নিশ্চিত করেছেন লস ব্লাঙ্কোসরা। গতকাল রাতে রিয়ালের কাছে সিটির হার ছিল ৩-১ গোলে। দুই লেগ মিলিয়ে যা ৬-৩।
এমবাপের জোড়া গোলে প্রথমার্ধে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল রিয়াল। তা দেখে স্পষ্ট হয়ে যায় প্রথম লেগের মতো দ্বিতীয় লেগেও জয় যাচ্ছে রিয়ালের ঘরে। কারণ, বার্নাব্যুতে শুধু যে গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ম্যানসিটি তা-ও নয়। মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি শারীরিকভাবেও পিছিয়ে পড়েছিলেন অতিথিরা।
এদিন ম্যাচঘড়ির ৪ মিনিটে স্বাগতিকদের লিড এনে দেন এমবাপে। রাউল আসেনসিওর বাড়িয়ে দেওয়া বল দারুণভাবে কাজে লাগান ফরাসি সেনসেশন। সুকৌশলে সিটি গোলরক্ষক এদেরসনের মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে দেন তিনি। ৩৩ মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপে। রিয়ালের আক্রমণভাগের চার তারকার প্রত্যেকের স্পর্শ ছিল এ গোলে। তবে চূড়ান্ত স্পর্শটা ছিল এমবাপেরই। জোড়া গোল নিয়েই বিরতিতে যায় রিয়াল।
বিরতির পরও একই ধাঁচের খেলা খেলতে থাকে রিয়াল। রক্ষণভাগ শক্ত রেখে আক্রমণে যায় তারা। যার ফল আসে ৬১ মিনিটে। হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপে। শেষ দিকে নিকো গনজালেস সিটির হয়ে ১টি গোল শোধ করেন। কিন্তু রিয়াল ততক্ষণে সিটির ধরাছোঁয়ার অনেক বাইরে।
তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী গার্দিওলা প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েছেন, বিষয়টি ভীষণ কষ্টের সিটি তথা গার্দিওলা ফ্যানদের জন্য। এমনকি স্প্যানিয়ার্ডের কোচিং ক্যারিয়ারে এর আগে কখনও এমন কিছু দেখা যায়নি, সিটিও গার্দিওলার অধীন শেষ ষোলোর আগে কখনও বাদ পড়েনি। তাইতো তার কণ্ঠে ঝরল হতাশা, ‘কিছুই চিরস্থায়ী নয়। আমরা অবিশ্বাস্য ছিলাম, তবে আজকের (কাল রাতে) ধাপে ধাপে আমাদের উন্নতি করতে হবে। আমাদের অতীত অসাধারণ, কিন্তু এখন আর তেমন নয়।’
এত কিছুর পরও গার্দিওলা মেনে নিলেন প্রতিপক্ষ দলের শ্রেষ্ঠত্ব, ‘নিঃসন্দেহে সেরা দল জিতেছে। এটা তাদেরই প্রাপ্য। আমাদের চেয়ে ভালো ছিল। আমাদের যেটা করতে হবে, সেটা হলো বাস্তবতা মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া।’